প্রকাশ : ০৯ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
ভিন্ন স্বাদে কচু
সব রকমের কচু এবং কচু সবজির খাদ্য ও পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। বিশেষ করে প্রচুর পরিমাণে আয়রনের উপস্থিতি রক্তশূন্যতা রোধের সহায়ক। সেই কচু দিয়ে ভিন্ন স্বাদের কয়েকটি রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী জিন্নাত রায়হান সুমি আলোকচিত্রী মুনির আহমেদ

ডিম-কচুর কোর্মা

যা লাগবে : আধা ইঞ্চি পুরু কচুর স্লাইস দশটি, সিদ্ধ ডিম চারটি, আদা বাটা দুই চা চামচ, রসুন বাটা এক চা চামচ, পেঁয়াজ বাটা এক টেবিল চামচ, বেরেস্তা বাটা আধা টেবিল চামচ, পোস্ত বাটা আধা টেবিল চামচ, কাজু বাদাম বাটা আধা টেবিল চামচ, আস্ত এলাচ চার-পাঁচটি, দারুচিনি দুই টুকরা, লবঙ্গ দুই-তিনটি, আস্ত তেজপাতা দুইটি, গোলমরিচ সাত-আটটি, কাঁচামরিচ চার-পাঁচটি, মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ, কিশমিশ আধা টেবিল চামচ, কাঠবাদাম-পেস্তাবাদাম কুচি আধা টেবিল চামচ, দুধ ৩০০ মি.লি, টকদই আধা টেবিল চামচ, ঘি কোয়ার্টার কাপ, কেওড়া জল এক চা চামচ, তেল কোয়ার্টার কাপ, লবণ স্বাদমতো, লেবুর রস এক চা চামচ, চিনি এক চা চামচ (স্বাদমতো)।

যেভাবে করবেন : কচুর স্লাইস ধুয়ে কাটা চামচ দিয়ে কেটে নিন। এবার ফ্রাইপ্যানে এক টেবিল চামচ তেল ও এক টেবিল চামচ ঘি দিয়ে কচুর টুকরাগুলো ভেজে নিন। ভাজার সময় কচু যেন রং ধরে না যায়। ডিমও হালকাভাবে ভেজে নিন। চুলায় কড়াই বসিয়ে অবশিষ্ট তেল ও ঘি দিয়ে আস্ত গরম মশলা ফোড়ন দিন। গরম হলে এতে সব বাটা (পোস্ত, কাজু, বেরেস্তা ছাড়া) মশলা ও মরিচ গুঁড়া এবং সামান্য পানি দিয়ে কষিয়ে লবণ দিন।

কষানো মশলায় ভাজা ডিম ও কচু দিয়ে নেড়ে কোয়ার্টার কাপ দুধ রেখে অবশিষ্ট দুধ দিন। ঢেকে রান্না করুন। কচু সিদ্ধ হয়ে মাখামাখা ঝোল থাকা অবস্থায় আগে থেকে রেখে দেয়া দুধে বেরেস্তা, পোস্ত ও কাজু বাদাম বাটা দিন। নেড়ে টকদইও দিন। ফুটে উঠলে লেবুর রস, চিনি, কেওড়া জল দিয়ে ঢেকে দমে রাখুন ২০ মিনিট। গরম গরম পরিবেশন করুন।



কচুরমুখী ঝিংগা ডালের তরকারি

যা লাগবে : কচুরমুখী টুকরা এক কাপ, ঝিংগা টুকরা দুই কাপ, মুগডাল আধা কাপ, হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ, মরিচ গুঁড়া এক চা চামচ (রুচি অনুযায়ী), ধনে গুঁড়া এক চা চামচ, জিরা গুঁড়া বাটা আধা চা চামচ, আদা বাটা এক টেবিল চামচ, রসুন বাটা এক চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, তেল দুই টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি দুই টেবিল চামচ, কাঁচামরিচ চার-পাঁচটি।

ফোড়নের জন্য : পেঁয়াজ কুচি দুই টেবিল চামচ, আস্ত জিরা আধা চা চামচ, রসুন কুচি এক চা চামচ, শুকনা মরিচ ২টি, তেজপাতা ২টি, তেল তিন টেবিল চামচ।

যেভাবে করবেন : ডাল ভেজে ধুয়ে দুই ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। মুখী কেটে ধুয়ে সামান্য তেলে হালকাভাবে ভেজে নিন। বেশি ভাজতে হবে না। কড়াইতে দুই টেবিল চামচ তেল পেঁয়াজ কুচি দিন। পেঁয়াজ নরম হলে সব বাটা ও গুঁড়া মশলা আধা কাপ পানিতে গুলে দিন। লবণ দিন। এবার ডাল, ঝিংগাও ভাজা মুখী আধা কাপ পানি দিয়ে কষিয়ে নিন। ভালোমতো কষানো হলে দুই কাপ গরম পানি দিন। সব সিদ্ধ হয়ে গেলে কাঁচামরিচ দিয়ে নেড়ে নামিয়ে নিন। অন্য একটি কড়াইতে তিন টেবিল চামচ তেল দিয়ে তেজপাতা, জিরা ও শুকনা মরিচ দিন। জিরা ফুটতে শুরু করলে পেঁয়াজ ও রসুন কুচি দিন। ব্রাউন করে ভাজা হলে রান্না করা মুখী এতে ঢেলে নেড়ে নামিয়ে নিন। গরম গরম পরিবেশন করুন ভাতের সঙ্গে। রুটি দিয়ে খেতেও ভালোলাগে।



কচু রিং ফ্রাই

যা লাগবে : এক ইঞ্চি পুরু করে কাটা কচুর স্লাইস ১০টি, আদা বাটা দুই চা চামচ, রসুন বাটা দুই চা চামচ, মরিচ গুঁড়া এক চা চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ, জিরা গুঁড়া এক চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, চালের গুঁড়া (শুকনা) এক টেবিল চামচ, তেল আধা কাপ, পানি দুই টেবিল চামচ, টুথপিক ২০টা (দুই ভাগ করা)।

যেভাবে করবেন : ১. নারকেলি কচু খোসা ফেলে এক ইঞ্চি পুরু স্লাইস করে ধুয়ে নিন।

২. এবার গোল স্লাইসের একধার থেকে পাতলা ফিতার মতো করে কাটুন একদম ভেতরের শেষ অংশ পর্যন্ত। সাবধানে কাটতে হবে যেন আলগা না হয়ে যায়।

৩. এবার কাটা কচুটাকে পেঁচিয়ে আবার গোল করে ফেলুন এবং চারদিকে টুথপিক দিয়ে আটকে দিন।

৪. চালের গুঁড়া লবণসহ সব মশলা দুই টেবিল চামচ পানি দিয়ে গুলে কচুর স্লাইসগুলোতে মেখে ম্যারিনেট করুন ১৫-২০ মিনিট।

৫. ফ্রাইপ্যানে তেল দিয়ে গরম হলে কচুর স্লাইস দিয়ে ঢেকে আঁচ কমিয়ে দিন। এক পিঠ হলে আরেক পিঠ উল্টে দিন। দুই পিঠ হালকা ব্রাউন ও সিদ্ধ হলে নামিয়ে নিন।

৬. গরম গরম পরিবেশন করুন ভাত বা রুটির সঙ্গে।



কচু-চিংড়ির কাবাব

যা লাগবে : সেদ্ধ করা কচু বাটা এক কাপ, চিংড়ি কিমা আধা কাপ, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, কাঁচামরিচ কুচি আধা টেবিল চামচ, ধনেপাতা কুচি চার টেবিল চামচ, আদা বাটা এক চা চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া কোয়ার্টার চা চামচ, রসুন বাটা এক চা চামচ, মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ, জিরা গুঁড়া আধা চা চামচ, গরম মশলা গুঁড়া আধা চা চামচ, কাবাব মশলা গুঁড়া আধা চা চামচ, কর্নফ্লাওয়ার তিন টেবিল চামচ, ফেটানো ডিম অর্ধেকটা, ডিম দুইটা, লবণ স্বাদমতো, ব্রেডক্রাম ১ কাপ, ভাজার জন্য তেল পরিমাণ মতো।

যেভাবে করবেন : ১. দুইটি ডিম, ব্রেডক্রাম এবং তেল ছাড়া সব উপকরণ ভালো করে মেখে ঢেকে রাখুন ২০ মিনিট।

২. এবার ইচ্ছা মতো শেপের কাবাব বানিয়ে নিন। দুইটি ডিম ফেটে কাবাবগুলো এতে ডুবিয়ে ব্রেডক্রামে গড়িয়ে ২০ মিনিট ফ্রিজে রেখে দিন।

৩. ফ্রিজ থেকে বের করে ডুবো তেলে গোল্ডেন ব্রাউন করে ভেজে নিন।



কচুরলতি চিংড়ি

যা লাগবে : কচুরলতি ৫০০ গ্রাম, চিংড়ি মাছ ৩৫০ গ্রাম (খোসা ফেলা), হলুদ গুঁড়া এক চা চামচ, আদা বাটা এক চা চামচ, মরিচ গুঁড়া এক চা চামচ, রসুন বাটা এক চা চামচ, ধনে গুঁড়া এক চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, ধনেপাতা কুচি তিন টেবিল চামচ, কাঁচামরিচ ফালি তিন-চারটি, লবণ স্বাদমতো, তেল ১/৩ কাপ।

যেভাবে করবেন : ১. কচুরলতি কেটে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। মাছও খোসা ফেলে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। মাছের পানি ঝরিয়ে ফেলুন।

২. সব বাটা ও গুঁড়া মশলা আধা কাপ পানিতে গুলে রেখে দিন।

৩. ফ্রাইপ্যানে তেল দিয়ে গরম হলে পেঁয়াজ কুচি দিন। পেঁয়াজ নরম ও চকচকে হলে পানিতে গুলানো মশলা দিয়ে কষিয়ে মাছ দিন। লবণ দিন।

৪. মাছ কষানো হলে কচুরলতি দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে ঢেকে দিন। এভাবে পাঁচ মিনিট রান্না করুন।

৫. এরপর ঢাকনা খুলে নেড়ে মিডিয়াম আঁচে রান্না করুন মশলা মাখামাখা ও সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত।

৬. ধনেপাতা ও কাঁচামরিচ ফালি দিয়ে নেড়ে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন গরম ভাতের সঙ্গে।



কচুপাতার ভর্তা

যা লাগবে : ডাটাসহ কচুপাতা চার আঁটি, রসুন কুচি দুই টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি দুই টেবিল চামচ, কাঁচামরিচ সাত/আটটি (রুচি অনুযায়ী), লবণ স্বাদমতো, লেবুর রস দুই চা চামচ, শর্ষের তেল এক টেবিল চামচ, পানি আধা কাপ।

যেভাবে করবেন : ১. ডাটাসহ পাতা ধুয়ে কুচি করে কেটে আধা কাপ পানি দিয়ে ঢেকে চুলায় দিন।

২. কচু থেকে পানি বের হলে ঢাকনা সরিয়ে দিন। কচুপাতা সিদ্ধ ও মাখামাখা হলে পেঁয়াজ-রসুন কুচি ও কাঁচামরিচ ভেঙে দিন। পানি শুকিয়ে এলে লবণ দিন।

৩. এবার শর্ষের তেল ও লেবুর রস দিয়ে চুলায় রেখেই একটা হাতা দিয়ে নেড়ে নেড়ে খুব মসৃণ করে মিশিয়ে নিন। আঠালো হলে নামিয়ে পরিবেশন করুন গরম ভাতের সঙ্গে। প্রক্রিয়াটি দ্রুত সারতে হবে। না হয় কচুপাতার সবুজ রং নষ্ট হয়ে যাবে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত