গাজী মুনছুর আজিজ    |    
প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
জগন্নাথপুরের আট কবর
মুক্তিযুদ্ধের অসংখ্য স্মৃতি ছড়িয়ে আছে দেশের নানা প্রান্তে। এসব স্মৃতি কোনোটা সরকারি উদ্যোগে আবার কোনোটা ব্যক্তি উদ্যোগে সংরক্ষিত হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার জগন্নাথপুরের আট কবর ব্যক্তি উদ্যোগে সংরক্ষিত। ঘুরে এসে লিখেছেন-

তিন আগস্ট ১৯৭১। কমান্ডার হাফিজুর রহমান জোয়ার্দ্দারের নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার জপুর ক্যাম্পে অবস্থান নেয়। চার আগস্ট মুক্তিযোদ্ধারা এ ক্যাম্পে কুবাদ খাঁ নামের এক পাক দালালকে ধরে আনেন। পাঁচ আগস্ট সকালে কুবাদ খাঁর দু’জন লোক ক্যাম্পে এসে গুজব খবর দেয়- রাজাকাররা গ্রামের পাকা ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে। খবর শুনে কমান্ডার হাসানের নেতৃত্বে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ছুটে যান জপুর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে বাগোয়ান গ্রামে। তারা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে অগ্রসর হতে থাকেন। তখন নাটুদা ক্যাম্পের পাকিস্তানি সৈন্যরা ইউকাটিং অ্যাম্বুস করে মুক্তিযোদ্ধাদের আটকে ফেলে। ফলে এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানি সৈন্যদের একটি সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধেই শহীদ হন আট মুক্তিযোদ্ধা। পরে স্থানীয় জগন্নাথপুর গ্রামের মানুষ শহীদ এ যোদ্ধাদের দুটি গর্তে গণকবর দেন। মুক্তিযুদ্ধের এ সমাধিসৌধটি স্থানীয়দের কাছে জগন্নাথপুরের আট কবর হিসেবে পরিচিত।

আট শহীদ হলেন- শহীদ রওশন আলম, শহীদ রবিউল ইসলাম, শহীদ কিয়ামুদ্দিন, শহীদ খালিদ সাইফুদ্দিন আহমেদ তারেখ, শহীদ হাসান জামান, শহীদ আফাজ উদ্দীন, শহীদ আবুল কাশেম ও শহীদ আলাউল ইসলাম খোকন। শহীদ এ যোদ্ধাদের বন্ধু ও সহযোদ্ধা ছিলেন ছোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার (ছেলুন)। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনিই এ আট শহীদের কবর ও তাদের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন। তার নিরলস প্রচেষ্টায় আট কবর এখন আধুনিক ভাবে সংরক্ষিত। এছাড়া এটি এখন এ অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবেও পরিচিত।

চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এ সমাধিস্থল। ০.৬৬ একর জমির ওপর ১৯৯৮ সালে এ আট কবর কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু হয়। সমাধি ছাড়াও এখানে আছে- উন্মুক্ত মঞ্চ ও একটি দোতলা ভবন। এ ভবনের দেয়াল জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ধারাবাহিক ইতিহাসের ২০০টি আলোকচিত্র। এছাড়া কেউ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা করতে চাইলে এ কমপ্লেক্সে আবাসিক সুবিধাও পেতে পারবেন। এখানে একটি গ্রন্থাগারও আছে।

আট শহীদের বন্ধু ও সহযোদ্ধা এবং বর্তমান সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার (ছেলুন) বলেন, ওরা সবাই (শহীদ বন্ধুরা) আমাকে মিয়াভাই বলে ডাকত। ওরা বলত মিয়াভাই আপনি যেদিক যাবেন, আমরাও সেদিক যাব। আপনি যা করতে বলবেন, আমরা তাই করব। ওরা দেশের জন্য ঠিকই অনেক কিছু করেছে, কিন্তু আমি ওদের জন্য কিছুই করতে পারিনি। তাই ওদের স্মৃতি রক্ষার্থে ও আগামী প্রজন্মের কাছে ওদের পরিচিতি তুলে ধরতেই আট কবরকে কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তুলেছি। আর এর মাধ্যমে কিছুটা হলেও ওদের ভালোবাসার প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করছি।

প্রয়োজনীয় তথ্য

ঢাকার গাবতলী থেকে চুয়াডাঙ্গার বাস ছেড়ে যায় সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত। ভাড়া ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে লোকাল বাসে আট কবর যাওয়া যাবে। থাকার জন্য চুয়াডাঙ্গা শহরে একাধিক আবাসিক হোটেল আছে। ভাড়া প্রতিরাত ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। আর খাওয়ার জন্য আছে বিভিন্ন হোটেল।

ছবি : লেখক


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত