আবু বাসার আখন্দ, মাগুরা    |    
প্রকাশ : ০৯ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চান গিনেস রেকর্ডধারী হালিম

গিনেস রেকর্ড বুকে দু’বার নাম তুলেছেন। আরও একটি রেকর্ডের দোরগোড়ায় মাগুরার আবদুল হালিম। এবার মাথায় বল নিয়ে সাইকেলে চড়ে ১৩.৭৪ কিলোমিটার পাড়ি দেন। তিন-তিনটি বিশ্ব রেকর্ডের মালিক বনেতে যাওয়া হালিম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ প্রার্থী। তার কথায়, ‘দুটি বিশ্ব রেকর্ড গড়েছি। আরও একটি স্বীকৃতির পথে। অথচ একটিবার প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেলাম না। আমার খুব ইচ্ছা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে একটু ডাকুন। আমি উনার কাছে গিয়ে কিছু কথা বলব।’

মাগুরার শালিখা উপজেলার অজপাড়াগাঁ ছয়ঘরিয়া। সেই গ্রামের সাধারণ কৃষক সানাউল্লাহ পাটোয়ারির ছেলে আবদুল হালিম। অস্বচ্ছল পরিবারের বড় সন্তান তিনি। বাবার ইচ্ছে ছিল লেখাপড়া শিখে একদিন বড় মানুষ হবে ছেলে। কিন্তু গ্রামের স্কুল বেঞ্চের সঙ্গে তার কোনোই সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। সুযোগ পেলেই জানালা দিয়ে বেরিয়ে গেছেন মাঠে। সারা দিন ফুটবল। ফুটবলই যেন ছিল তার ধ্যান-জ্ঞান।

সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান হালিম লেখাপড়া ভুলে সারা দিন ফুটবল নিয়ে পড়ে থাকলেও বড় ফুটবলার হতে পারেননি। তবে ফুটবলকে পোষ মানিয়েছেন। ফুটবলকে আশ্চর্যজনকভাবে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তার। যে গুণাবলির কারণে ২০১১ সালে প্রথম তিনি বিশ্বরেকর্ড করেন। সেটি ছিল ২ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট নিরবচ্ছিন্নভাবে মাথায় ফুটবল নিয়ে ১৫ দশমিক ২০ কিলোমিটার পথ হেঁটে চলা। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তার সেই প্রচেষ্টা সফল হয়। পান গিনেস বুকে রেকর্ডধারীর সম্মান। চার বছর পর ২৭ দশমিক ৬৬ মিনিটে ১৩০ মিটার রোলার স্কেটিং। এই দুটি নৈপুণ্যের কারণে তিনি দু’বার বিশ্ব রেকর্ড করে গিনেস বুকে নাম লেখান।

মাগুরার অজপাড়াগাঁয়ের আবদুল হালিমের মতো এমন কৃতিত্ব এশিয়ায় আর কারও নেই। এ কৃতিত্ব তাকে এশিয়ার মধ্যে বিশেষ একজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কিন্তু এখানেই থেমে থাকেননি আবদুল হালিম। অভাবের সংসার। স্থায়ী কোনো আয়ের উৎস নেই। সংসারে দুটি ছেলে পড়াশোনা করছে। তাদের ভরণ-পোষণের চিন্তাও তাকে অধ্যবসায় থেকে দূরে রাখতে পারেনি। তাই তো তার অধ্যবসায় আর নিষ্ঠা তৃতীয়বারের মতো তাকে বিশ্ব স্বীকৃতি অর্জনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।

ইতিমধ্যে গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ থেকে তার ক্রীড়াশৈলী ক্যামেরাবন্ধীও করেছে বলে জানান আবদুল হালিম। আবদুল হালিমের সঙ্গে গ্রামের বাড়ি শালিখার ছয়ঘরিয়া গ্রামের রাস্তায়ই দেখা মেলে। গ্রামের ছোট্ট বাজারের রাস্তায় ছয়-ছয়টি ফুটবল নিয়ে শিশুদের খেলা দেখাচ্ছেন তিনি। আবার খেলা শেষে বাড়ি ফিরে যান মাথায় ফুটবল নিয়ে বাইসাইকেল চালিয়েই।

হালিমের কথায়, ‘ফুটবলই আমার ভালোবাসা। সেই ভালোবাসাকেই পুঁজি করে আমি এত দূর এসেছি। ফুটবল আমার কথা শোনে। যার কারণে বিশ্ব স্বীকৃতি পেয়েছি দু’বার। গিনেস কর্তৃপক্ষ সনদ দিলেও তারা এর জন্যে নগদ কোনো অর্থ দেয় না।’ তবে দুটি রেকর্ড গড়েও দেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পাননি এখনও। এ নিয়েই আক্ষেপ হালিমের। তার কথায়, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চাই। একবার যদি তিনি আমাকে সাক্ষাৎ দেন, তাহলে ভবিষ্যতে এমন বিশেষ ক্যাটাগরিতে অনেকেই রেকর্ড গড়তে আগ্রহী হয়ে উঠবে।’ ১৬ এপ্রিল আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩৩৯ জন ক্রীড়াবিদকে সংবর্ধনা ও আর্থিক পুরস্কার দিয়েছেন। কিন্তু বিশ্ব রেকর্ড গড়েও তা পাননি হালিম।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত