• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯
গাজী মুনছুর আজিজ    |    
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
ছেলেদের সাজ-পোশাক
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাজ পোশাকের পরিবর্তন আসে। মেয়েদের পাশাপাশি এখন ছেলেরাও যথেষ্ট ফ্যাশন সচেতন। হাল ফ্যাশনের সঙ্গে ছেলেদের কেমন সাজ পছন্দ, এ নিয়ে দেখুন এবারের ঘরেবাইরের আয়োজন-

ছেলেদের চেয়ে সাজ-পোশাকে বরাবরই মেয়েরা এগিয়ে। তাই বলে ছেলেরা পিছিয়ে আছেন বা আনস্মার্টই থেকে যাচ্ছেন এমন তো নয়; বরং অনেক ছেলেই নিজেকে হাল ফ্যাশনের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি নিজেকে আরও ব্যক্তিত্ববান করতে তিনি সাজ-পোশাকেও আনছেন পরিবর্তন। যেমনটি করেছেন বেসরকারি একটি ব্যাংকে সদ্য যোগ দেয়া শাহাবুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঠিক ফ্যাশন কি জিনিস সেটা আমি ভাবি না, বরং আমি দেখি আমার সাজ-পোশাকটায় আমি কতটা আরাম বোধ করছি এবং অন্যের কাছে তা দেখতে কতটা ভালো লাগছে- এসব বিবেচনায় আমি নিজেকে সবসময় উপস্থাপনের চেষ্টা করি। এছাড়া আরাম বোধের পাশাপাশি দেখি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ কোনটা, যেটা ফ্যাশনের পাশাপাশি প্রয়োজনও মেটাবে।

আড়ংয়ের ফ্যাশন ডিজাইনার ফয়েজ হাসান বলেন, সব নারী-পুরুষেরই আউটফিট হিসেবে পোশাক থাকে। তবে ফ্যাশন বা নিজেকে আলাদা কিংবা আরও ব্যক্তিত্ববান করতে একেকজন একেক রকম সাজ-পোশাক বেছে নেন যে যার পেশা বা কাজের ধরন বুঝে। যেমন অফিস-গোয়িং পুরুষদের প্রায় অধিকাংশই ফরমাল পোশাক পরেন। আর এটাই স্বাভাবিক। তবে আপনি চাইলেই ফরমাল ড্রেসের লুকে পরিবর্তন আনতে পারেন, যা অন্যের চেয়ে আলাদা মনে হবে। সেক্ষেত্রে সবার আগে শার্টের প্রতি নজর দিতে হবে। আপনি যে বয়সেরই হোন না কেন, শার্ট যদি মানানসই হয়, তবে ফ্যাশন অনেকটাই পূর্ণ হবে। সেজন্য শার্ট কেনা বা তৈরির সময় খেয়াল রাখতে হবে এর রং ও ডিজাইনে।

সাধারণত হালকা রংগুলো অফিস-গোয়িং পুরুষদের জন্য বেশ মানায়। তবে আজকাল হালকা রঙের জমিনের সঙ্গে হাতা ও কলার অন্য রঙের হয়ে থাকে বা অনেকে দিয়ে থাকেন। এতে কিছুটা হলেও ভিন্নতা আসে।

আর প্যান্টও শার্টের রঙের সঙ্গে মানিয়ে পরাটাই ভালো। তবে এর সঙ্গে ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলতে আপনি যে কাজটি করতে পারেন তা হল- হাতের ঘড়ি, কোমরের বেল্ট বা জুতায় পরিবর্তন এনে। অবশ্য আজকাল সবাই মোবাইলে ঘড়ি দেখেন। তবুও যদি আপনি নিজেকে আর দশ জনের চেয়ে আলাদা উপস্থাপন করতে চান তবে অবশ্যই সুন্দর একটি ঘড়ি পরা জরুরি। আর একটি ঘড়িই আপনাকে সত্যিকার ভাবে আলাদা করে তুলতে পারে। তবে ঘড়ি পরলেই হবে না। কারণ ফরমাল ড্রেসে একরকম ঘড়ি পরলে ভালো লাগবে, আর ক্যাজুয়াল ড্রেসে আরেকরকম। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে ঘড়ি পরাটা জরুরি।

অন্যদিকে কোমরের বেল্টও একই ফরমেটে পরলে ভালো। কারণ নরমাল প্যান্টে একরকম, জিন্স প্যান্টে আরেকরকম বেল্ট মানায়। এছাড়া জুতোর বেলাতেও তাই। এ ক্ষেত্রেও রঙের দিকে প্রাধান্য দিতে হবে। তবেই আপনার সাজ-পোশাক অন্যের চেয়ে আলাদা হবে।

অবশ্য ক্যাজুয়াল ড্রেসে যারা সবসময় চলাফেরা করেন তাদের সাজ-পোশাকের ধরনটা ফরমালের চেয়ে আলাদাই হবে। যেমন- ক্যাজুয়াল ড্রেসের সঙ্গে অনেকেই ঘড়ির বদলে হাতে বেল্ট পরেন বা ঘড়ি-বেল্ট দুটোই পরেন। আবার জুতোর বদলে স্যান্ডেল বা কেডস পরেন। কেউ কেউ কানে বা হাতের আঙুলে রিংও পরেন। তবে যা-ই পরেন তা যেন অবশ্য অতিরিক্ত কিছু প্রকাশ পায় এমন করবেন না। খুব স্বাভাবিক একটা কথা মাথায় রাখলে ফ্যাশন করে তৃপ্তি পেতে পারেন। সেটি হল সবসময়ই হালকা আমেজের অনুষঙ্গ বেছে নেয়া। মনে রাখবেন আপনাকে দেখে যদি অন্যের চোখ আরামবোধ করে তাহলেই ফ্যাশনের স্বার্থকতা। আর যদি আপনাকে দেখে অন্যের চোখ জ্বালাপোড়ায় ভোগে তবে ভাবতে হবে আপনার ফ্যাশন অনুষঙ্গে কিছু একটা অপূর্ণতা আছে এবং সেটি খুঁজে বের করুন।

ঘড়ির বাজারে অনেক নামিদামি ব্র্যান্ড আছে। তবে সবসময় যে নামিদামি ব্র্যান্ডেই অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাবে তা কিন্তু নয়, বরং অনেক সময় কম দামের ঘড়িও হতে পারে আপনার পারফেক্ট ফ্যাশন অনুষঙ্গ। টাইটানিক, সিটিজেন, রাডুসহ নানা ব্র্যান্ডের ঘড়ি পাবেন ২ হাজার ৫০০ থেকে লাখ টাকার উপর পর্যন্ত। বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্কে এসব ঘড়ির বিক্রয় কেন্দ্র আছে। এছাড়া বায়তুল মোকাররম মার্কেটেও ব্র্যান্ডসহ ঘড়ির অনেক দোকান পাবেন। চাইলে অনেক দাম দিয়ে ঘড়ি কিনতে পারলেও চেষ্টা করেও খুব বেশি দামের বেল্ট কিনতে পারবেন না। কারণ বেল্টের খুব একটা নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড নেই। তবে ক্যাটস আই, ইনফিনিটি, বাটা, এ্যাপেক্সে সুন্দর সব বেল্ট পাবেন ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। এসব ব্র্যান্ডের দোকানে জুতোও পাবেন পছন্দসই। সু বা জুতো কেনা যাবে ১০০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০, কেডস ১ হাজার ২০০ থেকে ৮ হাজার ৫০০, স্যান্ডেল ৪৫০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায়।

ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. মুহাম্মদ নাজমুল হক কল্লোল বলেন, সূর্যের আলো থেকে চোখকে নিরাপদ রাখতে সানগ্লাস ব্যবহার করা ভালো। এছাড়া যারা মোটরসাইকেল চালান তাদের সানগ্লাস ব্যবহার করাটা বেশি জরুরি। তবে সানগ্লাস কেনার সময় খেয়াল রাখতে হবে সানগ্লাস সুন্দরের চেয়ে যেন এর কার্যকারিতা বেশি হয়। যে সানগ্লাস প্রকৃত অর্থেই সূর্যের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ রেখে আপনার চোখকে আরাম দিতে পারবে সেই সানগ্লাসই কেনা বুদ্ধিমানের কাজ।

তবে দামি বা সুন্দর সানগ্লাস ব্যবহার না করে বরং মানানসই সানগ্লাস বা রোদচশমা ব্যবহার করাটা জরুরি।

এছাড়া যাদের চোখে সমস্যা আছে তাদের জন্য রোদচশমা ব্যবহার খুব একটা জরুরি না। তবে ব্যবহার করতে চাইলে চোখের উপযোগী রোদচশমা বানিয়ে নেয়া যেতে পারে।

বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রোদচশমা পাওয়া যায়। এর মধ্যে আছে আরমানি, পুলিশ, ডিএনজি, রে বন, ওকলে, প্যারাডা ইত্যাদি ব্র্যান্ডগুলো বেশ বিখ্যাত। এগুলো কেনা যাবে ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে। আবার সাধারণত ব্র্যান্ডের রোদচশমাও বাজারে পাবেন। এগুলো কিনতে পারবেন ৩০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে।

তবে কম দামের চশমা আপনার চোখের ক্ষতি করতে পারে। সেজন্য চশমা কেনার ক্ষেত্রে নিজের মূল্যবান চোখের কথাও ভাবতে হবে।

সতর্কতা হিসেবে সাধারণত নীল রঙের চশমা ব্যবহার না করাটাই ভালো। আর চোখের সমস্যা না থাকলে রাতের বেলা রোদচশমা পরে কারও হাসির পাত্র হবেন না। অন্যদিকে রোদচশমা পরে বা খালি চোখে সরাসরি সূর্যের দিকে না তাকানোই ভালো।




 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত