মানসুরা সিদ্দিক    |    
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
উৎসবে রঙে পোশাকের ঢঙ
শীতকাল মানেই নানা উৎসব। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বিয়ে, গায়ে হলুদ ইত্যাদির। আর উৎসব মানেই রঙিন পোশাক। বর্তমান ফ্যাশনের ধারা অনুযায়ী বিয়ে কিংবা গায়ে হলুদে একই রঙের পোশাক পরার চল দেখা যাচ্ছে।

বিয়ে মানেই উৎসব। বিয়ে মানেই আনন্দ। উৎসব উদ্যাপনে বিয়ের দিনে প্রতিটি মনে থাকে আনন্দ। সে আনন্দ ফুটে ওঠে চোখে-মুখে। বিয়ের দিনে নানা আয়োজনে ব্যস্ততার শেষ নেই। বিশেষ করে বর-কনের। আবার তাদের ঘিরে সমবয়সীদের আনন্দ থাকে যেন একটু বেশিই। কাছের-দূরের আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে গায়ে হলুদ বা বিয়ের দিন সবাই একই পোশাকে মেলে ধরতে চায় নিজেদের। আর সে জন্য সবার পছন্দ একই ধরনের পোশাক। বিশেষ করে একই ধরনের পাঞ্জাবি। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এমন আয়োজন যেন রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বরপক্ষের সবাই যখন একই পোশাকে কনেপক্ষের বাড়িতে যায়, তখন দেখতেই ভালো লাগে। কনেপক্ষও তাদের সাদরে গ্রহণ করে নেয়। এর সুবিধাও আছে বটে। কনেপক্ষের বুঝতে বাকি থাকে না যে এরা বরপক্ষ।

লা রিভের ডিরেক্টর ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড ডিজাইন মন্নুজান নার্গিস বলেন, বিয়ে মানেই আনন্দঘন মুহূর্ত। বিয়ের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু বর ও কনে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে আত্মীয়স্বজনদের মধ্যেও থাকে ব্যাপক প্রস্তুতি। অনুষ্ঠানে বরপক্ষ পরিবার-পরিজন, নিকটাত্মীয়, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের সমন্বয়ে গঠিত বরযাত্রী নিয়ে উপস্থিত হন। আর সেই আয়োজনে যদি একই ধরনের পাঞ্জাবিতে সবাইকে উপস্থাপন করা যায় তবে আয়োজনটা ঐতিহ্যে আর আভিজাত্যে ফুটে ওঠে।

বরপক্ষ আর কনেপক্ষের তরুণ বয়সী আত্মীয়দের মধ্যে এই রঙ মিলিয়ে পোশাক পরার চল বেশি দেখা যাচ্ছে। যেমন হলুদের দিনে কনের বোন এবং বান্ধবীরা মিলে একই রঙের কিংবা শেডের পোশাক পরলেন। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই ছেলেরাও। রঙ মিলিয়ে পোশাক পরলেই হবে না। খেয়াল রাখতে হবে কিছু বিষয়ের দিকেও।

সাধারণত উৎসবের পোশাকে উজ্জ্বল রঙগুলোকে খানিকটা প্রাধান্য দেয়া হলেও আধুনিক স্টাইল স্টেটমেন্টে সমান প্রাধান্য বিস্তার করে চলেছে হালকা রঙ আর শেডের পোশাকগুলোও। তবে পোশাকের রঙ হিসেবে আপনি কোনটিকে বেছে নেবেন সেটি পুরোপুরিই নির্ভর করবে আপনার সঙ্গে কোন ধরনের রঙ মানিয়ে যায় তার ওপর। পোশাকের রঙ এরপর অন্যান্য যে বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হয় তার মধ্যে রয়েছে কাপড়ের ধরন, নকশা, কাটিং আর দামের মতো বিষয়গুলো। উৎসবের দিন আপনার কাপড়ের ধরন কী হতে পারে সেটি নির্বাচন করার জন্য আপনাকে প্রথমেই ভাবতে হবে আয়েশের কথা। উৎসব মানেই যে সিল্ক, শিফন কিংবা জামদানি নয়, একথাও মেনে নিতে হবে স্টাইল দুনিয়ার বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই। বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে যেসব তাঁত কিংবা সুতির কাপড় পাওয়া যাচ্ছে একটু দেখে-শুনে সেগুলো কিনতে পারলেও তা আপনার উৎসবের আনন্দকে রঙিন করে তুলতে পারে। সেই সঙ্গে বাড়তি পাওয়া হিসেবে উৎসবের পরের প্রাত্যহিক প্রয়োজনেও কাজে আসতে পারে এই পোশাকগুলো। অন্যদিকে নকশা আর কাটিংয়ের ক্ষেত্রে খুব বেশি ট্রেন্ডি পোশাক নির্বাচন করার চেয়ে ট্র্যাডিশনাল পোশাকই আপনাকে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য দেবে। আর পোশাকের দামের ক্ষেত্রে আপনার সামর্থ্যরে পাশাপাশি ভাবতে হবে দামের যৌক্তিকতা নিয়েও। মনে রাখবেন, আপনার পোশাকটি আপনাকে মানাচ্ছে কি না কিংবা এটি উৎসবের পোশাক হিসেবে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না সেটি অবশ্যই ‘ব্র্যান্ডনেম’-এর চেয়ে বড়। সেই সঙ্গে উৎসব কিংবা আনন্দ উপলক্ষে আপনি যে পোশাকটি পরছেন, সেটি আপনার সৌন্দর্যকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারছে কি না এটিও ভাবতে হবে গুরুত্ব দিয়েই।

রঙের ভাষা

প্রতিটি রঙের একটি নিজস্ব ভাষা আছে এবং যা শরীর ও মনের ওপর প্রভাব রাখে। লাল রঙ শক্তি, কর্মোদ্যোগ এবং পরিবর্তনের প্রতীক। আনন্দ ও সুখের রঙ কমলা। নিরপেক্ষতা-নির্লিপ্ততা এবং বুদ্ধির রঙ হলুদ। সবুজ রঙ ঐক্য, সমবেদনা এবং প্রশান্তির প্রতীক। শান্তির রঙ নীল। আসমানি রঙ কল্পনা এবং অনুমানশক্তি বৃদ্ধি করে। বেগুনি রঙ অনুভূতিশীল এবং শিল্পমনা হতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। প্রতিটি রঙেরই আলাদা আলাদা আবেদন রয়েছে। পোশাকের ক্ষেত্রে রঙের নির্বাচন তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ঋতু বৈচিত্র্যের ওপর রঙ নির্বাচন করা হয়ে থাকে। শীতকালে লাল, হলুদ, উজ্জ্বল, সবুজ অথবা নীল রঙ। গরমকালে হালকা গোলাপি, নীল রঙ। বর্ষাকালে হালকা কাপড়ের গাঢ় রঙ। বসন্তে গোলাপি, হলুদ, আকাশি অথবা হালকা সবুজ রঙ ব্যবহার করুন। এছাড়া গায়ের রঙের উপরও রঙ নির্বাচন করা হয়ে থাকে। যাদের গায়ের রঙ কালো তারা সবসময় গাঢ় রঙ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। ফর্সাদের ক্ষেত্রে অবশ্য সব রঙেই মানানসই। তবে তাদের যে কোনো গাঢ় রঙেই বেশি মানাবে। এছাড়া রাতের কোনো উৎসবে যেতে হলে অবশ্যই গাঢ় রঙ এবং দিনের বেলা হালকা রঙ আপনার ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়ক হবে। আপনাকে অবশ্যই হাল-ফ্যাশনের দিকে লক্ষ্য রেখে পোশাক নির্বাচন করতে হবে। তবে সেই সঙ্গে লক্ষ্য রাখতে হবে পোশাক যেন আপনাকে সমালোচিত না করতে পারে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই পোশাকের রঙ হিসেবে প্রথম পছন্দ আরামদায়ক রঙ। আসুন জেনে নিই কোন অবস্থায় কেমন রঙ আপনার জন্য উপযোগী হতে পারে। পার্টির পোশাক তুলনামূলক গর্জিয়াস হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে পোশাকের রঙ উজ্জ্বল বর্ণের হলেই ভালো। ফ্যামিলি পার্টিতে গাঢ় বর্ণের পোশাক পরিধান স্বস্তিদায়ক এবং বেশ আকর্ষণীয় হয়। হাল্কা মেরুন, গাঢ় স্কাই, মেজেন্ডা, সিলভার, বলটপ গ্রিন, গাঢ় গোলাপি, মাটি বর্ণের রঙ এ ধরনের পার্টির পোশাকে ব্যবহার করা যেতে পারে; যা পরিধানে আকর্ষণীয় করে তুলবে এবং মানানসই হবে।

গায়ের রঙ বুঝে

আপনার গায়ের রঙ, উচ্চতা, ওজন সবকিছুর সঙ্গে মিলিয়েই পোশাক নির্বাচন করুন। গায়ের রঙ চাপা হলেও সব রঙই পরতে পারেন। তবে কোন রঙটা কীভাবে পরতে হবে, সেটা তাদের শিখে নিতে হবে। উজ্জ্বল গোলাপি রঙও কালো গায়ের রঙে সুন্দর মানিয়ে যেতে পারে। আবার গোলাপি কামিজের সঙ্গে সালোয়ার হতে পারে সাদা বা অন্য কোনো হালকা রঙের। ওড়না যদি রঙচঙে হয়, জামাটা হালকা রঙের হতে পারে। এভাবে নিজের মতো করে মিলিয়ে নিতে হবে। যে কোনো রঙই বুঝে পরা যেতে পারে। খুব ফর্সা যারা তাদের ফ্যাকাসে রঙের পোশাক থেকে সবসময় দূরে থাকা উচিত। এর বাইরে গোলাপি, নীল, খয়েরি ইত্যাদি যে কোনো উজ্জ্বল রঙ চলতে পারে। ফর্সা গায়ের রঙে যে কোনো রঙই মানাবে বিশেষ করে উজ্জ্বল রঙ কিংবা গাঢ়, কিন্তু ফ্যাকাসে রঙ এড়িয়ে চলতে হবে। রোদে পোড়া তামাটে যাদের গায়ের রঙ তাদের পোশাক নিয়ে বাছ-বিচারের কোনো দরকার নেই। ট্রুপিক্যাল কালার যেমন হলুদ, সবুজ, নীল, কমলা ইত্যাদি রঙে খুব উজ্জ্বল লাগে। আবার সাদা বা বেবি পিঙ্কের মতো রঙও এমন স্কিন টোনে দারুণ মানায়।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত