সাদিয়া ন্যান্সী    |    
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
সাক্ষাৎকার
জনপ্রিয়তার চেয়ে মানুষের ভালোবাসা বড় : নকীব খান
সঙ্গীতাঙ্গনের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র নকীব খান। অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় কালজয়ী গানের সুরকার, গীতিকার এবং গায়ক তিনি। ‘মন শুধু মন ছুঁয়েছে’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘তুমি বললে’, ‘ভাল লাগে জোসনা’, ‘তোরে পুতুলের মতো করে সাজিয়ে’, ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট’, এমন অসংখ্য গানের সুরস্রষ্টা নকিব খান। সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসা, সুরের মায়া তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে এক শ্র“তিমাধুর্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে। তার সঙ্গীত জীবনের যত কথা এবং সঙ্গীতের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে একান্তে কিছু সময় কাটিয়েছেন যুগান্তরের সঙ্গে। ভাগাভাগি করে নিয়েছেন সঙ্গীত জীবনের কিছু প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন

সঙ্গীতের ব্যস্ততা কেমন যাচ্ছে?

যদিও আগের মতো স্টেজ শো হয় না, কিন্তু সেটা করতে খুব ভালো লাগে। পাশাপাশি প্র্যাকটিস তো আছেই। এছাড়া অনেক দিন ধরে ব্যান্ডের অ্যালবাম প্রকাশের পরিকল্পনাই করছি। তাই এবার পুরোদমে নতুন অ্যালবাম প্রকাশের জন্য সময় দিতে হচ্ছে। এরই মাঝে অনেকগুলো গান রেডি করেছি।

সঙ্গীতের সঙ্গে পথচলা দীর্ঘ সময়। শুরুটা কিভাবে?

স্বাধীনতার পরে আমার বড় ভাইয়ের একটি ব্যান্ড ছিল। নাম হচ্ছে বালার্ক। এটি ১৯৭২ সালের কথা। তখন প্রথম আমার বড় ভাই, আমি এবং আমার ছোট ভাই মিলে ব্যান্ড শুরু করি, সে সময় আমি সপ্তম শ্রেণীতে পড়ি। তখনি আমি বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারি। বলা যায় পারিবারিকভাবেই আমার ব্যান্ডের যাত্রা। পরে ভাই চাকরিতে যোগ দিলে আমি ১৯৭৪-এ সোলসে যোগ দেই। তখন সোলসের নাম ছিল সুরেলা। তারা কোনো মৌলিক গান করতেন না। আমি যোগ দেয়ার পর ‘সুপার সোলস’ নামে একটি অ্যালবাম প্রকাশ পায়। প্রথমবারের মতো মৌলিক গানের অ্যালবাম প্রকাশ হয় এবং তা সুপার হিট করে। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত সোলসের সঙ্গেই ছিলাম।

সোলস ছেড়ে আসার কারণ কী ছিল?

আসলে তখন হঠাৎ করেই আমার বাবা মারা যাওয়ার পর আমরা ঢাকায় চলে আসি কিন্তু সোলস ছিল চট্টগ্রামে। ঢাকা থেকে তাদের সঙ্গে চালিয়ে নেয়া সম্ভব ছিল না। তাই ঢাকায় এসে ১৯৮৫-এ সব বন্ধু মিলে ‘রেনেসাঁ’ নামে একটি নতুন ব্যান্ড দল গঠন করি।

সঙ্গীতের এত ধারার মাঝে ব্যান্ডের গানকেই বেছে নিলেন কেন?

আমার শুরুটা ব্যান্ড দিয়েই। তাছাড়া ব্যান্ডের মাঝে একটি তারুণ্যের উচ্ছ্বাস রয়েছে। যা অন্য কোনো ধারায় পাইনি। ছোটবেলা থেকেই ব্যান্ড আমাকে টানে। এক ধরনের নেশা রক্তে মিশে আছে। তাছাড়া ব্যান্ড একটি টিমওয়ার্ক, সে বিষয়টি আমার সবসময় ভালো লাগে। তারুণ্যের বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে ব্যান্ড।

আগের মতো আপনাদের ভক্তরা পায় না বলে অনেকেই অভিযোগ করেন। এর কারণ কী?

আমার ভক্তদের এমন অভিযোগ আমি মাথা পেতে নিতে রাজি আছি। সবচেয়ে বড় কারণ হল, আমাদের ব্যান্ডের যারা আছেন তারা সবাই শখের বসে অথবা ভালোলাগা থেকে মিউজিক করেন। আমরা সবাই চাকরিজীবী। চাকরি করে গানে সময় দেয়া অনেক কঠিন ব্যাপার। তাই ইচ্ছা থাকলেও নিয়মিত হতে পারি না।

এমন বিরতি দিয়ে গান করায় ব্যান্ডের শ্রোতাপ্রিয়তা কমে যাচ্ছে না?

আমার কাছে বিষয়টি একটু অন্যরকম। কারণ আমি বিশ্বাস করি শ্রোতাপ্রিয়তা পাওয়ার চেয়ে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করে তাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়া অনেক বড়। আমরা তা পেয়েছি। তাই শ্রোতাপ্রিয়তা কমল না বাড়ল তা হিসাব করে গান করি না।

একজন শিল্পীর ভক্ত আর সমাজের মানুষ- দুইয়ের প্রতি কিছু দায়বদ্ধতা থাকে। সেই দায়িত্ব কতটুকু পালন করতে পেরেছেন বলে মনে করেন?

একজন শিল্পীর তো দায়বদ্ধতার জায়গা অবশ্যই বেশি। কারণ ভক্তরা তার কাছে অনেক কিছু আশা করেন। কতটুকু পেরেছি তা ঠিক বলতে পারব না। আমি চেষ্টা করি সবসময় তাদের আশাগুলো পূরণ করার। তবে কিছু ব্যর্থতা তো আছেই।

সামনে নতুন কোনো অ্যালবাম প্রকাশের পরিকল্পনা আছে?

নতুন একটি অ্যালবাম প্রকাশের ইচ্ছা আছে। বেশ অনেকগুলো গান তৈরি করা আছে। সময় এবং অডিও বাজারের দুরবস্থার কারণে প্রকাশ করতে পারছি না।

যতগুলো অ্যালবাম প্রকাশ পেয়েছে সবগুলোর নামে রেনেসাঁ আছে। এর বিশেষ কোনো কারণ আছে?

কারণ তো আছেই। রেনেসাঁ একটি ফারসি শব্দ। যার অর্থ হচ্ছে সঙ্গীতের নব জাগরণ। আমরা যখন গান শুরু করি তখন গানগুলো বদলে যাচ্ছিল। আমরা চেয়েছি বাংলা গানের মূল উপজীব্য মেলোডি ধারার গানগুলো ধরে রাখতে হবে এবং ওই চিন্তা থেকেই এমন নাম দেয়া। আমরা আমাদের ব্যান্ডের নামের যথার্থতা প্রতিটি গানে ধরে রেখেছি।

মাঝে আপনাকে উপস্থাপনায় দেখা গিয়েছিল। সেটা কী শুধুই ভালো লাগা থেকে?

এটা শুধু ভালো লাগা থেকেই করা। শুধু যে উপস্থাপনা বিষয়টি তা নয়। একটি অনুষ্ঠানে সব ধরনের আয়োজন থেকে শুরু করে উপস্থাপনা করা পর্যন্ত সব কাজ করতে ভালো লাগে। সে জায়গা থেকেই করি। এর বাইরে কিছু নয়।

কেউ জানতে চাইলে কী পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন? গীতিকার, সুরকার, না ভোকালিস্ট?

আমি কোনটাকেই আলাদা করে দেখি না। যদি কেউ জিজ্ঞেস করে বলব, আমি একজন মিউজিসিয়ান। তারপর যদি বলতে হয় বলবো, গান সুর করতে খুব ভালো লাগে। সে তুলনায় লিখা কম হয়।

বর্তমানে ব্যান্ড দলগুলো নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদের অনেক মেধা আছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তারা শিখতে চায় না। প্রযুক্তির ব্যবহার ভালো কিন্তু কেউ যদি তার অপব্যবহার করে তাহলে অবশ্যই ভালোর পরিবর্তে খারাপ হবে, এটাই স্বাভাবিক। তাদের প্রচুর পড়তে হবে। শিখার অনেক কিছু আছে। তাদের মনে রাখা উচিত প্র্যাকটিসের বিকল্প কিছু নেই। প্রচুর প্রাকটিস করতে হবে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত