• মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০
প্রিন্ট সংস্করণ    |    
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট, ২০১৭ ০৯:৩১:৩৭ প্রিন্ট
খুলনা বিভাগে ইকোপার্ক

বিনোদন জীবনকে আনন্দময় করার একটি অনিবার্য উদ্যোগ। বাংলাদেশের ধনী থেকে নিন্মমধ্যবিত্ত মানুষ বেড়াতে ভালোবাসেন। বেড়ানোর চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। শহরের দমবন্ধ করা পরিবেশ থেকে মুক্তি পেতে পরিবার নিয়ে অনেকে দেশে কিংবা বিদেশে বেড়াতে যাচ্ছেন।

ভ্রমণপিপাসুদের ও নগরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি ভূমি রক্ষার জন্য বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০১৬ সালে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলা ও ৫৯টি উপজেলায় ইকোপার্ক স্থাপনের নির্দেশনা দেয়া হয়।

খুলনা বিভাগের কয়েকটি ইকোপার্কের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ

আকাশলীনা ইকোট্যুরিজম সেন্টার

সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে মালঞ্চ নদীর তীরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই ইকোট্যুরিজম সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এখানে থেকে মায়াবী সুন্দরবন, মালঞ্চ নদীতে জোয়ারভাটা, এবং সুন্দরবনের বন্য প্রাণী- হরিণ, বানর, লাল কাঁকড়া সহজেই দেখা যায়। শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ ছিল বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম প্রতাপাদিত্যের রাজধানী। তার বহু স্থাপত্য নিদর্শন এখনও রয়েছে।

তিনি এখানে স্থাপন করেন যশোহর রাজ্য। এই ইকোট্যুরিজম সেন্টারের পর্যটকদের জন্য সুপরিসর হল রুম,পর্যটকদের থাকার জন্য রেস্ট হাউস,রয়েল বেঙ্গল ওয়াচ টাওয়ার ,ফিশিং জোন,ফিশ মিউজিয়াম,পিকনিক স্পট,স্থানীয় কমিউনিটি বাগদী সম্প্রদায়ের সঙ্গীত দল,ট্যুরিজম প্রশিক্ষণ সেন্টার,নৌ ভ্রমণ- সুন্দরবন এলাকায়, মালঞ্চ ও খোলপেটুয়া নদীতে ভ্রমণ সুযোগ রয়েছে।

ডিসি ইকোপার্ক, দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা

পার্কটিতে রয়েছে শিশুদের বিনোদনের জন্য ঘুরন্ত সাইকেল রাইড ও সৌন্দর্য বর্ধনে ঝরনা। এছাড়া পার্কটির উন্নয়নের জন্য নানা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে যেমন- প্রবেশ পথে একটি আধুনিক গেট নির্মাণ; শিশুদের বিনোদনের জন্য একটি ইলেট্রিক ট্রেন, নাগরদোলা স্থাপন; সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, বিভিন্ন রাইডস্ স্থাপন; জীবন্ত প্রাণী নিয়ে চিড়িয়াখানা ও প্রাণীর ম্যুরাল স্থাপন; একাধিক স্টেজ ও গেস্ট হাউস স্থাপন; পার্ক সংলগ্ন বিলে স্পিড বোট ও বিভিন্ন প্রকার নৌকাসহ বিল পাড়ের সৌন্দর্য বর্ধন।

বিপুল জীববৈচিত্র্যের আধার এই পর্যটন কেন্দ্র দেখতে অজস্র পর্যটক আসছে। তাছাড়াও এই পার্কে যাওয়ার পথে কার্পাসডাঙ্গায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত আটচালা ঘরও অনেকে দেখতে আসছেন।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ইকোপার্ক, মহেশপুর, ঝিনাইদহ

মুক্তিযুদ্ধের বীরসেনা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের গ্রামে তারই নামে প্রতিষ্ঠিত এই ইকোপার্কটি ১২.৪৭ একর জায়গার ওপর স্থাপিত। ইংরেজ শোষণের স্মৃতিচিহ্ন ও ইতিহাসের অংশ হিসেবে একটি নীল কুঠিকে কেন্দ্র করেই এই পার্কটি গড়ে উঠেছে। এখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ বৃক্ষ। নীল কুঠি ও ইকোপার্ক সংলগ্ন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতি পাঠাগার ও জাদুঘর দেখতে আসেন দর্শনার্থীরা

জেলা প্রশাসন ইকোপার্ক, ভাটপাড়া, গাংনী, মেহেরপুর

এই ইকোপার্কটি ২৬ একর জমির উপরে নির্মিত হয়েছে যা ইতিমধ্যে জনগণের কাছে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এখানে পুকুর ও লেক খনন, ফুট ব্রিজ স্থাপন, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, ফুলের বাগান সৃজন, শিশুদের জন্য ৩২টি পশুপাখির প্রতিকৃতি স্থাপন, ৪টি গোলঘর নির্মাণ ও শিশুদের জন্য কিডস গ্রাউন্ড করা হয়েছে।

হাটবাড়িয়া ইকোপার্ক, নড়াইল

প্রায় ২৪ একর জমির ওপর নির্মিত নড়াইল সদরে ও চিত্রানদীর পাড় ঘেঁষে এই ইকোপার্কটি এ বছরেই উন্মুক্ত হয়। এ পার্কের বিশেষ আকর্ষণ হল প্রজাপতির বিশাল অবয়ব যা শিশুদের মাঝে প্রজাপতি পার্ক হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে।

শিশুদের জন্য দোলনাসহ বিভিন্ন রাইড আছে। নির্মিত হয়েছে গোলঘর, নদীর ঘাট। স্থাপিত হয়েছে ওয়াশরুম, ও পানি পানের টিউবওয়েল। ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা ও বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের বাড়ি দর্শনের পাশাপাশি এ ইকোপার্কটি পর্যটকদের চিত্ত আকর্ষণ করেছে।

এছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত