স্পোর্টস রিপোর্টার    |    
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
ষষ্ঠ হয়েই সন্তুষ্ট বাংলাদেশ!

পঞ্চমের হাতছানি ছিল। কিন্তু তা হয়নি। এশিয়া কাপ হকিতে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য পূরণই হল বংলাদেশের। ষষ্ঠ হয়েই টুর্নামেন্ট শেষ করল জিমি, চয়নরা। শুক্রবার মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থান নির্ধারণী ম্যাচে স্বাগতিকদের ০-৪ গোলে হারায় জাপান।

কাল সকাল থেকেই ছিল প্রবল বৃষ্টি। তাই নির্ধারিত সময়ে হয়নি চীন এবং ওমানের মধ্যকার সপ্তম ও অষ্টম স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি। যা টার্ফে গড়ায় রাত সাড়ে ৮টায়। একই বাধায় বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার ম্যাচ গড়ানো নিয়ে ধন্ধে ছিলেন এশিয়ান হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তারাও। তবে ৪০ মিনিট দেরিতে হলেও ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচে শুরুতে বলের নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও গোলের সুযোগ বেশি তৈরি করে জাপান। ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। আক্রমণভাগও তেমন সুবিধা করতে পারেনি। এমনকি পেনাল্টি কর্নার (পিসি) থেকেও গোল আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছেন চয়ন। যার ফলে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে জিমি বাহিনীকে। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে জাপানের পাওয়া প্রথম পিসি ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলকিপার আবু সাইদ নিপ্পন। প্রথম কোয়ার্টারের শেষ দিকে জাপানের কিতাজাতো কেন্তির হিট বাইরে দিয়ে যায়। গ্রুপপর্বে বাংলাদেশকে ৩-১ গোলে হারানো জাপান দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শুরুতে পাওয়া পিসি কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায়। প্রথম হিট ফেরার পর ইয়ামাদা সোতার ফিরতি হিট গোললাইনে থাকা ডিফেন্ডার মামুনুর রহমান চয়নের পাশ দিয়ে ঠিকানা খুঁজে পায় (১-০)। ভুল পাসে ভরা বাংলাদেশের খেলাতে কোনো প্রাণ ছিল না। বলার মতো কোনো আক্রমণও শানাতে পারছিল না স্বাগতিকরা। ৩৮ মিনিটে মুরাতা কাজুমার রিভার্সহিট ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলকিপার। চীনের বিপক্ষে তৃতীয় কোয়ার্টার পর্যন্ত ৩-১ গোলে পিছিয়ে ছিল জিমি-চয়নরা। শেষ কোয়ার্টার দারুণভাবে ঘুড়ে দাঁড়িয়ে ম্যাচটিই জিতে নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু কাল পারেননি কোচ মাহবুব হারুনের শিষ্যরা। ১-০তে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। উল্টো চতুর্থ কোয়ার্টারে তিন গোল হজম করে হারের ব্যবধানই বাড়িয়েছে। এ কোয়ার্টারে ম্যাচের একমাত্র পিসি পেয়েও তা থেকে গোল আদায় করতে পারেনি স্বাগতিকরা। চতুর্থ কোয়ার্টারের শুরুতে তানজি তানাকার বাড়ানো বলে কেনজির হিট ঠিকান খুঁজে পায় (২-০)। ৪৯ মিনিটে কাজুমার ফ্রিহিটে নিশানা খুঁজে পেলে জাপানের ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০তে। ৫২ মিনিটে তানাকার শট নিপ্পন ফিরিয়ে দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ওই তানাকাই বাংলাদেশের জালে হারের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন (৪-০)। এর মধ্য দিয়ে শেষ হল বাংলাদেশের দশম এশিয়া কাপ মিশন।

ফের আজ ভারতপাকিস্তানের দ্বৈরথ

ফাইনাল নয়। তার আগেই এশিয়া কাপে দু’বার লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তানকে। গ্রুপ পর্বের পর এবার সুপার ফোরে ফের আজ দেখা হচ্ছে এশিয়ার অন্যতম জায়ান্ট এ দু’দলের। তবে টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ভারত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ড্র করলে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনাল খেলবে ভারত। অন্যদিকে পাকিস্তানকে ফাইনাল খেলতে হলে জয়ের কোনো বিকল্প নেই। শুধু জয় নয়, বড় ব্যবধানেই জিততে হবে। তাই জয় পেতে মরিয়া পাকিস্তানের অধিনায়ক মো. ইরফান। তার কথায়, ‘গ্রুপ পর্বে ভারতের কাছে হেরেছি (১-৩)। এ ম্যাচে আমাদের জিততেই হবে। ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে খেলতে চাই। গোল করতে পারলে আমাদের জেতা অসম্ভব নয়।’ ভারতের অধিনায়ক মানপ্রিত সিংয়ের কথা, ‘পাকিস্তানের ম্যাচটি আমাদের কাছে অন্য আর দশটা ম্যাচের মতোই। ফাইনালের চিন্তা এখনও মাথায় আনিনি। সুপার ফোরেও পাকিস্তানকে হারাতে চাই।’

দিনের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়া ও কোরিয়া দু’দলেরই সম্ভাবনা রয়েছে ফাইনাল খেলার। কোরিয়া জিতলে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে সহজেই ফাইনালে খেলবে। ড্র হলে সম্ভাবনা থাকবে মালয়েশিয়ার। মালয়েশিয়ার তখন চার পয়েন্ট হবে। পাকিস্তান ভারতকে হারালে তখন ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া চার দলেরই সমান চার পয়েন্ট হবে। সে ক্ষেত্রে গোল ব্যবধানের হিসাব কষা হবে। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা দু’দলই খেলবে এশিয়া কাপের ফাইনাল। গোল ব্যবধানেও সমান হলে তখন যে দু’দল কম গোল হজম করেছে সেই দু’দল ফাইনাল খেলবে। গোল ব্যবধানের হিসাবে অবশ্য পিছিয়ে রয়েছে মালয়েশিয়া। তাদের গোল ব্যবধান-৩, পাকিস্তানের-১। মালয়েশিয়াকে ফাইনাল খেলতে হলে আজ বেশি ব্যবধানে জিততে হবে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত