প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
ফ্যাশন জগতের সালতামামি
আরও একটি বছর শেষ হচ্ছে। নতুন বছর ডাকছে হাতছানি দিয়ে। চলতি বছর ফ্যাশন ট্রেন্ডেও পালাবদল হয়েছে। সেই সঙ্গে পোশাকে এসেছে পরিবর্তন ডিজাইনারদের সৃষ্টিশীলতার গুণে। এরপরও সবাই পাল্টাতে চান নিজেদের লুক। চলতি বছর সেই বদলের ধরনটা কেমন ছিল? চলুন ফ্যাশন সালতামামি ২০১৭তে দেখে আসি সেই হাওয়াবদল। লিখেছেন ইমন নাজমুল

প্রথমেই রঙ

প্রথমেই রঙ নিয়ে আলোচনা। কারণ রঙের খেলা ছিল ২০১৭ সালের পোশাকগুলো। ট্যাডিশনাল থেকে নরম রঙের দিকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে পোশাক। প্যাস্টেল শেডের কালার প্যালেট এ বছর ভোক্তার পছন্দের তালিকায় ছিল। আমাদের কালার প্যালেটগুলো বদলে যায় মৌসুমভেদে। কখনও অনেক ভাইব্র্যান্ট, কখনও আবার প্যাস্টেল। রঙে ছিল যথেষ্ট বৈচিত্র্য। মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে এবার ডিজাইনার এবং কাস্টমাররা একটি স্টাইল তৈরি করেছেন।

নতুন ধারায় শাড়ি

এ পোশাকটি নিয়ে ডিজাইনার ও স্টাইলিস্টরা করেছেন নানা নিরীক্ষা। শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজের ছিল বাহারি এবং মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ ডিজাইন। পাশাপাশি কোট, জ্যাকেটের ব্যবহারে সৃষ্টি হয়েছে নতুন এক ধারা।

বৈচিত্র্য আছে ব্লাউজে

ব্লাউজের হাতা, গলায়, শিলুয়েটে এসেছে নতুন ডিজাইন। ফ্রিল, লেয়ার, কাটআউট, বেল, রাফলড, লেগঅফ মাটনসহ অনেক রকম স্লিভের দেখা মিলেছে এ বছর। টপসের প্যাটার্নের মতো ঢিলেঢালা কাট ছিল। এম্ব্রয়ডারি ব্লাউজের সঙ্গে ছিল প্লেইন জর্জেটের শাড়ি। প্রি-ড্রেপড শাড়ি একটি নতুন ঢেউ তৈরি করছে। স্টাইলটি আধুনিক নারীর জন্য জুতসই। যারা ব্যস্ত থাকেন এবং সিক্স-ইয়ার্ড ফেব্রিক্স শরীরে জড়ানোর সময় পান না, তাদের জন্য এ পদ্ধতি আশীর্বাদই বলা চলে। পুরুষদের জন্য বেল্ট অপরিহার্য একটি অনুষঙ্গ। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে নয়; কিন্তু এ বছরে তা দেখা গেছে শাড়িতেও।

প্যাটার্ন নতুনত্বে কামিজ

এ বছর কামিজের প্যাটার্নে দেখা গেছে নতুনত্ব। ডিজাইনাররা প্রচলিত কাটের বাইরে পোশাকটি নিয়ে কাজ করেছেন। কামিজের সঙ্গে কেপ জ্যাকেট ছিল এবারের প্রধান আকর্ষণ।



কেপ আর পঞ্চ ছিল হটেস্ট ট্রেন্ড। ক্যাপ ছিল বিভিন্ন কাটের- হাইনেক, ওয়ান শোল্ডার, অফ শোল্ডার ইত্যাদি। লং এবং শর্ট উভয় কামিজের দেখা মিলেছে। অ্যাসিমেট্রিক্যাল কাট, লেয়ার ছিল নতুন রূপে। দেখা গেছে অফ শোল্ডার, অন শোল্ডার, বোল্ড শোল্ডার। ফ্লোর লেন্থ, নি লেন্থ স্লিভ ছিল এবারের নতুন আকর্ষণ। ককটেল বা সান্ধ্য পার্টির জন্য পারফেক্ট লুক দিয়েছে এ ধরনের স্লিভ। ডিজাইনাররা লং কামিজের সামনের অংশে স্লিট দিয়ে ড্রেসে এনেছেন ভিন্নতা। সঙ্গে পালাজো, বেল্ট প্যান্ট এবং লম্বা স্কার্টের চল দেখা যায়। যে কোনো প্রোগ্রামের জন্য পারফেক্ট লুক এনে দিয়েছে স্টাইলটি। টিউলিপ প্যান্ট, ধুতি। পালাজো এ বছরও দেখা গেছে।

ফেব্রিক্সের খেলা

ফেব্রিক্স নিয়ে আছে অনেক আলোচনা। বছরজুড়েই ছিল ফেব্রিক্সের খেলা। সুতি থেকে মখমল, সব ধরনের কাপড়ই ব্যবহৃত হয়েছে এ বছর। তবে মখমলের ব্যবহার ছিল চোখে পড়ার মতো। এ ফেব্রিক্সের জ্যাকেট থেকে শাড়ি কিংবা লেহেঙ্গা গরম কেকের মতো লুফে নিয়েছেন ক্রেতারা; যা ব্যবহারকারীকে দিয়েছে রাজসিক লুক। বাজারে শিপন, সিল্ক, অ্যান্ডি সিল্ক, খাদি ফেব্রিক্স বিগত বছরের দাপট ধরে রেখেছিল।

আলোচনায় ফেব্রিক্সের টেকশ্চার

এবারের আলোচনায় উঠে এসেছে ফেব্রিক্সের টেকশ্চার। বিভিন্ন রকম প্রিন্টেড কাপড় ছিল ট্রেন্ডে। কিন্তু তথাকথিত প্রিন্টের বাইরে ডিজাইনাররা নতুন অনেক মোটিফ নিয়ে কাজ করেছেন। অ্যানিমেল প্রিন্ট থেকে শুরু করে ফ্লোরাল প্রিন্টও ছিল হটকেক। কাপড়ের বিভিন্ন অপ্রচল টেকশ্চার ছিল ট্রেন্ডে। ব্রোকেডের প্রাধান্য ছিল এবার। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য এ ফেব্রিক্স অনেক নারীর পছন্দের তালিকায় ছিল।

বিভিন্ন স্টাইলের ওয়েস্টার্ন পোশাক

ওয়েস্টার্ন পোশাকের প্রতি নারীর আগ্রহ বেড়েছে। কারণ, সহজে মিক্স ও ম্যাচ করে পরা যায়। ডেনিমের ফিটেড প্যান্ট যেমন ট্রেন্ডে ছিল, তেমনি বয়ফ্রেন্ড ডেনিমও মেয়েদের ওয়্যারড্রোবে জায়গা করে নিয়েছে। এ ফেব্রিক্সের শার্ট, স্কার্ট, লংড্রেস, জ্যাকেট তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জনপ্রিয় আগে থেকেই। এসব পোশাকে এম্ব্রয়ডারি, প্যাঁচ এবং বিভিন্ন স্টেটমেন্ট ওয়ার্ডস হিসেবে ছিল। ডেনিম প্যান্টের সঙ্গে কটন, নিট, জর্জেট টপস এ বছরের ট্রেন্ডে। টপসে ছিল বিভিন্ন স্টাইল।

শীতে জ্যাকেট

শীতে প্রায় সবাই পরছেন জ্যাকেট শাড়ি, লেহেঙ্গা ও গাউনের সঙ্গে। মেঝে ছোঁয়া যুগল জ্যাকেট শীতকালীন বিয়ের জন্য সম্ভবত সবচেয়ে ভালো। সাজগোজে বিপরীত এক লুক দেয়। জ্যাকেটগুলো পুরোপুরি নতুন এক লুকের জন্ম দিয়েছে।

এরপর প্যাটার্ন

কাটে ছিল ব্যক্তিত্ব ও স্বাতন্ত্র্যের ছোঁয়া। স্ট্রেইট, ঢিলেঢালা এবং সহজ কাটে মজেছেন ফ্যাশনিস্তারা। কখনও বেছে নিয়েছেন অ্যাসিমেট্রিক প্যাটার্ন, কখনও বা স্লিভের বাহারি প্রকাশ।




 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত