ডা. আবু সাঈদ শিমুল    |    
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
জিকার ভয়ে কেউ সন্তান নিচ্ছে না!

রেজিস্ট্রার, শিশু বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

জিকার ভয়ে অনেক মহিলাই সন্তান নিচ্ছেন না! শুধু মায়েরা নয় সরকারও ভয়ে আছে, কখন কি হয়! তাই সরকারিভাবে নিষেধ করা হচ্ছে- এখন গর্ভধারণ না করার জন্য। ব্রাজিলে তো সেনাবাহিনীই নেমে গেছে জিকা প্রতিরোধে। এমন প্রতাপশালী জিকা একটি ভাইরাসের নাম। এ ভাইরাসের কারণে সবারই কিছু না কিছু ক্ষতি হলেও সব চেয়ে মারাত্মক জটিলতা হয় গর্ভস্থ শিশুর। এ রোগে গর্ভস্থ শিশুর ‘মাইক্রোসেফালি’ হয় অর্থাৎ মাথা বা মগজ ছোট হয়। ফলে মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশ হয় না। এসব বাচ্চার মোটর ডিলে বা হাঁটতে বসতে সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া কথা বলা, কানে শোনা, চোখে দেখাসহ বুদ্ধির ঘাটতি হবে। যাকে ডাক্তারি ভাষায় সেরিব্রাল পালসি বা সিপি আর সাধারণ মানুষ বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বলে। এছাড়া বড়দের শরীর অবশ হয়ে যাওয়া বা জিবিএস রোগ হতে পারে।

নামকরণের ইতিহাস : ১৯৪৭ সালে উগান্ডার জিকা অরণ্যে এটি প্রথম শনাক্ত করা হয়েছিল বলে এই ভাইরাসের নাম জিকা ভাইরাস।

কীভাবে এ রোগ হয় : আক্রান্ত এলাকা- ব্রাজিল, কলম্বিয়াসহ ল্যাটিন আমেরিকা, কেরিবিয়ান অঞ্চল ইত্যাদি এলাকায় ভ্রমণ করলে এ রোগ হতে পারে। এডিস মশার মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়।

রোগের লক্ষণ : যারা ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে আক্রান্ত এলাকায় ভ্রমণ করেছেন তাদের যদি জ্বরের সঙ্গে নিচের যে কোনো দুইটি লক্ষণ দেখা দেয় তবে দ্রুত পরীক্ষা করতে হবে

* শরীরে লালচে দানা বা র‌্যাশ

* গিরা বা হাড়ে ব্যথা

* চোখ দিয়ে পানি পড়া বা কনজাইটিভাইটিস।

মায়ের পেটে আলট্রাসনোগ্রাম করে যদি দেখা যায় যে বাচ্চার মাথা ছোট কিংবা কেলসিফিকেশন বা কালো দাগ তবে মায়েদের রক্ত পরীক্ষা করে দেখতে হবে এ রোগ হয়েছে কিনা।

শতকরা আশি ভাগ মানুষেরই এ জীবাণু আক্রমণ করার পরও কোনো ক্ষতি হয় না এবং লক্ষণও প্রকাশ পায় না। গর্ভবতী মহিলারা আক্রান্ত হলে গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্কের ক্ষতি হয় এবং এটাই ভয়ের কারণ।

চিকিৎসা : এ রোগের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। চিকিৎসা লাগেও না। জ্বরের জন্য পেরাসিটামল ও বেশি করে পানি ও তরল খেতে হবে। বাচ্চা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হয়ে গেলে তারও চিকিৎসা নেই। সে ক্ষেত্রে লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হয়।

প্রতিরোধ : এ রোগের কোনো টিকা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। আক্রান্ত এলাকায় ভ্রমণ করলে দিনের বেলায় ফুল হাতা শার্ট পরা উচিত। গায়ে মশারোধী ক্রিম মাখতে পারেন। এ মশা যেহেতু দিনে কামড়ায় তাই দিনে ঘুমালেও মশারি টানানো উচিত। মশারোধী কেমিকেলযুক্ত মশারি টাঙালে সবচেয়ে ভালো। আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশারির ভেতর আলাদা রাখতে হবে। বাড়ির আশপাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখা, টব, টায়ার, ফুলদানি ইত্যাদিতে যেন পানি না জমে অর্থাৎ ডেঙ্গু প্রতিরোধে যা করা হয় তাই করতে হবে।

করণীয় : ইন্টারনেটের কল্যাণে এখন তথ্য সবার কাছে দ্রুতই পেঁৗঁছে যাচ্ছে। এর ফলে অনেকে বাংলাদেশে জিকা ভাইরাসের আবির্ভাব হবে কিনা তা নিয়ে আতংকিত। অনেকে এ রোগের লক্ষণের সঙ্গে নিজের লক্ষণ মিলিয়ে অহেতুক দুশ্চিন্তা করেন। যদিও এখনো শুরু হয়নি কিন্তু অতীতের অন্যান্য রোগের মতো দেখা যাবে, যারা বেশি সচেতন তারা হয়তো আইইডিসিআর- এ অহেতুক ধর্না দেবেন। সবার মনে রাখা উচিত এ মুহূর্তে আমরা এ রোগের ঝুঁকিতে নেই। তাই বলে সরকার বা আইইডিসিআর হাত গুটিয়ে বসে আছে তা ভাবারও কোনো কারণ নেই। আতংকজনক কিছু হলে সে সময় কী করণীয় তাও জানিয়ে দেয়া হবে সেই সঙ্গে কোথায় পরীক্ষা করতে হবে এবং কাদের করতে হবে তাও বলা হবে।

তাই এ মুহূর্তে আতংকিত না হয়ে বা আতংক না ছড়িয়ে আমাদের করণীয় হল ওইসব দেশে ভ্রমণে সতর্ক থাকা। গর্ভবতী মহিলা বা যারা কিছুদিনের মধ্যে গর্ভধারণ করতে চান তাদের ওইসব দেশে যাওয়া একেবারেই উচিত নয়।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত