যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
চালের দাম বাড়ায় দারিদ্র্যসীমার নিচে নামল সোয়া ৫ লাখ মানুষ
সানেমের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন

এক বছরের ব্যবধানে চালের দাম বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। এর প্রভাব পড়েছে গরিব মানুষের ওপর। সোয়া ৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। এদিকে বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানির কারণে চালের দাম বাড়ার পর শুল্ক প্রত্যাহার এবং বিদেশ থেকে চাল আমদানিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয় সরকার। তাতেও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি বাজার। শনিবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং’ (সানেম) তাদের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। সানেম মনে করে, উৎপাদন ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় আপাতত চালের দাম কমার সম্ভাবনা কম। তাই এখনই কার্যকর চালনীতি প্রণয়ন করা দরকার।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সানেম প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধির কারণে গতি কমেছে দারিদ্র্য বিমোচনের। ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও জালিয়াতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে বলেন, সোয়া পাঁচ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে পড়ে গেছে। আমাদের দারিদ্র্য বিমোচনের যে অগ্রগতি এবং তার যে চিত্র, সেখানে কিন্তু বড় ধরনের একটি ভয়ের কাজ করছে। এটা কোনোভাবেই অর্থনীতির মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি সুস্বাস্থ্যের জন্য সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও লুটপাট উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফারমার্স ব্যাংকের কেলেঙ্কারি নতুন করে সংকটে ফেলবে এ খাতকে। যার প্রভাব পড়তে পারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে।

প্রবৃদ্ধি বাড়লেও তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাড়ছে না বেসরকারি বিনিয়োগ। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় আগামী বছর আরও কমবে বিনিয়োগের গতি। বাড়তে পারে টাকা পাচারের প্রবণতা। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার পরমার্শ দিয়েছে সানেম।

সেলিম রায়হান আরও বলেন, বিশ্বে চতুর্থ বৃহত্তম চাল উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ। একই সঙ্গে তৃতীয় কিংবা চতুর্থ বৃহত্তম ভোক্তা দেশ। যা উৎপাদন হয় তার পুরোটাই লেগে যায়। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি মাথা পিছু চাল লাগে বাংলাদেশে। আমাদের অর্ধেক চাল লাগে নেপালের।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখনও চার কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। তাদের একটি বড় অংশই চালের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের চাল উৎপাদন সামর্থ্য বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, একই সঙ্গে চাহিদাও বাড়ছে। আমাদের দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে মিল রেখে চাল উৎপাদন আরও বাড়ানোর বিকল্প নেই। চালের চাহিদা প্রতি বছরই বাড়ছে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত