রায়হানুল ইসলাম আকন্দ, শ্রীপুর    |    
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
মদনটাকের ঘরে চার অতিথি
বিলুপ্তির ভিড়ে আশার আলো
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিনষ্টের কারণে পৃথিবীতে হারিয়ে যাচ্ছে নানা বন্যপ্রাণী। আমাদের দেশেও গত কয়েক দশকে হারিয়ে গেছে অনেক পশু-পাখি। বিলুপ্তির তালিকায় থাকা মদনটাক পাখির ক্ষেত্রে অবশ্য সুখবর বয়ে এনেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। সম্প্রতি পার্কটিতে মদনটাকের ঘরে এসেছে চার সন্তান।
হারিয়ে যাওয়া থেকে পাখির প্রজাতিটিকে রক্ষায় এটাকে সফলতা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেন বলেন, এটি খুশির খবর। পাখিটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সুন্দরবন এলাকায় মাঝেমধ্যে কিছু মদনটাক দেখা যায়। বসবাসের জায়গা নষ্ট হওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন, ইকোসিস্টেম ও ফুড চেইনে সমস্যা হওয়ায় এদের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। বংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিলে মদনটাকের অস্তিত্ব¡ রক্ষা করা যাবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মোতালেব বলেন, মদনটাক পাখির চারটি বাচ্চা হওয়ায় আশার আলো দেখা যাচ্ছে। এভাবে বংশ বৃদ্ধি ঘটলে মহাবিপন্নের তালিকা থেকে রক্ষা পাবে মদনটাক। সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আনিছুর রহমান বলেন, পার্কটি প্রতিষ্ঠাকালে ৬টি মদনটাক পাখি সংগ্রহ করা হয়। এগুলো গত নভেম্বর মাসে দুটি ও চলতি মাসে দুটি বাচ্চা দিয়েছে। আবদ্ধ পরিবেশে মদনটাকের বাচ্চা দেয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। তিনি আরও বলেন, আগে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব অঞ্চলেই মদনটাক কম-বেশি দেখা যেত। ইতিমধ্যে সিঙ্গাপুর ও চীনে পাখিটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
তিনি জানান, মদনটাক মূলত জলচর পাখি হিসেবে পরিচিত। মাছ, ব্যাঙ, সরীসৃপ, কাঁকড়া, বিভিন্ন জলজ প্রাণী এদের প্রধান খাদ্য। প্রজনন মৌসুম ব্যতীত একাকি নিভৃতচারী পাখি হিসেবে এরা পরিচিত। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে উঁচু গাছের শাখায় এরা ডিম পাড়ে। স্ত্রী মদনটাক একসঙ্গে তিন থেকে চারটি ডিম দেয়। সাধারণত ২৮ দিন পর ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে।
পার্কের বন্যপ্রাণী রক্ষক রিপন কান্তি পাল জানান, প্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠের দিক হয় উজ্জ্বল কালো আর শরীর সাদা বর্ণের। ডানার গোড়ায় কালো রং থাকে। পালকহীন মুখের চামড়া ও ঘাড় লালচে। গলা হলদে বা লালচে। চোখ সাদা কিংবা স্টেট-ধূসর। পা লম্বা। পায়ের পাতা, নখ ও পা সবুজ-ধূসর থেকে স্টেট-কালো হতে পারে। স্ত্রী ও পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথা ও ঘাড়ে বিক্ষিপ্ত ঘন পালক থাকে। পিঠ অনুজ্জ্বল কালো বর্ণের হয়।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত