মো. আবু তাহের, দাগনভূঞা    |    
প্রকাশ : ২০ মে, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
দাগনভূঞার প্রতাপপুর জমিদার বাড়ি মাদকসেবীদের আখড়া
প্রায় দেড়শ’ বছরের পুরনো দাগনভূঞা উপজেলার প্রতাপপুর জমিদার বাড়ির প্রকৃত মালিকদের অনপুস্থিতিতে দিন দিন ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। সংস্কারহীনতায় এখন ওই বাড়িতে প্রতিদিনই মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। মাঝেমধ্যে কিছু দর্শনার্থী এখানে ঘুরতে এলেও বখাটেদের উৎপাতের কারণে তারা আগ্রহ হারাচ্ছে।
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামে জমিদার বাড়িটির অবস্থান। দাগনভূঞায় কয়েকটি চৌধুরী, ভূঞা এবং জমিদার বংশের মধ্যে প্রতাপপুর জমিদারদের অবস্থান ছিল শীর্ষে। তারা ছিল আশপাশের এলাকার জন্য প্রভাবশালী। ব্রিটিশ আমলে বাড়ির জমিদার রাজকৃঞ্চ সাহা এ বাড়িতে বসেই অত্র এলাকার শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। তিনি এবং তার ৫ ছেলে জমির খাজনাদি আদায় করতেন।
জানা যায়, ১৮৫০ মতান্তরে ১৮৬০ সালে জমিদার রাজকৃঞ্চ সাহা ৮শ’ শতক জায়গায় দৃষ্টিনন্দন করে বাড়িটি নির্মাণ করেন। বাড়িটিতে রয়েছে ১০টি ছোট-বড় দালান। এখানকার ১৩টি পুকুর পুরো বাড়িকে করেছে আকর্ষণীয়। ওই সময়ে বাড়িটি ছিল আশপাশের এলাকার জন্য দর্শনীয়। তৎকালীন অন্যান্য স্থানের জমিদাররা এ বাড়িতে সফরবিরতি করতেন। একপর্যায় জমিদার প্রথার বিলুপ্ত ঘটলে ওই বাড়ির প্রভার প্রতিপত্তি কমতে শুরু করে। জমিদার বাড়ির সদস্যরা দেশ-বিদেশে পাড়ি দিলে বাড়িটি অযত্নে অবহেলা পড়ে থাকে।
১৯৯৬ সাল পর্যন্ত রাজকৃঞ্চ সাহার উত্তরাধিকারীরা এ বাড়িতে অবস্থান করতেন। পরবর্তীতে ওই বাড়িটি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা দখলে নিতে নানাভাবে হেনস্থা করতে থাকেন। এ সময় কয়েকবার বাড়িটিতে বসবাসকারীদের ওপর হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। তবে এ বাড়িটি ঘিরে প্রতি বছর হিন্দু সম্প্রদায় তিন দিনব্যাপী একটি উৎসব পালন করে থাকে। উৎসবটিতে ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটে। কিন্তু মেলা শেষ হলেই ওই বাড়িটি মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়। কখনও কখনও এই বাড়ি দর্শনে এসে যৌন হয়রানির শিকার হয় তরুণীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা শিশির কুমার জানান, দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় এটি ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। এখানে প্রতিদিনই সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে মাদকাসক্ত ও বখাটেদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। দাগনভূঞা থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাড়িটি সংরক্ষণের ব্যাপারে ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম ভূঞা যুগান্তরকে জানান, বাড়িটি এখনও ব্যক্তিমালিকানায় রয়েছে। ফলে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু করা যাচ্ছে না। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মালিকদের কোনো তত্ত্বাবধান না থাকায় এটি স্থানীয়রা দখল করে নিতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত