সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙ্গামাটি    |    
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
পুনর্বাসন না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভিটায় বাস
রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধস

রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ আজও পিছু ছাড়েনি। চলতি বছর ১৩ জুন ভয়াল এ পাহাড় ধসের দুর্যোগ ঘটে। রাঙ্গামাটিতে বছরের সবচেয়ে আলোচনাবহুল এবং মর্মস্পর্শী ঘটনা এটি। দুর্যোগে ৫ সেনা সদস্যসহ জেলায় ১২০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। বিস্তর রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন স্থাপনাসহ ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক, যা গত ৬ মাসেও পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। আজও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ক্ষতিগ্রস্তরা। পুনর্বাসন না হওয়ায় ফের ঝুঁকিপূর্ণ ভিটায় গিয়ে বাস করতে হচ্ছে এসব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে।

প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় শহরসহ জেলার আশপাশ এলাকায় সরকারিভাবে ১৯টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলে জেলা প্রশাসন। ৭ সেপ্টেম্বর আশ্রয় কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেয়ার পর যার যার চেষ্টায় মাথাগোঁজার ঠাঁই নেন আশ্রিতরা। বেশিরভাগ লোকজনের কোথাও যাওয়ার ঠাঁইটুকু ছিল না। কেউ গেছেন নিজেদের আত্মীয়ের আশ্রয়ে, কেউ ভাড়া বাসায় আবার অনেকে গেছেন বিধ্বস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভিটায়। ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তাদের অনেকেই এখনও মানবেতর দিনযাপন করছেন। অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভিটায় গিয়ে নতুন বসতি নির্মাণ বা বিধ্বস্ত বাড়িঘর মেরামত করে বাস করলেও দুর্ভোগ শেষ হয়নি তাদের।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সরকারিভাবে খোলা কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন স্বজন ও বাড়িঘর হারা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ। বিদায়বেলা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রত্যেক পরিবারকে নগদ ৬ হাজার টাকা, ২ বান্ডেল ঢেউ টিন, ৩০ কেজি চাল এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রত্যেক পরিবারকে নগদ ১ হাজার টাকা ও ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। কিন্তু পাহাড় ধসের পরপরই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা ইস্যুতে রাঙ্গামাটির পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে যায়। তা ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত বেশিরভাগ মানুষের নিজস্ব জমি নেই। যাদের ছিল তাদের বেশিরভাগ মানুষের ভিটামাটি বিধ্বস্ত ও বিলীন হয়ে গেছে। ফলে বাস্তব পরিস্থিতির কারণে অনেকে নিজেদের বিধ্বস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভিটায় গিয়ে বাস করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তাদের কিছুই বলার নেই। জেলা প্রশাসক বলেন, যদি সুযোগ হয় এক জায়গায় বাড়িঘর করে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের অবশ্যই পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হবে। এ জন্য জায়গা নির্বাচনের প্রস্তাবও রয়েছে।

এদিকে সরেজমিন দেখা যায়, আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়ার পর শহরের ভেদভেদীর পশ্চিম মুসলিমপাড়া, সনাতন মন্দির এলাকা, যুব উন্নয়ন অফিস সংলগ্ন এলাকা, শিমুলতলী, রেডিও স্টেশনসংলগ্ন এলাকা, রূপনগরসহ বিভিন্ন জায়গায় বিধ্বস্ত ভিটায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর মেরামত বা নতুন বসতি নির্মাণ করে বাস করছেন ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে। তারা বলেন, সরকারের তরফ থেকে আমাদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দেয়া হলেও তা আজ একেবারে ভেস্তে গেছে। যাওয়ার তো আর কোথাও নেই। তাই ঝুঁকিতে হলেও এভাবে বাস করা ছাড়া তো আর কোনো উপায় নেই। আজও দুর্বিষহ বেদনায় মানবেতর জীবন পার করছি আমরা। শহরের রূপনগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়ার পর মাথাগোঁজার ঠাঁইটুকু করে নিয়েছেন পরিত্যক্ত স্থাপনা এবং আশপাশের আত্মীয় বাড়ি ও ভাড়া বাসায়।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত