শামীম শেখ    |    
প্রকাশ : ১০ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
আলোর দিশারী মর্জিনা

‘নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করা নারী’ ক্যাটাগরিতে ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতার স্বীকৃতি পেয়েছেন মর্জিনা বেগম। ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ে সম্প্রতি রাজধানীর সেগুনবাগিচার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির কাছ থেকে জয়িতা মর্জিনা সম্মাননা ক্র্যাস্ট নেন। অথচ মর্জিনার জীবন শুরু হয়েছিল একজন যৌনকর্মী হিসেবে। জীবনের প্রতিটি পদে পদে নির্যাতিত এই নারী কঠোর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।

এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প বলতে গিয়ে মর্জিনা বেগম জানান, মাত্র ১৩ বছর বয়সে বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যায়। এক দালালের প্রলোভনে তার ঠাঁই হয় পতিতাপল্লীতে। কিশোরী বয়সেই তিনি হয়ে যান পতিতাপল্লীর বাসিন্দা। এখানে থাকতে থাকতেই তিনি ঘৃণিত জীবনের অমানবিক কষ্ট উপলব্ধি করেন। এ থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে থাকেন। তিনি শুধু নিজের কথাই কেবল ভাবেননি, পতিতাপল্লীর অন্য মেয়ে ও তাদের সন্তানদের কথাও ভেবেছেন। এ লক্ষ্যে তিনি দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীতে অবস্থানের সময়ে স্থানীয় উন্নয়ন সংগঠন কর্মজীবী কল্যাণ সংস্থার এক কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এভাবে পতিতাপল্লীর মেয়েদের ঐক্যবদ্ধ করে নিজেরাই গড়ে তোলেন মুক্তি মহিলা সমিতি (এমএমএস) নামে একটি সংগঠন। জরাজীর্ণ ছোট্ট টিন শেড ঘর থেকে সংগঠনের নিজস্ব জমিতে গড়ে উঠেছে দো’তলা ভবন।

১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনটি যৌনকর্মী ও তাদের সন্তানদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সারা দেশের মধ্যে একটি প্রশংসিত সংগঠন। এ সংগঠন দাঁড় করাতে গিয়ে তিনি একাধিকবার জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। ২০১০ সালে তিনি পতিতাপল্লীর জীবন ছেড়ে বাইরের পরিবেশে চলে আসেন। কিন্তু থেমে যায়নি তার আন্দোলন।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের পতিতালয়ের অন্ধগলির বিভীষিকাময় জগৎ ছেড়ে এখন তিনি আলোর জগতের বাসিন্দা। এক সময় ঘৃণায় যে সমাজ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, সেই সমাজে তিনি বিশেষ সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত। জীবনের করুণ পরিণতিতে ভেঙে না পড়ে কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে তোলেন নবজীবন। অসহায়-নিগৃহীত-নিপীড়িত নারীদের কাছে মর্জিনা বেগম এখন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক হিসেবে সেভ দ্য চিলড্রেনসহ দেশী-বিদেশী বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহযোগিতায় বিশাল কর্মীবাহিনী নিয়ে তিনি পতিতাপল্লীর শিশুদের শিক্ষা, সুরক্ষা, স্বাভাবিক বিকাশসহ যৌনকর্মীদের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক যৌনকর্মী এ সংস্থায় চাকরির মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে পুনর্বাসিত হয়েছেন। জয়িতা নির্বাচিত হওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে মর্জিনা বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, এ পুরস্কার আমার জন্য বিরাট সম্মানের। আমাকে নির্বাচিত করায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। যে কোনো স্বীকৃতি কাজের উদ্যোম বাড়িয়ে দেয়। যাদের নিয়ে কাজ করে আমি এ সম্মান পেলাম, তাদের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা আরও অনেক বেড়ে গেল।




 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত