রীতা ভৌমিক    |    
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
আকাশে উড়লেন সেনাবাহিনীর দুই বৈমানিক নারী
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই নারী পাইলটের মধ্যে প্রথম মেজর নাজিয়া নুসরাত হোসেন ও দ্বিতীয় মেজর শাহ্রীনা বিনতে আনোয়ার। গত বছরের ২৮ অক্টোবর তারা সেসনা ১৫২ অ্যারোব্যাট প্রশিক্ষণ বিমানের মাধ্যমে একক ও দ্বৈত উড্ডয়ন সম্পন্ন করেন। ক্যাপ্টেন নাজিয়া নুসরাত হোসেন চলতি বছরের ১৮ জুন তার উড্ডয়ন দক্ষতা প্রমাণ করে প্রথম একক উড্ডয়ন সম্পন্ন করেন। ক্যাপ্টেন শাহ্রীনা বিনতে আনোয়ার ৩০ জুন প্রথম একক উড্ডয়ন সম্পন্ন করেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন
আর্মি এভিয়েশনে এয়ারক্রাফটের সামনে দাঁড়িয়ে মেজর নাজিয়া নুসরাত হোসেন ও মেজর শাহ্রীনা বিনতে আনোয়ার -ছবি : আর্মি এভিয়েশন

স্বপ্নের মতো লাগল : মেজর নাজিয়া নুসরাত হোসেন

প্রশিক্ষক কর্নেল আই কে এম মোস্তাহ সেনুল বাকি আমাকে বললেন, যাও, এখন তুমি একা যেতে পারবে। একটা ভয় কাজ করছিল মনের ভেতর, সঙ্গে উত্তেজনাও। স্যারকে জিজ্ঞেস করি, আমি যাব স্যার? স্যার বললেন, অবশ্যই। আমি এয়ারক্রাফট রানওয়েতে নিয়ে সোজা করি। আমি ভাবি, আমার সময় এখনই। আমি একাই উড়ব। আমার যে কাজগুলো প্রথমে করা দরকার তা সম্পন্ন করে আল্লাহর নামে টেকঅফ করলাম। আকাশে উড়তেই স্বপ্নের মতো লাগল। একটি এয়ারক্রাফট নিয়ে আমি একাই আকাশে উড়ছি। নিজের ওপর অন্যরকম আত্মবিশ্বাস তৈরি হল। বিশ মিনিটের মধ্যে সার্কিট শেষ করে যখন অবতরণ করলাম মনে হল আমি কাজটা পেরেছি। নামার পর আমার অনুভূতি প্রকাশ করার আগেই সবাই আমাকে অভিনন্দন জানাতে এগিয়ে এলেন। প্রথম আমিই একক উড্ডয়ন করলাম। স্যাররা আনন্দিত হলেন। অথচ প্রশিক্ষকের সঙ্গে একই জায়গা অনেকবার উড্ডয়ন করেছি। কিন্তু একক উড্ডয়নের এই অসাধারণ অনুভূতি আগে কখনও হয়নি। এয়ারক্রাফটে প্রথম একক উড্ডয়নের অনুভূতি এভাবেই প্রকাশ করলেন মেজর নাজিয়া নুসরাত হোসেন।

নাজিয়া নুসরাত হোসেন একক উড্ডয়নে জেনারেল ফ্লাইং, রাইট ফ্লাইং, ইনস্টুমেন্ট ফ্লাইং, নেভিগেশন ইত্যাদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। তার প্রথম প্রশিক্ষণ শুরু হয় প্রশিক্ষক লে. কর্নেল সোহেল রানার তত্ত্বাবধানে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লে. কর্নেল সোহেল রানা স্যার আমাকে বিদ্যালয়ে প্রথম আসা শিশুর মতো একক উড্ডয়নের ওপর পাঠ দেন। তিনি আমাকে হাতে-কলমে শিখিয়েছেন। তার সহযোগিতায় সফলভাবে একক উড্ডয়ন সম্পন্ন করি। লে. কর্নেল মো. আনোয়ার হোসেন, লে. কর্নেল শেখ খসরু সাব্বির আলী, লে. কর্নেল হাসান মোহাম্মদ শাহরিয়ার চৌধুরী একক উড্ডয়ন সম্পন্ন করার আগে আমাকে প্রশিক্ষণ দেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে নাজিয়া নুসরাত জানান, আর্মি এভিয়েশনে তিনি তার ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে আগ্রহী। তাই তিনি এভিয়েশন বেসিক কোর্স শেষে আরও পড়াশোনা করতে চান। একই সঙ্গে ফ্লাইং করতে ইচ্ছুক।

নাজিয়া নুসরাত হোসেনের জন্ম ১৯৮৯ সালের ২৮ নভেম্বর ঢাকায়। তার পৈতৃক বাড়ি ফরিদপুরে। তার বাবা মো. মোশাররফ হোসেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব। মা লায়লা আক্তার বানু গৃহিণী। এক ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি বড়। বাবার বদলির চাকরির সুবাদে তার শৈশব কাটে দেশের বিভিন্ন জেলায়, সিলেটের জৈন্তাপুর, মৌলভীবাজার, টাঙ্গাইল, বরিশাল, পিরোজপুর, ঢাকা। ঢাকার মতিঝিল গভঃ গালর্স হাইস্কুল থেকে ২০০৫ সালে এসএসসি, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০০৭ সালে এইচএসসি পাস করেন। তার মায়ের ইচ্ছা মেয়ে একটি ইউনিফর্ম পরবে। মায়ের ইচ্ছাকে সম্মান জানাতে নাজিয়া নুসরাত পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মকর্তা পদে আবেদন করেন। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে মৌখিক এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০০৮ সালের ৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে যোগদান করেন। বিএমএ ট্রেনিং এর পাশাপাশি মিলিটারি ইন্সটিটিউট অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির তত্ত্বাবধানে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং লেভেল-১ সম্পন্ন করেন। ২০১০ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন পান। এরপর ইঞ্জিনিয়ারিং অফিসার বেসিক কোর্স, অফিসার্স উইপন কোর্স, ইউনাইটেড ন্যাশনস লজিস্টিকস কোর্স, জুনিয়র কমান্ড এবং স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন। ২০১৩ সালের ১১ অক্টোবর মেজর মাহমুদুর রহমানে সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

ছয় বছর বয়সে তার সঙ্গীত চর্চা শুরু। টাঙ্গাইল এবং পরে বরিশালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমীতে রবীন্দ্রসঙ্গীত, দেশাত্মবোধক গানের তালিম নেন। জেলা পর্যায়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম পুরস্কার পান। ছেলেবেলায় খেলাধুলার প্রতি তার প্রচণ্ড ঝোঁক ছিল। বিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা দৌড়, লং জাম্পে অংশ নিয়ে পেয়েছেন অনেক পুরস্কার। বৈমানিক হওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের সহযোগিতা সম্পর্কে নাজিয়া নুসরাত বলেন, বাবা-মায়ের কাছেই শৃংখলার প্রথম পাঠ গ্রহণ করি। আমার শ্বশুর মেজর ওবায়দুর রহমান (অব.) আমাকে আর্মি এভিয়েশনে যোগদানে উৎসাহ দেন। স্বামীর কাছ থেকেও সব সময় সহযোগিতা পাচ্ছি। কাজের অনেক ব্যাপারে ওর সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিই।

তরুণ প্রজন্মের মেয়েদের জন্য নাজিয়া নুসরাত হোসেন বলেন, মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। কারণ জ্ঞান একজন মানুষকে সচরাচর গণ্ডির বাইরে চিন্তা করতে সাহায্য করে। তার স্বপ্ন দেখার পথ খুলে দেয়। স্বপ্ন পূরণে তাই দরকার প্রকৃত শিক্ষা, দৃঢ় লক্ষ্য, কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য সাহস।

আমিও উড়ন্ত পাখি : মেজর শাহ্রীনা বিনতে আনোয়ার

প্রথম যেদিন একক উড্ডয়ন করি সেদিন আমার একক উড্ডয়নের পরীক্ষা নেন কর্নেল আই কে এম মোস্তাহ সেনুল বাকি স্যার। তিনি আমাকে একা ছেড়ে দিয়ে বললেন, ‘তুমি প্রস্তুত, তুমি উড্ডয়ন করতে পারবে। বেস্ট অফ লাক।’ সে সময় লে. কর্নেল মো. আনোয়ার হোসেন স্যার ছুটে এসে বললেন, ‘তুমি উড্ডয়ন করো। আমি নিচ থেকে তোমার উড্ডয়ন দেখছি। তুমি ভয় পেয়ো না। তুমি নিচে নেমে আসবে সফলতার সঙ্গে। মেঘ দেখলে ভয় পাবে না। পাখি এড়িয়ে আসবে। এতদিন যা যা শিখিয়েছি তোমার বিচক্ষণতার দ্বারা তুমি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে। ’ এয়ারক্রাফটের ককপিটের আসনে বসলাম, কন্ট্রোল কলাম হাতে ইঞ্জিনে হাত রাখলাম। এক বিস্ময়কর অনুভূতি হল। একটু ভয়, একটু আনন্দ মিশ্র এক অনুভূতি নিয়ে সেসনা ১৫২ অ্যারোব্যাট নিয়ে আকাশে উড়লাম। মনে হল, আকাশের বুকে আমিও একটি উড়ন্ত পাখি। ত্রিশ মিনিট উড্ডয়নের পর মাটিতে অবতরণ করলাম। ভাবলাম, আমিও পেরেছি। অক্ষরে অক্ষরে আমি আমার প্রশিক্ষকের নির্দেশ পালন করেছি। আমি উড্ডয়ন সম্পন্ন করে অবতরণ করতেই আমার কমান্ডারসহ সবাই হাসি মুখে অভ্যর্থনা জানালেন। আমার সহ-প্রশিক্ষণার্থীরা আমাকে তুলে নিয়ে পুকুরে ফেলে দেন। আমাদের আর্মি এভিয়েশনের একটি ট্র্যাডিশন রয়েছে আমরা আমাদের সব ভয়কে পানিতে ধুয়ে মুছে জয় করে ফেলি। ছেলেবেলায় আমার ইচ্ছা ছিল আকাশে উড়ব। স্বপ্নটা এতোদিন মনের ভেতর লুকিয়ে ছিল। লুক্কায়িত স্বপ্নটা আজ পূরণ হল বললেন শাহ্রীনা বিনতে আনোয়ার (লিব্রা)।

কিভাবে আর্মি এভিয়েশনে আসার সুযোগ পেলেন জানতে চাইলে শাহ্রীনা বিনতে আনোয়ার জানান, ২০১৪ সালের প্রথম দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সার্কুলেশন হল সব অফিসার্স আর্মি এভিয়েশনে আবেদন করতে পারবেন। তবে বয়স ২৬ বছর এর মধ্যে থাকতে হবে। বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থী হতে হবে। গণিত বাধ্যতামূলক । আমি আবেদন করলাম। সার্কুলেশনের মাধ্যমে জানতে পারলাম আমি নির্বাচিত হয়েছি। বার জন আর্মি ক্যাপ্টেন নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আমরা দু’জন নারী সেনা কর্মকর্তা রয়েছি।

প্রশিক্ষণকালীন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে শাহ্রীনা বিনতে আনোয়ার বলেন, প্রত্যেককে ১২০ ঘণ্টার মৌলিক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। ১২০ ঘণ্টা উড্ডয়নের পাশাপাশি তাত্ত্বিক জ্ঞানের পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হতে হবে। বর্তমানে ৮০ ঘণ্টারও বেশি সময় উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছি। প্রশিক্ষক কর্নেল আই কে এম মোস্তাহ সেনুল বাকি, কর্নেল মো. মাহফুজুর রহমান, মেজর সৈয়দ ফোরকান উদ্দিন, মেজর একেএম সারওয়ার হায়দার, লে. কর্নেল মো. আনোয়ার হোসেন, লে. কর্নেল শেখ খসরু সাব্বির আলী, লে. কর্নেল হাসান মোহাম্মদ শাহরিয়ার চৌধুরী, লে. কর্নেল সোহেল রানা আমাকে প্রিসলো লেক, একক উড্ডয়ন, জেনারেল লেক, ন্যাভিগেশন লেক, ইনস্ট্রুমেন্ট ফ্লাই লেক প্রশিক্ষণ দেন। উড্ডয়ন সম্পর্কে প্রথমে সেরকম কোনো ধারণা না থাকলেও প্রশিক্ষকদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় এই কঠিন প্রশিক্ষণও সহজ হয়ে ওঠে আমার কাছে। প্রতিদিন যখনই সেসনা উড্ডয়ন করতাম, একেকরকম অনুভূতি অনুভব করতাম। আমি যখন হাঁটতে পারতাম না আমার বাবা-মা আমাকে হাঁটতে শিখিয়েছেন, কথা বলতে শিখিয়েছেন। সেরকম আমার আর্মি এভিয়েশনের প্রশিক্ষকরাও আমাকে বাবা-মায়ের মতোই হাত ধরে শিখিয়েছেন কিভাবে উড্ডয়ন করতে হয়।

সাতক্ষীরা মেয়ে শাহ্রীনা বিনতে আনোয়ারের জন্ম ১৯৯০ সালের ২৩ জানুয়ারি। তার শৈশব কেটেছে সাতক্ষীরায়। বাবা মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক পেশায় একজন চিংড়ি ঘের ব্যবসায়ী। মা আরজুমা আনোয়ার গৃহিণী। একমাত্র সন্তান হওয়ায় মায়ের ইচ্ছা ছিল তার মেয়ে সেনাবাহিনীতে যোগদান করবে। তিনি সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে এসএসসি এবং যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে ২০০৭ সালে এইচএসসি পাস করেন। যশোর ক্যান্টনমেন্টে পড়ার সময়ে তিনি সহপাঠীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীতে অফিসার পদে আবেদন করেন। আইএসএসবি’র মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ পান। দুই বছরের বিএমএ প্রশিক্ষণ শেষে অফিসার পদে বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে যোগদান করেন। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ইউনির্ভাসিটি অফ প্রফেশনাল থেকে স্নাতক করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে তিনি অর্ডিন্যান্স কোরের বেসিক কোর্স, গোলা বারুদ সংক্রান্ত কোর্স, অ্যামুনিশন টেকনিক্যাল অফিসার্স কোর্স এবং অফিসার্স উইপন কোর্স, ইউ এন লজিস্টিক স্টাফ কোর্স করেন। বাংলাদেশ এয়ার ফোর্সের ফ্লাইট লে. খালিদ উর রহমানের সঙ্গে ২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তার বিয়ে হয়।

আকাশে উড়ার স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি তিনি ক্যানভাস, রঙতুলির জগতেও হারিয়ে যান। জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পেয়েছেন স্বর্ণপদক, রৌপ্যপদক। দ্বি-বার্ষিক চিত্রকলা মিশর প্রতিযোগিতায় পৃথিবীর অনেক দেশ অংশ নেয়। বাংলাদেশ থেকে তার ছবি নির্বাচিত হওয়ায় ঐ সংস্থা তাকে অভিনন্দনপত্র প্রেরণ করে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত