তোজাম্মেল আযম    |    
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
মেয়েদের তৈরি বেত দড়ির বাহারি ব্যাগ

মেহেরপুর সদর উপজেলার বামনপাড়া গ্রামের আরিফা খাতুন বেত ও পাটের দড়ি দিয়ে বাহারি ব্যাগ তৈরি করা শেখাচ্ছিলেন দু-তিনজন মেয়েকে। এ এলাকায় তিনিই প্রথম বেত ও পাটের দড়ি দিয়ে ব্যাগ তৈরি করে সবার নজর কাড়েন। তিনি একাই এই ব্যাগ তৈরি করে থেমে থাকেননি। তার এই কাজের সঙ্গে যুক্ত করেছেন এলাকার অনেক নারীকে। এভাবে তার কাছে কাজ শিখে অনেক নারী স্বাবলম্বী হয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে আরিফা খাতুন বলেন, বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত করতে হলে সবার আগে নারীর উন্নয়ন ঘটাতে হবে। তাই নিজ উদ্যোগে হতদরিদ্র, স্বামী পরিত্যক্তা এবং বিধবা নারীদের একত্রিত করে হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ দিই। তাদের হাতে-কলমে শেখাই কিভাবে লাইলন, বেত ও পাটের দড়ি দিয়ে বাহারি কারুকার্যময় ব্যাগ তৈরি করা যায়। এলাকার অনেক নারীই আমার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করছেন। শুধু মেহেরপুরই নয়, অন্য জেলাতেও এ ব্যাগের দারুণ চাহিদা রয়েছে। আমি নিজেই এ কাজের তদারকি করি। এই ব্যাগ তৈরি করে শতাধিক মেয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছেন। এভাবে নারীদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি তাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে পারলে নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, শিক্ষার মানোন্নয়ন, ঝরে পড়া রোধ, নারী ও শিশু পাচার, মা ও শিশু মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। আরিফার কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাহারি ব্যাগ তৈরি করছিলেন মুন্নি। তার মতে, কিছু টাকার জন্য স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে এক বছরের সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এর কিছুদিন পর আমার স্বামী আমাকে তালাকনামা পাঠিয়ে দেয়। সন্তান, নিজের খাবারের জোগাড়ের জন্য আমি মানুষের দরজায় দরজায় ঠোকর খাই। তখন আরিফা আপা আমাকে এই ব্যাগ তৈরি শিখে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন। তিনি আমাকে লাইলন, বেত দিয়ে বাহারি কারুকার্যময় এই ব্যাগ তৈরি করা শেখান। এ কাজ শেখার পর থেকে আমি নতুনভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছি। সন্তানকে মানুষ করতে, তার ভবিষ্যৎ গড়তে এখন আর আমার কোনো বাধা নেই।

তার মতো এলাকার অনেক মেয়েই আরিফার কাছে ব্যাগ তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্যাগ তৈরি করে এখন আয় করছেন। এই আয় থেকে তারা নিজেরা যেমন স্বাবলম্বী হয়েছেন, আয়ের একটি অংশ সঞ্চয় করে ভবিষ্যৎও গড়ে তুলছেন। তাদের সবার কথা, এই সঞ্চয় দিয়ে আমরা আমাদের মতো আরও অসহায় নারীর পাশে দাঁড়াব এবং তাদের মাঝে নতুন আশার আলো জ্বালাব।

মেহেরপুরে খান ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেট রেহেনা খাতুন এ প্রসঙ্গে বলেন, এ সব পরিশ্রমী ও দক্ষ নারীর তৈরি ব্যাগ বাজারজাতকরণের মাধ্যমে তাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। তাহলেই দেশ থেকে নারীদের বঞ্চনা দূর হবে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত