• মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
মো. মাহবুব আলম    |    
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
এই নগরে
ঘুরে আসি জাতীয় বৃক্ষমেলা

‘জীবিকার জন্য গাছ, জীবনের জন্য গাছ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গত ৩১ জুলাই রাজধানী ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র সংলগ্ন বাণিজ্যমেলা মাঠে বন অধিদফতরের উদ্যোগে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী বৃক্ষমেলা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০১৬-এর শুভ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এ মেলা শুরু হয়েছে। এবারের মেলায় সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বসানো হয়েছে মোট ৯০টি স্টল। এ ছাড়া রয়েছে হস্তশিল্পের দেশীয় নানা পণ্যের প্রদর্শনী। বিভিন্ন গাছের পাশাপাশি চারা উৎপাদন ও পরিচর্যার উপকরণ, সার ও কীটনাশকেরও স্টল রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে শুরু করে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ সবার জন্য খোলা থাকে।

মেলায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি সম্প্র্রসারণ অধিদফতর, ন্যাশনাল হারবেরিয়াম, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর, কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, বাংলাদেশ বন গবেষণা ইন্সটিটিউট ইত্যাদি। অপরদিকে বেসরকারি ও ব্যক্তি মালিকানা নার্সারির মধ্যে রয়েছে আনন্দ, দ্বীপ গার্ডেন, বরিশাল, মাহুয়া, গ্রিন ল্যান্ড, উত্তরা ভাই ভাই, বগুড়া, মেসার্স পল্লী, কিশোরগঞ্জ, জায়েন্ট এগ্রো প্রসেসিং লিমিটেড ইত্যাদি নার্সারি।

মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. সোহেল রানা জানান, প্রথম দিকে ক্রেতাদের কম সমাগম হলেও এখন মোটামুটি সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ধীর ধীরে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজারের মতো চারা বিক্রি হয়েছে।

মেলার প্রধান গেট দিয়ে ঢুকলেই মনে হয়, প্রকৃতির এক অন্য জগৎ। চারদিকে সবুজের সমাহার। সবুজ পাতার আড়ালে থেকেই দর্শনার্থীদের চোখ কেড়ে নিচ্ছে নানা ধরনের ফল ও ফুল। ছোট ছোট গাছে বড় বড় ফল দেখলেই দর্শনার্থীরা ছুটে যাচ্ছেন ওইসব গাছের কাছে।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, বৃক্ষপ্রেমিকেরা মনের চাহিদা মেটাতে এবং নতুন নতুন গাছের সঙ্গে পরিচয় হতে প্রতিদিনই আসছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। অনেকেই আসছেন বন্ধু-বান্ধব নিয়ে অথবা সপরিবারে। ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক গাছ থেকে অন্য গাছের কাছে। ছুটে যাচ্ছেন অচেনা-অজানা সব বৃক্ষের সন্ধানে। পরিচিত করছেন নিজেকে। মেলায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে বনসাঁই দিয়ে তৈরি বাংলাদেশের মানচিত্র, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশের প্রথম সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তির ছবি।

ফলদ গাছ : আম, জাম লিচু, কাঁঠাল, আনারস, জামরুল, কদবেল, আমলকী, লটকন, পেয়ারা, আতা, শরীফা, আমড়া, বেল, লেবু প্রভৃতি দেশী ফলসহ বিদেশী ট্যাং, আপেল, আঙ্গুর, কমলা, আম, জামরুল ইত্যাদি প্রকারের ফলদ গাছ পাওয়া যাবে।

ফুলের গাছ : দেশী গোলাপ, শিউলী, রজনীগন্ধা, গাঁদা, জুঁই, হাসনাহেনা, চাঁপা, মালতি, টগর, বেলী প্রভৃতি গাছসহ বিদেশী বিভিন্ন জাতের গোলাপ, গ্ল্যাডিউলাস, চায়না লিলি, মরু ক্যাকটাস, বনসাঁইসহ বিভিন্ন প্রকার ফুলের গাছ রয়েছে।

বনজ গাছ : বনজ গাছের মধ্যে শাল, সেগুন, মেহগনী, কড়ই, গর্জন, শিমুল, গজারী প্রভৃতি গাছ।

ঔষধি ও মশল্লা জাতীয় গাছ : আদা, এলাচ, দারুচিনি, লং, গোলমরিচ বিভিন্ন জাতের মরিচসহ অনেক ঔষধি ও মশল্লা জাতীয় গাছের সমাবেশ রয়েছে।

এবারের মেলায় ফুল ও ঘর সাজানো গাছের চাহিদা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। মেলায় ঢুকতেই চোখে পড়বে কাঁশবনের বিশাল স্টল। ফলদ, ফুল এবং ভেষজ উদ্ভিদের সম্ভার দিয়ে স্টল সাজিয়েছে তারা। নানা জাতের গোলাপ, পদ্ম, বেলি- এমন আরও অনেক ফুল গাছের সংগ্রহ রয়েছে তাদের। আছে দেশীয় সব ধরনের ফলদ গাছের চারা। এ ছাড়া তমাল, বাঁশ, ধূপ, ত্রিশূল, বৈলমসহ এমন অনেক বিরল প্রজাতির গাছ। এখানে ৫০ টাকা থেকে ১০,০০০ টাকা দামের চারা পাওয়া যাবে।

একটু ভিতরে ঢুকতে চোখে পড়বে ব্র্যাক নার্সারি। এ নার্সারির কর্তব্যরত মো. কবির হোসোন জানান, পাঁচশোরও বেশি প্রজাতির গাছ নিয়ে স্টল সাজানো হয়েছে। ফুলের গাছের দাম পড়বে ১০০-১,৫০০ টাকা। এর মধ্যে রঙ্গন কনকচাঁপা, মধুমালতি ফুলের গাছ সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় এই স্টলে। ফলের গাছের মধ্যে জাম্বুরা, আম, পেয়ারা, মাল্টা বেশি বিক্রি হচ্ছে। ফলের গাছের দাম ১০০-১,০০০ টাকা। ঘর সাজানোর জন্য ঝুলন্ত লতানো গাছগুলোর দাম পড়বে ২০০-১২৫০ টাকা। ফুলসহ ক্যাকটাসের দাম পড়বে ২৫০-১২৫০ টাকা, আর ফুল ছাড়া ক্যাকটাস কিনতে চাইলে খরচ করতে হবে ১০০-১২০০ টাকা। মশলা জাতীয় গাছের দাম পড়বে ১৪০-৫০০ টাকা। বিভিন্ন ধরনের ঔষধি গাছের চারার দাম পড়বে ২৫০-৭৫০০ টাকা।

একটু সামনে গেলেই দেখা মিলবে স্কয়ারের স্টল। মো. জাহিদুল হক নামে সেখানকার বিক্রেতা জানান, তাদের কাছে প্রায় ৫০ ধরনের বিদেশী ও বিরল প্রজাতির এবং এক হাজার জাতের উদ্ভিদ রয়েছে। এখানে ৩০ টাকা থেকে ৭,০০০ টাকা দামে বিভিন্ন চারা বিক্রি হচ্ছে।

সৌদি খেজুর নার্সারিতে পাওয়া যাবে ৪ থেকে ৫ প্রজাতির খেজুরের চারা। খেজুরের চারা কিনতে খরচ করতে হবে ৪০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা।

প্রায় সব স্টলে পাওয়া যাবে আম্রপালীর চারা। প্রতিটি আম্রপালীর চারা বিক্রি হচ্ছে ২০০-১২০০ টাকায়, হাঁড়িভাঙ্গা ১৫০ টাকা, থাই কাঁচামিঠা ২৫০ টাকা, গোপালভোগ ১৫০ টাকা। তবে ফলসহ আম গাছের দাম সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা। পেয়ারার মধ্যে রয়েছে- মাধুরী পেয়ারার চারা ১৫০ টাকা, থাই পেয়ারা ২০০ টাকা। তাছাড়া কাজী পেয়ারা সৈয়দা পেয়ারার সংস্করণে উৎপাদিত বীজহীন পেয়ারা চারা পাওয়া যাবে ৩০০ টাকায়। ইতালিয়ান অলিট ৬৫ হাজার টাকা, মহাচুনন ৭২ হাজার টাকা, পার্সিমন ৫০ হাজার টাকা, রামভুটল ৫০ হাজার টাকা ইত্যাদি। মেলায় ৩০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ঔষধি বৃক্ষ, ২৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির শোভাবর্ধক গাছ, ৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ গাছ, ১ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছ, ২ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের বনসাঁই ও ১০০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অর্কিড পাওয়া যাচ্ছে। বিদেশী গাছ ও চারার দাম একটু বেশি। মেলায় ১০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের বিদেশী গাছ পাওয়া যাচ্ছে। তবে যারা বেশি করে চারা কিনতে চান, তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। মেলায় গিয়ে তারা ফরমাশ দিলে নার্সারি থেকে চারা সরবরাহ করা হয়।

গাছ লাগানো আমাদের প্রত্যেক নাগরিকেরই দায়িত্ব। জুন, জুলাই, আগস্ট- এই তিন মাস গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। সুতরাং আমরা প্রত্যেকেই বাড়ির আশপাশে অন্তত একটি গাছ লাগাতে চেষ্টা করব।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত