• শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২০
গাজী মুনছুর আজিজ    |    
প্রকাশ : ০১ আগস্ট, ২০১৭ ০৯:৫১:৩৬ প্রিন্ট
ভাসমান পেয়ারার হাট
ঝালকাঠির ভিমরুলি গ্রামে তিন খালের মোহনায় বসে ভাসমান পেয়ারার হাট। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর বা বর্ষার শুরু থেকে শরতের মাঝামাঝি পর্যন্ত এ হাটে বেচাকেনার প্রধান পণ্য পেয়ারা। ঘুরে এসে লিখেছেন-

তিন দিক থেকে তিনটি খাল এসে মিসেছে এক মোহনায়। তিন খালের এ মোহনাতে অসংখ্য ছোট ছোট নৌকায় পেয়ারার বেচাকেনা চলছে। এজন্য এ হাট বা বাজার ভাসমান হাট নামে বেশি পরিচিত।

ঝালকাঠি সদর উপজেলা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ভিমরুলি গ্রামে বসে এ হাট। স্থানীয় সাংবাদিক আসিফ সিকদার মানিক ভাইকে নিয়ে ভর দুপুরে ডিঙি নৌকায় চেপে আসি এ হাটে।

মানিক ভাইয়ের বাইকে প্রথমে আসি শতাদশকাঠি খালের পাড়ে। তারপর পেয়ারা চাষী রণজিতের ডিঙি নৌকায় রওনা হই হাটের উদ্দেশে। রণজিত পেয়ারা বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলেন। আমাদের অনুরোধে আবার হাটের দিকে রওনা হন।

আঁকা-বাঁকা সরু খাল দিয়ে চলছি। খালের দুই পাড়ে পেয়ারার অনেক বাগান। এসব বাগানের মাঝ দিয়ে সরু খালের মতো পানির পথ আছে।

এ পথ দিয়ে ছোট নৌকা চলাচল করতে পারে। অর্থাৎ বাগানের গাছগুলো সারি সারি করে কিছুটা উঁচু ঢিবির মতো মাটিতে লাগানো। আর ঢিবির পাশ দিয়ে মাটি কেটে অনেকটা সুরু খালের মতো তৈরি করা।

ফলে সরু খালের মতো এ স্থানে জমে বর্ষার পানি। আবার পেয়ারার মৌসুমও বর্ষাকাল। রণজিত জানান, ছোট এ ডিঙি নৌকা নিয়েই তারা বাগানে প্রবেশ করেন পেয়ারা সংগ্রহ করার জন্য।

প্রায় দেড় কিলোমিটার খাল পাড়ি দিয়ে হাটে এসে দেখি পেয়ারার বেচাকেনা জমজমাট। অসংখ্য ছোট ছোট নৌকা। সব নৌকাতেই সবুজ রঙের পেয়ারা বোঝাই। কিছু পেয়ারা পেকে হলুদ রঙের হয়ে গেছে। মজার বিষয় হল হাটে আসা সব নৌকাই প্রায় একই নকশার ও একই রকম মাপের।

যেন সব নৌকাই একই কারিগর তৈরি করেছেন। পাইকাররা ছোট নৌকা থেকে পেয়ারা কিনে তুলছেন তাদের বড় নৌকায়। অন্যদিকে হাটের আড়তদাররা বসে আছেন খালের পাড়ে তৈরি করা অস্থায়ী মাচায়।

রণজিত বলেন, সারা বছরই এখানে নানা পদের ফলমূল বা শাকসবজির পাইকারির হাট বসে। তবে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর বা বর্ষার শুরু থেকে শরতের মাঝামাঝি পর্যন্ত এ হাটে বেচাকেনার প্রধান পণ্য পেয়ারা।

আর পেয়ারার মৌসুমে বছরের অন্য সময়ের তুলনায় হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম বেশি হয়। হাট বসে প্রতিদিন। শুরু হয় সকালে, শেষ হয় বিকালে।

তিন দিক থেকে যে তিন খাল এসে মিসেছে এ মোহনায় তার একটি এসেছে ঝালকাঠি সদরের দিক থেকে; আরেকটি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি অন্যটি কাউকাখালীর দিক থেকে।

ঝালকাঠির দিক থেকে আসা খালটি প্রথমে বাসণ্ডা খাল, তারপর শতাদশকাঠি খাল হয়ে মিসেছে এ ভিমরুলিতে। এসব খাল ধরেই চাষীরা ডিঙি নৌকায় তাদের পেয়ারা নিয়ে আসেন।

হাটে আসা পেয়ারা চাষী সন্তোষ বলেন, স্থানীয় ভাষায় পেয়ারাকে গৈয়া বলে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ঝালকাঠি সদর, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি ও বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় প্রায় ৩১ হাজার একর জমিতে দেশীয় প্রজাতির পেয়ারা চাষ হয়।

এর প্রায় অর্ধেকের বেশি চাষ হয় ঝালকাঠির ভিমরুল, শতাদশকাঠী, কীর্তিপাশা, মিরাকাঠি, নবগ্রাম, জগদীশপুর, বিয়নকাঠিসহ এর আশপাশের গ্রামে। আমরা সারা বছর পেয়ারা গাছের যতœ নিই, পেয়ারা গাছের চারা রোপণ করি। বর্ষার শুরুতে ফল আসতে শুরু করে। তখন থেকে প্রতিদিন হাটে এনে পেয়ারা বিক্রি করি।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সংরক্ষণের অভাবে অনেক সময় পেয়ারার ভালো ফলন হলেও ন্যায্য দাম পাই না। তার জন্য চাই উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পেয়ারা সংরক্ষণের হিমাগার।

হাটের মহাজন মোহাম্মদ হাসান বলেন, প্রতিদিন এ হাট থেকে ১০০ থেকে ২০০ মণ পেয়ারা কিনি। তারপর এ পেয়ারা চালান করি দেশের বিভিন্ন জেলায়। প্রতিনিই এ হাটে ৫ থেকে ৬ হাজার মণ পেয়ারা বেচাকেনা হয়।

হাটের বিক্রেতারা জানান, ভিমরুলি ছাড়াও পেয়ারার আরেকটি বড় হাট বসে স্বরূপকাঠির আটঘরে। এটিও ভাসমান।

এছাড়া বরিশালের বানারীপাড়াসহ এ অঞ্চলের আরও কয়েকটি স্থানে পেয়ারার হাট বসে। তবে ভিমরুলির হাটই সবচেয়ে বড়। অন্যদিকে স্বরূপকাঠির কুড়িয়ানায় বসে ভাসমান নৌকার হাট। এখানে কেনাবেচা হয় ছোট ছোট নৌকায়।

বেশ কিছুক্ষণ হাটে ঘুরে কথা হয় পেয়ারা চাষী আর বিক্রেতার সঙ্গে। কিছু নৌকা থেকে আমাদের পেয়ারা খেতে দিয়েছেন চাষীরা। সে পেয়ারা খেতে খেতেই ফিরতে শুরু করি। তখন বিকাল।

প্রয়োজনীয় তথ্য : সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা থেকে একাধিক লঞ্চ ছেড়ে যায় ঝালকাঠির উদ্দেশে। লঞ্চঘাটে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া পাওয়া যাবে। সে নৌকায় যাওয়া যাবে হাটে। অথবা গাবতলী থেকে সকালে ও সন্ধ্যার পর এসি/ননএসি বিভিন্ন বাস যায় ঝালকাঠি। থাকার জন্য কালিবাড়ী রোডে আছে ধানসিঁড়ি রেস্টহাউস।

খাওয়ার জন্য আছে দেশী ভোজ রেস্তোরাঁ। এছাড়া থাকা-খাওয়ার আরও কিছু হোটেল-রেস্তোরাঁ পাবেন ঝালকাঠি শহরে।


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত