প্রকাশ : ০৯ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
যত্নে থাকুক সোনামণি
ঘর আলো করে নতুন শিশু এলে পরিবারের সদস্যদের আনন্দের শেষ থাকে না। আনন্দের পাশাপাশি এ সময়টাতে শিশুর যত্নের বিষয়েও খুব বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে জন্মের পর থেকে এক বছর পর্যন্ত শিশুর জন্য চাই একটু বেশি যত্ন। কারণ এ সময়ের যত্নের ওপরই অনেকটা নির্ভর করে শিশুর পরবর্তী সুস্থতা। এ সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আকতারুজ্জামান। লিখেছেন- আফরোজা আক্তার

মায়ের বুকের দুধ

জন্মের পর থেকে অন্তত ছয় মাস শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। কারণ মায়ের বুকের দুধ শিশুকে সংক্রামক ব্যাধির আক্রমণ থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ঘটায় পরিপূর্ণভাবে। মায়ের দুধের খাদ্য উপাদানে বিশেষ ফ্যাটি এসিড আছে, যা শিশুর বুদ্ধি ও চোখের জ্যোতি বাড়ায়। এছাড়াও শালদুধে রয়েছে উচ্চমাত্রার আমিষ, স্নেহ ও শর্করা, যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

বাড়তি খাবার

শিশুর বয়স ছয় মাস হলে ধীরে ধীরে বুকের দুধের পাশাপাশি সুজি, সবজি খিচুড়ি, ডিমের কুসুম প্রভৃতি খাওয়ানো শুরু করতে হবে। তবে সব ধরনের খাবার একই সঙ্গে শুরু করা উচিত নয়। প্রতিটি নতুন খাবার শুরুর মাঝে অন্তত এক সপ্তাহ সময় রাখা উচিত। কারণ একটি নতুন খাবার হজম করতে শিশুর অন্তত এক সপ্তাহ সময় লেগে যায়। শুরুতে খুবই অল্প পরিমাণে খাওয়াতে হবে। ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়াতে হবে। খাবার হবে পেস্টের মতো নরম। কোনো অবস্থাতেই বোতল বা ফিডারে খাওয়ানো উচিত নয়।

সময়মতো টিকা দিন

শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরই কোন সপ্তাহে কি কি টিকা দিতে হবে তা চিকিৎসক কিংবা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে ভালোভাবে জেনে-বুঝে নিন। পরে টিকাগুলো সময়মতো দেয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

নিয়মিত গোসল

নাভি না শুকানো পর্যন্ত শিশুকে গা মুছিয়ে এবং শুধু মাথা ধুয়ে দিন। নাভি শুকানোর পর থেকে হালকা গরম পানিতে নিয়মিত গোসল করিয়ে দিন। সপ্তাহে ২-১ দিন বেবি শ্যাম্পু দিন। শিশুর জন্মের পর এক থেকে দেড় বছর পর্যন্ত মাথার চুল ঘনঘন কামানো উচিত নয়।

প্রসাধন

অনেকেই গরমে নবজাতককে প্রচুর পরিমাণে পাউডার, তেল দিয়ে থাকেন যা শিশুর ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত পাউডার ব্যবহারে শিশুর ত্বকের লোমকূপগুলো বন্ধ হয়ে ঘামাচি ও ন্যাপি র‌্যাশ দেখা দিতে পারে।

নিজে পরিষ্কার থাকুন

খুব ছোট শিশুর ত্বক অনেক বেশি স্পর্শকাতর থাকে, ফলে সহজেই জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়। তাই শিশুকে কোলে নেয়ার আগে, খাওয়ানো আগে হাত ভালো করে ধুয়ে নিন।

বর্ষা-বাদলে

বৃষ্টির আগে হঠাৎ গরমে শিশু ঘেমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ঘাম মুছে দিন। তা না হলে ঘাম বুকে বসে ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। বর্ষায় কাপড়-চোপড়, বিছানা স্যাঁতসেঁতে হয়ে থাকে। স্যাঁতসেঁতে কাপড় ব্যবহার করলে শিশু আক্রান্ত হতে পারে ফাংগাশ, চুলকানিসহ ত্বকের নানা সমস্যায়। তাই এ সময় শিশুর ব্যবহৃত পোশাক, কাঁথা অবশ্যই ভালোভাবে শুকাতে হবে। রোদে শুকানো সম্ভব না হলে চুলার ওপর কিংবা ফ্যানের বাতাসেও শুকাতে পারেন। এ সময় ছোঁয়াচে রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই পরিবারের অন্য কেউ ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হলে শিশুকে তার থেকে দূরে রাখুন। ডেঙ্গুজরের হাত থেকে রক্ষা করতে শিশু দিনের বেলায় ঘুমানোর সময়ও মশারি টানিয়ে দিন।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত