শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
বিকল দুই যন্ত্র ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই যন্ত্রের ভোগান্তিতে পড়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা রোগীরা। হাসপাতালের জেনারেটর মেশিনটি গত ৮ বছর ধরে হাসপাতালের সিঁড়ির নিচে তালাবদ্ধ অবস্থায় কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৮৩ সালে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়। অতিরিক্ত লোডশেডিং হওয়ার কারণে রোগীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে সরকার ২০০৮ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা (জেনারেটর) সরবরাহ করে। জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ২০১২ সালে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩০ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। জেনারেটরটি চালু করার পর ওই বছরেই তা অকেজো হয়ে পড়ে এবং জ্বালানির বাজেট না থাকায় গত ৮ বছর ধরে তা কাপড় দিয়ে সিঁড়ির নিচে ঢেকে রাখা হয়েছে।
হাসপাতালে বিদ্যুতের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে দুর্ভোগে পড়ে চিকিৎসাধীন রোগীরা। রাতের বেলায় দুর্ভোগ যেন আরও বেড়ে যায়। অপরদিকে, হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর ২০১৪ সালে কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক ডিজিটাল এক্সরে মেশিন সরবরাহ করে। গত ২৪ অক্টোবর থেকে ওই এক্সরে মেশিনের প্রদর্শন বোর্ড (মনিটর) নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তা অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে রোগীরা অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে প্রাইভেট ক্লিনিক থেকে এক্সরের কাজ সেরে নেয়।
বুধবার দুপুরে সরেজমিন হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায়, মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শ্রীপুর পৌরসভার ভাংনাহাটি গ্রামের আরজিনা আক্তার। তিনি জানান, গত চারদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। রাতের বেলায় বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে পুরো ওয়ার্ডে সৃষ্টি হয় ভীতিকর পরিবেশ। উপজেলার ডোমবাড়িচালা গ্রামের আজিজুল হক সংঘর্ষে জখম নিয়ে গত মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। এ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসকরা তাকে মুঠোফোনের লাইট জ্বালিয়ে চিকিৎসা দিয়েছেন। বরমীর পাঠানটেক গ্রামের তাইজুল ইসলাম জানান, গত রোববার তার বৃদ্ধ মাকে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। এ সময় চিকিৎসকরা তাকে এক্সরে করানোর পরামর্শ দিলে, তিনি ৭ কিলোমিটার দূরে মাওনা চৌরাস্তা থেকে এক্সরে করে নিয়ে আসতে হয়েছে। এ জন্য তাকে দুই দিন সময় ব্যয় করতে হয়েছে এবং গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত টাকা। হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ (মেডিকেল টেকনোলজিস্ট) আফসার উদ্দিন জানান, প্রতিদিন ২৫-৩০ জন রোগী এক্সরে করানোর জন্য ভীড় করেন। গত ২৪ অক্টোবর থেকে মেশিনের একটি অংশ প্রদর্শন বোর্ড (মনিটর) বিকল হওয়ায় এ সেবা দেয়া যাচ্ছে না। রোগীরা বাধ্য হয়েই ৭ কিলোমিটার দূরের মাওনা চৌরাস্তার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে এ সেবা সেরে নিচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মইনুল হক খান জানান, গত স্বাস্থ্য সভায় রোগীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের উদ্যোগে কিছু সোলার প্যানেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সোলার স্থাপন করা হলে দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে। এছাড়া ডিজিটাল এক্সরে মেশিন মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। শিগগিরই তা ঠিক হয়ে যাবে।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ মো. মনজুরুল হক জানান, এক্সরে মেশিন মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ওই কোম্পানিকে সমুদয় টাকা পরিশোধ করার পর তারা মেশিন মেরামত করে যাবে। শিগগিরই টাকা পরিশোধ করে এক্সরে মেরামতের টাকা জমা দিয়ে তা সচল করার উদ্যোগ নেয়া হবে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত