দেওয়ান মো. সামছুর রহমান    |    
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
সোনারগাঁয়ে চলছে লোকজ উৎসব

বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী লোক কারুশিল্পমেলা ও লোকজ উৎসব-২০১৬। বাংলার লোকশিল্প ও লোকজ ঐতিহ্য বিকাশের এক সমৃদ্ধ জনপদ সোনারগাঁ। গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া কৃষ্টি আর ঐতিহ্যকে ধারণ করতে, লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে প্রাচীন বাংলার রাজধানীখ্যাত সোনারগাঁয়ে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় মাসব্যাপী লোক কারুশিল্পমেলা ও লোকজ উৎসবের। স্বাধীন বাংলার প্রখ্যাত সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ ও বার ভূঁইয়া খ্যাত ঈশাখাঁর রাজধানী সোনারগাঁয়ের ইতিহাস ছিল অনেক বেশি জ্বলজ্বলে। হারিয়ে যাওয়া সোনারগাঁকে পুনর্জাগরিত করতে এবং গ্রামবাংলার লোকজ সংস্কৃতিকে ধারণ ও বাহন করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৭৫ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সোনারগাঁয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন।

ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে গত ১৪ জানুয়ারি-২০১৬ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি-২০১৬ পর্যন্ত মাসব্যাপী এ মেলা ফাউন্ডেশন চত্বরে ‘সোনারতরী’ লোকজমঞ্চে উদ্বোধন করা হয়। শান্তস্নিগ্ধ, গ্রামবাংলার প্রকৃত রূপকে উপলব্ধি করতে, বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃতির অনেক কিছু দেখতে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর আধুনিকতার মিশেলে এ মেলায় কিছুক্ষণের জন্য ঘুরে যেতে পারেন। এ মেলায় ১৭২টি চারু ও কারু পণ্যের স্টল রয়েছে। পল্লী অঞ্চলের ৪৮ জন কারুশিল্পী এ মেলাতে অংশ নিচ্ছেন। তাদের জন্য ২৪টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মেলায় গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম মাধ্যম নকশিকাঁথা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সোনারগাঁসহ সারা দেশের ১২ জন নকশিকাঁথা শিল্পী এতে অংশ নিচ্ছেন। এ মেলায় রয়েছে কারুপণ্য উৎপাদন প্রদর্শনীর ২২টি স্টল, হস্তশিল্পের ৪২টি, পোশাক ৪১টি, স্টেশনারি ও কসমেটিকস ৩৫টি, খাবার ও চটপটির স্টল ১০টি, মিষ্টির স্টল ১৮টি।

ফাউন্ডেশনের ‘সোনারতরী’ লোকজমঞ্চে প্রতিদিন জারি, সারি, বাউল গান, কবি গান, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, মাইজভাণ্ডারি, লালন, হাছনরাজা, মুর্শিদী, পালাগানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। স্থানীয় স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে গ্রামীণ খেলাধুলা, বিবাহের কনে দেখা, নববধূর গায়ে হলুদ, বরযাত্রা, জামাইকে পিঠা খাওয়ানো, গ্রাম্য সালিশি ব্যবস্থাসহ গ্রামবাংলার হাজার বছরের জীবনযাত্রা নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রয়েছে পুঁথি পাঠ, ছড়া পাঠের আসর, লোকজ গল্প বলা, ঘুড়ি উড়ানো, পিঠা প্রদর্শনী। এছাড়া মেলায় রয়েছে পুতুল নাচ দেখার ব্যবস্থা।

দেশের বিভিন্ন স্থানের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের সমারোহ দেখতে পাওয়া যায় এ মেলায়। রাজশাহীর শখের হাঁড়ি, মুন্সীগঞ্জের শীতলপাটি, মানিকগঞ্জের পিতলের শিল্প, রংপুরের শতরঞ্জি, সোনারগাঁয়ের কাঠের শিল্প, হাতপাখা, নকশিকাঁথা প্রভৃতি।

প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ফাউন্ডেশনের চত্বর খোলা থাকে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য। এছাড়া সুযোগ রয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর পরিদর্শনের। বুধ ও বৃহস্পতিবার জাদুঘর সাপ্তাহিক বন্ধ থাকলেও মেলা চত্বর খোলা রয়েছে প্রতিদিনই।




 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত