প্রবীর চক্রবর্তী    |    
প্রকাশ : ২৪ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
স্বামীকে যৌতুক দিয়েও ঘরছাড়া আমেনা

বছর দশেক আগে আমেনার বিয়ে হয় ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার সাফুয়া গ্রামের শাহাজাহান খানের ছেলে সুমন খানের সঙ্গে। বিয়ের বছর দুয়েক পর তার কোলজুড়ে আসে ইয়াছিন নামে এক সন্তান। কিন্তু বিয়ের পরই শুরু হয় স্বামীর নির্যাতন। যৌতুকের টাকা আদায়ের জন্য তাকে মারধর করে। দু দু’বার স্বামীকে বিদেশ পাঠাতে বাবা ও ভাইদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দেন। এমনকি ভাবীর স্বর্ণালঙ্কারও স্বামীর হাতে তুলে দেন। এতকিছুর পরও স্বামীর ঘর করার স্বপ্ন পূরণ হল না আমেনা বেগমের । শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং দিনের পর দিন স্বামীর নিগ্রহের শিকার হয়ে বাপের বাড়িতে ঠাঁই হয়েছে তার । একমাত্র সন্তানকে নিয়ে এখন তিনি সুবিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

আমেনা বেগম ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের হাসা গ্রামে মজিদ খানের ছোট মেয়ে। স্বামীর নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে আমেনা বেগম (৩০) জানান, বিয়ের পর তার যৌতুকলোভী স্বামীর পরিবার তার স্বামী সুমনকে বিদেশ পাঠাতে টাকা দাবি করে। প্রথম দফায় ৯০ হাজার টাকা দিলে সেই টাকা নিয়ে সুমন সৌদি আরব যায়। বিয়ের প্রথম থেকেই টাকার জন্য তার ওপর নানাভাবে নির্যাতন করত। কিন্তু গর্ভবতী হওয়ায় অনাগত সন্তানের কথা ভেবে সব নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করেন। একসময় বাপের বাড়িতে চলে আসেন। প্রবাসী স্বামী তার সঙ্গে যোগাযোগ না করলেও সন্তান জন্মের পর তার সঙ্গে আবারও যোগাযোগ শুরু করে। স্বামী ও সন্তানের কথা ভেবে আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান । সুমন তিন বছর প্রবাসে থেকে বাড়ি ফিরে আসে। কয়েক বছর সংসার করে। এরপর আবারও বিদেশ যাওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগে। আবার তাকে তার বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে তার সংসার বাঁচাতে ভাই ও বাবা স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে, জমি বন্ধক রেখে আরও এক লাখ টাকা দেয়। সেই টাকা নিয়ে চার বছর আগে আবারও সৌদি আরব যায়। সেখানে যাওয়ার পর থেকে স্বামী তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। তিনি তার ভাবীর স্বর্ণালঙ্কারের টাকা ফিরিয়ে দিতে বলায় তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। বাধ্য হয়ে তিনি দেড় বছর আগে আবার বাপের বাড়িতে চলে আসেন। এর মধ্যেই সুমন বাড়িতে এসে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করে আবার বিদেশ চলে যায়। বর্তমানে বাপের বাড়িতে অবস্থান করলেও সন্তান ও তার নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। এ নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েকবার সালিশি বৈঠক হলেও তার স্বামী-সংসার ফিরে পাওয়া হয়নি।

এ প্রসঙ্গে আমেনার বড় ভাই মো. সজল বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার বোনের সংসারে সুখ ছিল না। বোনের সুখের কথা ভেবেই যৌতুকের দাবি মিটিয়েছি। কিন্তু তারপরও ছোট বোন স্বামীর সংসার করতে পারছে না।

এলাকার সাবেক পৌর কাউন্সিলর মজিবুর রহমান পাটওয়ারী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এলাকায় বেশ কয়েকবার সালিশি হলেও তারা কাউকেই পরোয়া করে না। এদিকে নব নির্বাচিত পৌর কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র খলিলুর রহমান জানান, তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। তবে অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত