ডা. মো. ফারুক হোসেন    |    
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
জিহ্বা যখন মানচিত্র!

বিশ্বের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৩ ভাগ মানুষের মাঝে জিওগ্রাফিক টাং বা জিহ্বা দেখতে পাওয়া যায়। জিওগ্রাফিক টাং হঠাৎ করে দেখলে মানচিত্রের মতো মনে হতে পারে। জিওগ্রাফিক জিহ্বা ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের ক্ষেত্রে বেশি দেখতে পাওয়া যায়। জিওগ্রাফিক টাং বা জিহ্বাকে বিনাইন মাইগ্রেটরি গ্লসাইটিসও বলা হয়। শুধু তাই নয় জিওগ্রাফিক টাং বা জিহ্বা কন্টিনেন্টাল জিহ্বা নামেও পরিচিত। আকাশ সংস্কৃতির যুগে ছোট-বড় সবারই জিওগ্রাফিক চ্যানেল দেখতে ভালো লাগে। কিন্তু মানুষের জিওগ্রাফিক টাং বা জিহ্বা দেখতে কারোরই ভালো লাগার কথা নয়, আর রোগীর ক্ষেত্রে তা এক বিড়ম্বনাকর অনুভূতি। জিওগ্রাফিক টাং বা জিহ্বা বলা হয় এ কারণেই যে এ অবস্থায় জিহ্বাকে ম্যাপ বা মানচিত্রের মতো দেখা যায়। ভেবে দেখুন আপনার জিহ্বা যদি মানচিত্রের মতো দেখা যায় তাহলে আপনার কেমন লাগবে? আর আপনার পাশে থাকা প্রিয়জনের মনের অবস্থা কেমন হবে?

জিওগ্রাফিক টাং এ জিহ্বার উপরিভাগে লাল বর্ণের প্যাঁচ বা দাগ দেখা যায়, পাশে ধূসর সাদা বর্ডার দেখতে পাওয়া যায়। জিহ্বার প্যাপিলা লাল বর্ণের স্থানে দেখা যায় না। ধূসর সাদা বর্ডারের ওপর বেশি দেখা যায়। জিওগ্রাফিক টাংয়ের অবস্থা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভালো হয়ে যায়। কিন্তু নতুন করে দেখা যায় এবং কয়েক ঘণ্টা বা দিনের মধ্যেই জিহ্বায় ম্যাপ এর মতো আকৃতি পরিবর্তন হয়ে যায়। এ কারণেই একে বিনাইন মাইগ্রেটরি গ্লসাইটিস বলা হয়।

জিওগ্রাফিক টাং বা জিহ্বার কারণ : জিওগ্রাফিক টাংয়ের কারণ এখনও সুনির্দিষ্টভাবে নির্ণয় করা যায়নি। অনেক জিনের কারণে জিওগ্রাফিক টাং হয়ে থাকে। যাদের পরিবেশগত সংবেদনশীলতা বেশি তাদের ক্ষেত্রে জিওগ্রাফিক টাং বা জিহ্বার সৃষ্টি হতে পারে। পরিবেশগত সংবেদনশীলতার মধ্যে রয়েছে ক. অ্যাজমা খ. অ্যালার্জি গ. অ্যাকজিমা। যাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল তাদের জিওগ্রাফিক টাং হওয়ার আশংকা বেশি। ভিটামিন বি এর অভাবের কারণেও জিওগ্রাফিক টাং হতে পারে। অনেকের মতে মানসিক চাপ থেকেও এমনটি হতে পারে। যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের সাধারণ মানুষের চেয়ে ৪ গুণ বেশি সম্ভাবনা থাকে এ রোগ হওয়ার ক্ষেত্রে। জিওগ্রাফিক টাং বা জিহ্বা ধারণকারী মেয়েদের মধ্যে যারা জন্ম নিরোধক বড়ি সেবন করেন তাদের ক্ষেত্রে সেবনকালীন সময়ের ১৭তম দিনে জিওগ্রাফিক টাং সবচেয়ে খারাপ রূপ ধারণ করে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, হরমোনের পরিমাণ জিওগ্রাফিক টাংয়ের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। মানচিত্র জিহ্বার কারণে জিহ্বার ফিলিফরম প্যাপিলা দেখা নাও যেতে পারে।

মানচিত্র জিহ্বার লক্ষণ : সাধারণত কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষণ থাকে না। কিছু রোগী মসলা বা ঝাল জাতীয় খাবার গ্রহণ করে জ্বালা পোড়ার অভিযোগ করে থাকেন। এলকোহল, তামাক পাতা, কিছু টুথপেস্ট এবং মাউথওয়াশ জিওগ্রাফিক টাংয়ের অবস্থা খারাপ করতে পারে।

মানচিত্র জিহ্বার চিকিৎসা : জিওগ্রাফিক টাং বা কন্টিনেন্টাল জিহ্বার সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। রোগীদের বেশি গরম বা ঠাণ্ডা খাবার গ্রহণ করা ঠিক নয়। অতিরিক্ত মসলা জাতীয় খাবার পরিহার করা উচিত। খাদ্য তালিকায় কিছু পরিবর্তন ও সংযোজন এনে অবস্থার অনেক উন্নতি সাধন করা সম্ভব। জিওগ্রাফিক টাং বা জিহ্বার চিকিৎসা রোগের কারণ ও ধরন অনুযায়ী প্রদান করতে হয়। অনুমানের ওপর কোনো চিকিৎসা প্রদান করলে জিওগ্রাফিক টাং বা জিহ্বার অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়ে থাকে। রোগের কারণে রোগীর বিড়ম্বনার অনুভূতির কার্যকর চিকিৎসা এখন আমাদের দেশেই সম্ভব।

লেখক : মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ, ইমপ্রেস ওরাল কেয়ার, বর্ণমালা সড়ক, ইব্রাহিমপুর, ঢাকা।

[email protected]




 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত