• শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
মো. রইছ উদ্দিন    |    
প্রকাশ : ২৬ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের নুহাশ পল্লীতে গৌরীপুরের স্বজনদের শ্রদ্ধার্ঘ্য

কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন লিচুবাগে। তার নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে। গত বুধবার ১৯ জুলাই ছিল গুণী এ লেখকের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী। প্রতিবছর ময়মনসিংহের গৌরীপুর যুগান্তর স্বজন সমাবেশের স্বজনরা বরেণ্য এ গল্পকারের বিখ্যাত উপন্যাস ‘গৌরীপুর জংশন’ সেখানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। তবে এবার শ্রদ্ধা নিবেদন করতে স্বজনরা ছুটে আসেন নুহাশ পল্লীতেই।

সেদিন সকাল ৬টা থেকে স্বজনরা হাজির হতে থাকেন গৌরীপুর যুগান্তর স্বজন মিডিয়া সেন্টারে। প্রথমে এসে চমক সৃষ্টি করেন গৌরীপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম মিন্টু। একে একে প্রত্যেক স্বজনের বুকে হুমায়ূন আহমেদের ছবিযুক্ত শোকাহত স্টিকার লাগানো হয়েছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর নুহাশ পল্লীর উদ্দেশে বাস ছাড়ে সকাল ৮টা ৫ মিনিটে। শুরু হয় আলোচনা ‘হুমায়ূন আহমদে’র কর্মময় জীবন, সাহিত্য ও নানার বাড়ি ও বাবার বাড়ি’। এ আলোচনার শুরুতেই উঠে আসে ‘গৌরীপুর জংশন’।

নুহাশ পল্লীতে আমাদের স্বাগত জানালেন হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টি হলুদে বন্ধু ‘হিমুরা’। দেখিয়ে দিলেন কোথায় লুকিয়ে আছেন সেই প্রিয় মানুষটি। তখনও রিমঝিম বৃষ্টি পড়ছেই। মানুষের মনের কান্নায় যেন কেঁদে উঠল আকাশ। বৃষ্টিতে ভিজে সবুজ ঘাসে পা থেকে পা বাড়িয়ে এগিয়ে চলল স্বজনরা। ‘তরী, রৌজা আর বিন্দা’রা এগিয়ে যাচ্ছে সমতালে। ৪ বছর বয়সী তরীর ভাষায়, বাবা নাটকের ব্যাটা (হুমায়ূন আহমেদ) এখন কোথায়? কবরে পুষ্পার্ঘ্যের জন্য যাওয়ার পর ছোট্ট মনের আরেক প্রশ্ন, এখানে ফুল দেব কেন? নাটকের ব্যাটাকেই নিয়ে যাব! স্বজনদের এ আয়োজনে অংশ নিলেন যুগান্তর স্বজন সমাবেশের বিভাগীয় প্রধান হিমেল চৌধুরী, মেরিনা মমতাজ সিমি, মুনতাসির আহমেদ তূর্য, গাজীপুর যুগান্তর প্রতিনিধি মো. আমিনুল ইসলাম, ইত্তেফাক প্রতিনিধি মো. মুজিবুর রহমান। গৌরীপুর স্বজনদের সঙ্গে কুশলবিনিময় শেষে শুরু হল আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। প্রিয় লেখক কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের করবে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন গৌরীপুর ইসলামাবাদ সিনিয়র মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. এমদাদুল হক। স্বজনদের চিকিৎসা নিয়ে বারবার উৎকণ্ঠায় ছিলেন স্বজন মেডিকেল টিম প্রধান ডা. একেএম মাহফুজুল হক। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ভিজে হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওনের সঙ্গে ফটোসেশনেও অংশ নেন স্বজনরা।

এরপরই স্বজনরা নুহাশ পল্লীতে ছড়িয়ে পড়েন শানবাঁধা ঘাটে অপরূপ বাংলো ‘ভূত বিলাস’, বৃষ্টি বিলাস, শুটিং স্পট, মৎস্য কন্যা, দীঘি লীলাবতী, কেউ ওঠে পড়েন শিশুদের দোলনাতেও। স্মৃতিময় দাবা বোর্ডেও ছিল স্বজনদের কলধ্বনি। অনুষ্ঠানজুড়ে স্বজনদের চোখ ছিল খুদে স্বজন রিফাহ তাসনিয়া তরী, রৌজা ও বৃন্দা ঘোষের দিকে।

দুপুর ১২টায় নুহাশ পল্লীর দ্বীপে শুরু হয় ‘হুমায়ূন আহমেদ ও গৌরীপুর জংশন’ শীর্ষক আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গৌরীপুর পৌর স্বজন সমাবেশের সভাপতি শ্যামল ঘোষ। সঞ্চালক স্বজন উপদেষ্টা মো. রইছ উদ্দিন বলেন, গৌরীপুর জংশনের বাস্তবতাকে সাহিত্যে ঠাঁই দেন হুমায়ূন আহমেদ। ভালোবাসা, মায়া, দুঃখ-কষ্টের সঙ্গে শঠতা, দুর্নীতি, বিশ্বাসঘাতকতা নিয়েই ‘গৌরীপুর জংশন’ উপন্যাস লিখেন আশির দশকের শেষ ভাগে। গৌরীপুর লেখক সংঘের সাধারণ সম্পাদক পলাশ মাজহার বলেন, তার সৃষ্টিশীল কর্ম, তারুণ্যকে বইয়ের দিকে নিয়ে আসার যে অসম্ভব একটি স্রোত শুরু হয়েছিল সেই স্রোতধারা নতুন প্রজন্মের কাছেও পৌঁছে দিতে হবে। শিক্ষক মো. আবদুল মালেক বলেন, হুমায়ূন আহমেদ গৌরীপুর জংশনকে দিয়ে সারা দেশের জংশনের চিত্র বলে দিয়ে গেছেন। সেই চিত্র এখন পুরোপুরি বদলায়নি। তা এখন শোধরানো প্রয়োজন।

আলোচনায় অংশ নেন ইসলামাবাদ সিনিয়র মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. এমদাদুল হক, সহকারী শিক্ষক মো. ইদ্রিস আলী, আবদুল কাদির, চাঁদের হাটের সঙ্গীতশিল্পী আমিরুল মোমেনীন, গোপা দাস, চায়না রানী সরকার, গৌরীপুর মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ বেগম, গৌরীপুর উপজেলা স্বজন সমাবেশের সহসভাপতি ও মেডিকেল টিম প্রধান ডা. একেএম মাহফুজুল হক, কবি শামীমা খানম মীনা, প্রতিভা মডেল স্কুলের সহকারী শিক্ষক হোমায়রা শাহরিন তুলি, স্বজন আরিফ আহাম্মেদ, সাদ্দাম হোসেন, শামছুজ্জামান আরিফ, আনোয়ার হোসেন শরীফ, মাহমুদুর রহমান প্রিজম ফকির, শামীম আনোয়ার, সোমা ঘোষ, পারভীন আক্তার, রোকাইয়া বিনতে এমদাদ, এহসানুল হক জারিফ, জাহাঙ্গীর আলম শান্ত, সানজানা তাসনিম তারিন, ইলা, মিলি, মাহমুদা আক্তার সিমু, ফয়জুন নাহার লিয়া, আফরোজা আক্তার মিলি প্রমুখ।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত