গাজী মুনছুর আজিজ    |    
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
মুখর নগরী মিসফালা
প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে অনেকে হজ করতে সৌদি আরব যান। হজের পাশাপাশি মক্কা ও মদিনার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন। লিখেছেন-

হলুদ রঙের দোতলা বাড়ি। বাড়ির জানালাগুলো কাঠের তৈরি। বর্তমানে এটি মক্কা লাইব্রেরি। কাবা শরিফের পাশে সাফা-মারওয়া পাহাড়ের সায়ীর স্থান থেকে পূর্ব দিকে এর অবস্থান। অনেকে মনে করেন এ বাড়ির স্থানটিতে জন্মেছেন রাসূল (সা.)। যদিও এর কোনো সঠিক দলিল নেই। তবুও হজ করতে আসা মানুষ এ বাড়িকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। আমরাও কিছুটা সময় দাঁড়াই এ বাড়ি বা মক্কা লাইব্রেরির সামনে। সৌদি সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয় এ লাইব্রেরি তত্ত্বাবধায়ন করছে। এখানে অনেক মূল্যবান বই, পাণ্ডলিপি ও ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। লাইব্রেরির প্রসপেক্টস থেকে জানা যায়, ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে শায়খ আব্বাস কাত্তান বাড়িটি নির্মাণ করেন।

লাইব্রেরির কিছুটা দূরে গাজ্জা সেবা আমির বাসস্ট্যান্ড। এখান থেকে আয়েশা মসজিদে যাওয়ার জন্য মাইক্রোবাসে উঠি। আসা-যাওয়ার ভাড়া দশ রিয়াল।

দুইদিন আগে মক্কা এলেও মক্কার বাইরে এটাই প্রথম বের হওয়া। গাজ্জা সেবা আমির এলাকা পার হয়ে গাড়ি যখন পাহাড়ের এক সুড়ঙ্গ পথে প্রবেশ করল, মনে হল কোনো গুহায় প্রবেশ করছি। পাহাড়ের ভেতর দিয়ে পাথর কেটে তৈরি এ পথ অনেকটা গুহার মতোই। কয়েক মিনিটে পার হই গুহার এ পথ। তারপর প্রায় ৩০ মিনিটের মাথায় পৌঁছি আয়েশা মসজিদে।

মক্কায় অবস্থান করে যারা ওমরা হজ করেন, তারা সাধারণত আয়েশা মসজিদ থেকেই নিয়ত করেন। মসজিদটি বেশ বড় এবং দৃষ্টিনন্দন। এখানে নামাজ পড়ে আবার গাড়িতে উঠি। সন্ধ্যার আগে আসি গাজ্জা সেবা আমির। তারপর যথারীতি শেষ করি ওমরার করণীয় কাজ।

মিসফালা ব্রিজের পাশে দারুসসালাম এলাকায় ঢাকা হোটেল। হোটেলটি বাংলাদেশীদের। এখানকার খাবারও বাংলাদেশী। ভাত, মাছ, মাংস, সবজি, রুটি, মিষ্টি সবই বাংলাদেশী। তাই খাওয়া নিয়ে খুব একটা ঝামেলা হয়নি। এ হোটেল থেকেই খাবার কিনে খাই প্রতিদিন।

সকাল, দুপুর বা রাতে খাবাব আনতে আসা-যাওয়ার সময় প্রায় প্রতিদিনই দেখি মিসফালা ব্রিজের নিচে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে খাবার বিতরণের দৃশ্য। মূলত হাজীদের সম্মানেই খাবার বিতরণ করা হয়।

মসজিদে হারাম শরিফে একটি লাইব্রেরি আছে। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। কাবা শরিফ বা মসজিদে হারাম শরিফ এলে মাঝেমধ্যে এ লাইব্রেরিতে বসি। নানা বইয়ে সাজানো লাইব্রেরিটি বেশ সমৃদ্ধ। সেইসঙ্গে প্রযুক্তিবান্ধবও। অর্থাৎ ডিজিটাল পদ্ধতিতেও পড়ার সুযোগ আছে।

জহরত আল মিসফালা-২ হোটেলের পাশেই আছে ছোট্ট মাঠের মতো খোলা জায়গা। সে জায়গায় দিনের বেলা প্রায় সব সময় অসংখ্য কবুতর থাকে। কাবা শরিফে আসা-যাওয়া করা হাজীরা এ কবুতরগুলোকে গম বা খাবার কিনে ছিটিয়ে দেন। আবার দেখি কিছু মানুষ এখান থেকে কবুতরকে দেয়া উচ্ছিষ্ট গম কুড়িয়ে নিচ্ছেন। হয়তো তারা ভাবছেন পবিত্র জায়গার কবুতরের উচ্ছিষ্ট খাবারও পবিত্র। আসলে এটা নিতান্তই তাদের মনের ব্যাপার।

মক্কা শহরটা ঘুরলে দিন-রাত সমান মনে হয়। কারণ কাবা শরিফ তাওয়াফ বা সাফা-মারওয়া সায়ীর জন্য যখনই আসি, তখনই দেখি মানুষের ভিড়। অর্থাৎ এখানে কখনোই ভিড় কমে না। শুধু কাবা শরিফ বা সাফা-মারওয়া নয়, মিসফালাসহ পুরো এলাকাই মনে হয় দিন-রাত সমান। তাই যখনই রাস্তায় নামি, তখনই দেখি দলে দলে মানুষ আসছেন বা যাচ্ছেন কাবা শরিফের দিকে। এখানকার দোকান বা রেস্টুরেন্টও খোলা থাকে দিন-রাত সব সময়। একইভাবে আয়েশা মসজিদে যখনই আসি, তখনই দেখি অসংখ্য মানুষের সমাগম। ফলে পুরো নগরই সব সময় থাকে পুণ্যার্থীদের পদচারণায় মুখর। ঠিক যেন আলোকিত নগরী।

ছবি : লেখক


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত