নৃপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী    |    
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
নারী শ্রমিকের মজুরি মাছের তেল ও পেটা
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে মাছের তেল ও পেটার বিনিময়ে মাছ কাটছেন নারী শ্রমিকরা -ছবি লেখক

‘ধান ভানলে কুড়ো দেব, মাছ কাটলে মুড়ো দেব’ কবির ছেলেভুলানো এই ছড়ার বাস্তব চিত্র পাওয়া যায় গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চান্দার বিল এলাকার শুঁটকি পল্লীতে। তবে ছড়ার শব্দের সঙ্গে বাস্তব জীবনের একটু বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এখানে মাছ কাটলে মাছের মুড়োর বদলে মজুরি হিসেবে দেয়া হয় মাছের তেল, পেটা। নারী শ্রমিকরা টাকার বদলে মাছের তেল, পেটার বিনিময়ে কাজ করতে আগ্রহী।

চান্দার বিল এলাকার মানুষ শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত। শুঁটকি শুকানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে ছোট-বড় মিলে প্রায় ২ হাজার মাচা। বাঁশের খুঁটি ও পাটাতনে তৈরি এ সব মাচা বা ডাঙ্গির উচ্চতা প্রায় ৬ ফুটের মতো। শিকারী পাখি যাতে ছোঁ মেরে মাছ নিতে না পারে সে জন্য মাচা ঢেকে দেয়া হয়েছে জাল দিয়ে। মাছের আঁশ ও পচা মাছের গন্ধে মাছি ভনভন করে ঘুরছে। এরকম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই কাকডাকা ভোরে মাছ কাটতে আসেন প্রায় ৫ হাজার নারী শ্রমিক।

প্লাস্টিকের বস্তায় স্তূপাকারে রাখা হয়েছে কাটার জন্য আনা মাছ। এক একটি শুঁটকির মাচার পাশে গোল হয়ে দা-বঁটি নিয়ে মাছ কাটতে বসে যান তারা। এ সব মাছের মধ্যে রয়েছে ছোট প্রজাতির টেংরা, খৈলসা, পুঁটি, মলা, টাকি ও মেনি।

শুঁটকির মাচার পাশে বসে টেংরা মাছ কুটছিলেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের বাসন্তী বিশ্বাস। তার সামনে কুটা মেনি, খৈলসা মাছের স্তূপ। কখন মাছ কুটতে এসেছেন- জানতে চাইলে বাসন্তী বিশ্বাস বলেন, ভোরে মাছ কুটতে চলে আসি। সকাল ১০টা পর্যন্ত মাছ কুটি। মাছ কুটতে দলবেঁধে আসি। এক একজন ৮ থেকে ১০ কেজি মাছ কুটতে পারি। প্রতি কেজি মাছ কুটলে মজুরি পাই ৬ থেকে ৭ টাকা। প্রতিদিন মজুরি হিসাবে ৫০ থেকে ৬০ টাকা মজুরি পাই। যদি টাকা না নেই তবে মজুরি হিসাবে পাই কাটা মাছের তেল, পেটা। ২/৩ দিনের মাছের তেল, পেটা একত্রিত করে এক/দেড় কেজি তেল সংগ্রহ করি। স্থানীয় শুঁটকি প্রস্তুতকারীরা আমাদের কাছ থেকে এই তেল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে কিনে নেন। তার মতে, টাকার চেয়ে মাছের তেলের বিনিময়ে মাছ কাটলে তাদের জন্য ভালো। কিন্তু শুঁটকি প্রস্তুতকারীরা সব সময় মাছের তেলের বিনিময়ে মাছ কাটাতে চান না। পুরুষদের তুলনায় আমাদের মজুরি কম।

নারী শ্রমিকদের কম মজুরি কেন দেয়া হয় জানতে চাইলে শুঁটকি প্রস্তুতকারী দীনবন্ধু দাস জানান, তারা ছোট ব্যবসায়ী, মূলধন অল্প। তাও লগ্নির টাকা। নিজের ব্যবসারই কোনো লাভ-লোকসান বুঝি না। আমাদের মতো অল্প মূলধনের ব্যবসায়ীদের পক্ষে ন্যায্য মজুরি দেয়া সম্ভব নয়।




 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত