প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৫:৫৯:৫১ প্রিন্ট
সৌদি নেতৃত্বের ইসলামী সামরিক জোট নিয়ে সংশয় ও শংকা
মেজর জেনারেল মো. আব্দুর রশীদ (অব.)

কোনোরকম পূর্ব ইঙ্গিত ছাড়া ৩৪ জাতিকে অন্তর্ভুক্ত করে সন্ত্রাসবিরোধী ইসলামী সামরিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়ে সৌদি আরব বিশ্বকে একটি চমক দিয়েছে। ৩৪টি মুসলিম দেশ সন্ত্রাস দমনের জন্য সামরিক জোট গঠন করতে সম্মত হয়েছে এই মর্মে সৌদি আরব গত ১৫ ডিসেম্বর ঘোষণা দেয়। সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম ফলাও করে এ খবর প্রথম প্রকাশ করে। বলা হয়, ইসলামে দুর্নীতি ও ধ্বংস নিষিদ্ধ। সন্ত্রাসবাদ মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকারের চরম লংঘন, বিশেষ করে মানুষের বাঁচার অধিকার ও নিরাপত্তার অধিকারের।
সৌদি আরবের ৩০ বছর বয়সী উপ-যুবরাজ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এক প্রেস কনফারেন্সে বলেন, জোটের কার্যক্রম শুধু আইএস দমনে সীমাবদ্ধ থাকবে না। জোটের যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সব মুসলিম দেশ এককভাবে যুদ্ধ করছে, তাই সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। সন্ত্রাসী সংগঠন যেটাই সামনে আসবে তার বিরুদ্ধে লড়বে জোট। জয়েন্ট অপারেশন সেন্টার সৌদি রাজধানী রিয়াদে স্থাপিত হবে। ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, মিসর ও আফগানিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ সমন্বয় করবে।

জোটের লক্ষ্য, গঠন প্রক্রিয়া, বিভিন্ন দেশের ভূমিকা, রসদ ব্যবস্থা, সর্বোপরি কমান্ড কাঠামো ও কৌশল নিয়ে বিশেষ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। জোটের সামরিক চরিত্রের অগঠিত অবয়ব সবচেয়ে বেশি সংশয় তৈরি করেছে। সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে তথ্য বিনিময়, প্রশিক্ষণ ও সমরসজ্জা এবং প্রয়োজনে সৈন্য সরবরাহের বিষয়গুলো সুগম করবে নতুন জোট- প্যারিস সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল জুবাইর। সদস্য দেশগুলো জোটের কাছে সাহায্যের অনুরোধ করবে, যা বিষয়ভিত্তিকভাবে বিবেচনা করা হবে। কাকে সাহায্য দেয়া হবে এবং কোথায় দেয়া হবে, তার সীমারেখা থাকবে না।
জোটে নাম থাকার ব্যাপারে অনেক দেশ তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের অজ্ঞতা ও বিস্ময় প্রকাশ করলেও কাউকেই এখন পর্যন্ত প্রত্যাখ্যান করতে দেখা যায়নি। বরং অনেকেই আনন্দের সঙ্গে একে স্বাগত জানিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা নতুন সামরিক জোটে সংখ্যার শক্তি থাকলেও বস্তুনিষ্ঠতার ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। তথ্যের অপ্রতুলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে জোটের প্রয়োজনীয়তা, এর উদ্ভব ও সৌদি উদ্যোগের কারণ খুঁজতে জনমনে অনেক প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া স্বচ্ছতার চেয়ে জল ঘোলা করেছে বেশি।
নতুন জোটে বাংলাদেশের নাম থাকার বিষয়টিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় নিশ্চিত করলেও জোটের সামরিক অংশে থাকবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও সেনা প্রেরণের বিষয়টি থেকেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা-সমালোচনার উৎপত্তি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে রিয়াদে যাবেন জোট ও বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনার জন্য। সামরিক জোটের অবয়ব স্পষ্ট না হওয়ায় বাংলাদেশী সেনা না পাঠানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অটুট থাকবে কি-না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
জোটে যোগ দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকার ছোট-বড় ৩৪টি মুসলিম দেশ। দেশগুলোর ভৌগোলিক আকার, অর্থনীতি, জনসংখ্যা, সামরিক শক্তি, সন্ত্রাসবাদের হুমকির মাত্রার ভিন্নতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ভৌগোলিক দূরত্ব ইত্যাদি ক্ষেত্রে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক বিরোধ এবং একটির সঙ্গে আরেকটির সম্পর্কের যে তারতম্য, তা জোটের সংহতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ছোট দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে মালদ্বীপ ও বাহরাইন। উপসাগরীয় কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত জোটে থাকলেও ওমানের জায়গা হয়নি। বেনিন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ না হয়েও জোটভুক্ত হয়েছে। রয়েছে বড় সামরিক শক্তির তুরস্ক ও মিসর, অপরদিকে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়া ও ইয়েমেন এবং সন্ত্রাসে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত মালি, চাঁদ, সোমালিয়া ও নাইজেরিয়া। জোটে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানের মতো সমরসক্ষম দেশ। আইএসের দখল থেকে মুক্ত হতে প্রাণপণ লড়াই করা সিরিয়া ও ইরাক জোটে জায়গা পায়নি। আফ্রিকার বড় দেশ আলজেরিয়া ডাক পায়নি। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিষ্ঠিত শক্তি ইরানকে নেয়া হয়নি বলে জোটের ধর্মীয় চরিত্র ইসলামী হলেও সুন্নিনির্ভরতা স্পষ্ট হয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাশিয়ার সমর্থনপুষ্ট ইরান, ইরাক ও সিরিয়াকে বাদ দিয়ে আইএস দমন যদি সম্ভব হয় তাহলে তা হবে এক বিস্ময়। রিয়াদ সব সময় ইরানকে আইএসের চেয়ে বড় বিপদ মনে করে। ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ইরানকেই বিবেচনা করা হয়। ইরান বাশার আল আসাদকে সামরিক ও আর্থিক সাহায্য দিচ্ছে, এমনকি ইরানপন্থী হিজবুল্লাহকে পাঠিয়ে সিরীয় বাহিনীকে মজবুত করেছে। সৌদি আরব ইরাক সরকারকে ইরানের পুতুল মনে করে। এটা পরিষ্কার হয়ে যায় সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেনারেল আহমাদ আসিরির মন্তব্যে। তিনি বলেছেন, ইরান ইচ্ছা করলে জোটে যোগ দিতে পারে, তবে তাকে সিরিয়া ও ইয়েমেনকে আঘাত করা থামাতে হবে এবং লেবানন ও ইরাকের সন্ত্রাসে সমর্থন জোগানো কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র নতুন জোট সম্পর্কে আগে থেকে কিছু জানত না। নতুন জোটে যুক্তরাষ্ট্র কী ভূমিকা পালন করবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। সৌদি আরবের মনে কী আছে, তা আরও জানতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, বলেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাস্টন কার্টার। ইনসারলিক বিমানঘাঁটি পরিদর্শনের সময় তিনি বলেন, সাধারণভাবে মনে হচ্ছে, আমরা কিছুদিন ধরে চাচ্ছিলাম সুন্নি আরব দেশগুলো আইএসবিরোধী অভিযানে আরও বেশি অংশ নিক এবং জোট সেদিকেই ঝুঁকেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বলেছেন, ইসলামী জোট মার্কিন নেতৃত্বের জোটের বিকল্প হবে না।
ওবামা প্রশাসন মনে করে, তুরস্ক তার সীমান্তের চোরাচালানের পথগুলো বন্ধ করার জন্য যথেষ্ট করছে না, বিশেষ করে ৬০ মাইল দীর্ঘ মানবিজ পকেট; ফলে সীমান্তের ফাঁক দিয়ে আইএস তার সরবরাহ সচল রেখেছে। অ্যাস্টন কার্টার শক্তভাবে বলেছেন, তুরস্ককে আরও বেশি করতে হবে। জোটের জন্য একটি জরুরি কাজ হবে তুরস্কের নিজস্ব সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ।
পরিশুদ্ধবাদী ইসলামের দাবিদার কট্টর সালাফি আকিদার সুন্নি জঙ্গি সংগঠন আইএসকে (আরবিতে দায়েস নামে পরিচিত) উৎখাত করতে সুন্নি দেশগুলোর ঐক্যের পক্ষে সৌদি উদ্যোগের জন্য আইএস এরই মধ্যে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে সৌদি সেনাদের রণক্ষেত্রে আসার আহ্বান জানিয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর রাজতন্ত্র উৎখাতে অঙ্গীকারবদ্ধ আইএস সৌদি আরব ও কুয়েতের শিয়া মসজিদ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সিরিজ হামলা করেছে। তুরস্ক, মিসর, জর্ডান, লিবিয়া ও লেবানন জোটকে স্বাগত জানিয়ে তাদের ভূমিকাকে নিশ্চিত করেছে। ইরান এ জোটকে ‘সেক্টারিয়ান’ বলে অভিযুক্ত করেছে। সেই সঙ্গে ওই অঞ্চলে জোট নিয়ে শিয়া-সুন্নি বিভেদ চাঙ্গা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে আধিপত্য নিয়ে ইরান ও সৌদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক পুরনো। ইরানকে পাশ কাটিয়ে সংঘাত নিরসন সম্ভব নয় বলে নিরাপত্তা বিশারদরা বিশ্বাস করেন। জন্মের পেছনে মার্কিন মেধা, কূটচাল ও অদৃশ্য পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে সৌদির প্রচ্ছন্ন সমর্থন আইএসকে শক্তিশালী করে দানবীয় রূপ দিয়েছে বলে অনেকে মনে করে।
মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে নতুন জোটে আঞ্চলিক শক্তির বাইরের দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে সেনাবাহিনী নামাতে আগ্রহী হবে না। আইএস দমনে সামরিক অগ্রগণ্যতা থাকলেও নানামুখী রাজনৈতিক কূটচাল সামরিক ধারকে ভোঁতা করে দিয়েছে। সৃষ্ট অবিশ্বাস ও অনাস্থা বন্ধু ও শত্র“র মধ্যে পার্থক্য বিলীন করে দিয়েছে। তুরস্ক একদিকে গোপনে তেল কিনে সমৃদ্ধ করছে আইএসকে, অপরদিকে খুলে রেখেছে আইএসের স্থল সরবরাহ পথ। জিহাদি তৎপরতা দমনের নামে পরিচালিত তুরস্কের বিমান আঘাত করছে কুর্দি বিদ্রোহীদের ঘাঁটিতে। অপরদিকে আসাদবিরোধী বাহিনীকে দেয়া মার্কিন অস্ত্র পৌঁছে যাচ্ছে আইএসের হাতে। তুরস্ক ও ইসরাইলি হাসপাতালে আহত আইএস যোদ্ধার চিকিৎসা চলছে। ইরাক ও সিরিয়া সৌদির প্রতিবেশী হলেও সীমান্ত এলাকায় আইএস নির্বিঘ্নে বাস করছে। মানবিক বিপর্যয়ের শিকার সিরীয় শরণার্থীদের কোনো জায়গা হয়নি সৌদি আরবে। সব মিলিয়ে ভূরাজনৈতিক স্বার্থের সংঘাত থেকে সংশ্লিষ্ট শক্তিগুলোর দৃশ্যমান ভূমিকা একরকম এবং অদৃশ্য ভূমিকা একেবারেই উল্টো। দানাবাঁধা আস্থা-অনাস্থা, বিশ্বাস ও অবিশ্বাস সমীকরণকে অত্যন্ত জটিল করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের সামরিক সংশ্লিষ্টতা সন্দেহাতীতভাবে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বৃহৎ সন্ত্রাসবিরোধী জোট এরই মধ্যে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। আইএস দমনে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ৬৫ জাতি জোট তৈরি হয়েছে। যেখানে রয়েছে সৌদি আরব, উপসাগরীয় দেশ, ন্যাটো সদস্যসহ আরও অনেক দেশ। এ জোটে যোগ দেয়ার অনুরোধ পেলেও বাংলাদেশ যোগ দেয়নি। এছাড়া সিরিয়ায় আইএসকে উৎখাত এবং আসাদ সরকারকে বাঁচানোর লক্ষ্যে রাশিয়া সামরিক অবস্থান অনেক শক্ত করেছে।
অপরদিকে ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে আরেকটি সামরিক জোট, যেখানে রয়েছে উপসাগরীয় দেশসহ মিসর। পাকিস্তান নিজস্ব শিয়া-সুন্নি রাজনৈতিক জটিলতার কারণে জোটে যোগ দেয়নি। উভয় জোট তাদের মূল ক্রিয়া বিমান আক্রমণে সীমাবদ্ধ রেখেছে; কিন্তু তা আইএস দমনে তেমন কোনো দৃশ্যমান প্রভাব রাখতে পারেনি। তাই নতুন সামরিক জোট পুরনো ধাঁচে চললে তা ফলদায়ক হবে না। সব জোটে একই আঞ্চলিক শক্তির অস্তিত্ব নতুন প্রভাব তৈরি করার সম্ভাবনা রাখে না।
শক্তি দিয়ে যে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, এটা কিছুটা স্বতঃসিদ্ধ। সামরিক সমাধানের পাশাপাশি রাজনৈতিক সমাধান খোঁজার উদ্যোগ পথ চলা শুরু করে অনেক আগেই। নতুন ইসলামী সামরিক জোট ঘোষণার তিন দিনের মাথায় গত ১৮ ডিসেম্বর সিরীয় শান্তি পরিকল্পনার আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন পায়। আসাদ প্রশ্নে বিপরীত মুখে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া সিরিয়ার বিবদমান দলগুলোকে সমঝোতায় এনে ছয় মাসের মধ্যে সংবিধানের খসড়া তৈরি করে ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠন করে স্থায়ী শান্তির পথ খুঁজে পেতে চেষ্টা করছে। ১৭ জাতির আন্তর্জাতিক সিরিয়া সাপোর্ট গ্রুপ সংঘাত নিরসনে কাজ আরম্ভ করবে আগামী বছরের শুরু থেকেই।
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমা মিত্রদের ছাড়া অন্য কাউকেই সামরিক শক্তি নিয়ে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। রণক্ষেত্রে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে একদিকে সরকারি বাহিনীগুলো, আবার রয়েছে সরকারবিরোধী বাহিনী, আইএস, আল কায়দাসহ আরও অনেক গোষ্ঠী। পরিধিবিহীন ও অসংজ্ঞায়িত রণক্ষেত্রে অঞ্চলের বাইরের সেনাবাহিনী খেই হারিয়ে ফেলতে মোটেই সময় নেবে না। আকাশে উড়ছে মার্কিন, রাশিয়া, সিরিয়া, তুরস্ক, ফ্রান্স, ব্রিটিশ, জার্মানিসহ অনেক দেশের যুদ্ধবিমান। সবাই আইএস দমনের আড়ালে যে যার শত্রু নিধনে ব্যস্ত। আঞ্চলিক দেশগুলোর স্বার্থের সংঘাতে শান্তি এরই মধ্যে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।
আইএসের বিরুদ্ধে আরব দেশের আরও বেশি করার আছে মর্মে মার্কিন প্রশাসনের সমালোচনার মুখে সৌদি উদ্যোগে এলো ইসলামী সামরিক জোট গঠনের ঘোষণা। ইসলামী বিশ্বের নেতা হিসেবে সৌদি আরবের নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার আকাক্সক্ষা অনেক দিনের। চলতি জোটের উদ্যোগ এ ব্যাপারে তাকে কিছু সুবিধা দিতে পারে। সামরিক জোট আল কায়দা ও আইএসের বিরুদ্ধে ইসলামী রাষ্ট্রের ঐক্য ঘটাতে পারে এবং আদর্শিকভাবে ইসলামী ওলামাদের মাঠে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করবে।
বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতা থেকে নতুন জোটের সাফল্য নিয়ে অনেক সংশয় তৈরি হয়েছে। সার্বিকভাবে ইসলামী সামরিক জোট ইসলামের নামে যে বিশ্বায়িত সন্ত্রাসের উদ্ভব ঘটেছে, তার যৌক্তিকতা ও গ্রহণযোগ্যতা কমাতে সক্ষম হবে। আইএস-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নতুন অপশক্তির উত্থান ও বিস্তার ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় সৈন্যের সংস্থান করার প্রক্রিয়া হিসেবেই এই জোট ভবিষ্যতে ফলপ্রসূ প্রভাব রাখবে। জোটের গঠন প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে গড়ে উঠবে এবং নতুন বাস্তবতায় যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তি নির্মাণে এই জোট অবদান রাখবে বলে ধরে নেয়া যায়।
মেজর জেনারেল মো. আব্দুর রশীদ (অব.) : স্ট্র্যাটেজি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক। নির্বাহী পরিচালক, ইন্সটিটিউট অব কনফ্লিক্ট, ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস (আই ক্লাডস)


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত