ইব্রাহীম রাসেল    |    
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
অ্যাক্সিডেন্ট্

লোকটি ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে আছে। ঠোঁট দুটো কাঁপছে। কিছু একটা বলার প্রাণন্তকর চেষ্টা করছে। কিন্তু কণ্ঠ দিয়ে কোনো আওয়াজই বের হচ্ছে না। তাকে ঘিরে ধরা মানুষগুলো যে যার মতো যৌক্তিক-অযৌক্তিক প্রশ্ন করেই যাচ্ছে। লোকটি নির্বিকার। হাতে একটা মুঠোফোন, মুঠোবন্দি ফোনসহ হাতটিও কাঁপছে।

বাংলামোটর ওভারপাসের নিচ দিয়ে লোকটি রাস্তা পাড় হচ্ছিল। লোকটির আনুমানিক বয়স ৭০-এর কাছাকাছি হবে। এ বয়সে ওভারপাসের সিঁড়ি ভাঙা তার পক্ষে সম্ভব না বলেই নিচ দিয়ে পাড় হচ্ছিলেন। শাহবাগ থেকে আসা দানব গতির একটি বাস লোকটিকে ধাক্কা দিতে যাবে, ঠিক সেই সময় কলেজপড়ুয়া একটি ছেলে তার হাত ধরে একটানে রাস্তার এপাড়ে নিয়ে এলো। লোকটি কিংকর্তব্যবিমূঢ়। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ছেলেটি তাকে বাঁচাল। লোকটি হাঁটু ভেঙে ফুটপাতে বসে পড়লেন।

আশপাশের পথচারী, দোকানিরা এসে লোকটির চারপাশে ভিড় করতে থাকে। দূর থেকে যারা বিষয়টি হালকা দেখেছেন অনেকেই ভেবেছেন লোকটি হয়তো মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। তাই অনেকেই ছুটে এসেছেন পরিস্থিতি কাছ থেকে দেখার জন্য। এরই মধ্যে লোকটির পকেটে ফোন বেজে ওঠে। হাঁটু ভেঙে বসা অবস্থায়ই কাঁপা কাঁপা হাতে ফোনটি পকেট থেকে বের করে। রিসিভ করে কানের কাছে ধরে। তারপর থেকেই এই অবস্থা। কানের কাছ থেকে ফোনটি নামিয়ে মুঠোবন্দি করে আছে। ঠোঁট কাঁপছে, হাত কাঁপছে। ভিড় করা লোকগুলো প্রশ্নের পর প্রশ্নই করে যাচ্ছে। কেউ ভাবছে না লোকটিকে আগে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা দরকার। অনেক বড় একটা দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেলেও পরিস্থিতিটা একদিকে ছিল যেমন অস্বাভাবিক তেমন আতঙ্কের। লোকটি তাই হয়তো সম্বিত হারিয়ে ফেলেছে।

শেষমেশ কলেজপড়ুয়া ছেলেটি সবাইকে প্রশ্ন করা থেকে থামিয়ে দেয়। পাশে দাঁড়ানো দুজনের সাহায্য নিয়ে লোকটিকে হাতে হাতে ধরে কাছের একটি দোকানের বেঞ্চে শুইয়ে দেয়। চোখে-মুখে ও মাথায় হালকা পানির ঝাঁপটা দেয়। কিছুক্ষণ পর লোকটি ছেলেটির সাহায্য নিয়ে আস্তে আস্তে বেঞ্চে উঠে বসে। চারপাশে তখনও উৎসুক লোকের ভিড়।

ছেলেটি পানি আর হালকা খাবার নিয়ে লোকটিকে দিল। এরপর তার গা ঘেঁষে বসল, পিঠে আলত করে হাত বুলাতে বুলাতে বলল, ফোনটি কোত্থেকে এসেছিল চাচা? কার ফোন ছিল? লোকটি পানিটুকু এক চুমুকে শেষ করে অস্পষ্ট স্বরে বলল, গ্রামের বাড়ি থেকে ফোন এসেছিল, আমার ছেলে মোটরসাইকেল করে বাড়ি ফিরছিল, ট্রাক ওকে... বলেই লোকটি ছেলের নাম ধরে ডাকতে থাকল, দুচোখে তখন তার শুকনো নদী নিংড়ে বের হওয়া জলের ধারা...


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত