প্রকাশ : ০৬ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
কেমন ছিল এবারের ঈদের গান
এবারের ঈদ উৎসবকে ঘিরে প্রকাশ হয়েছে শতাধিক গান। ঈদ শেষে শুরু হয়ে গেছে বিভিন্ন ব্যানার থেকে প্রকাশিত এসব গান নিয়ে হিসাব-নিকাশও। কেমন ছিল এবারের ঈদ অডিও বাজার? শ্রোতাদের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করতে পেরেছে শিল্পীরা? এসব প্রশ্নই যেন ঘুরপাক খাচ্ছে এখন। তবে কী বলছেন সঙ্গীতশিল্পীরা? কেমন ছিল এবারের অডিও বাজার তা নিয়ে আজকের বিশেষ আয়োজন। বিস্তারিত লিখেছেন সাদিয়া ন্যান্সী

প্রবীণ-নবীন মিলিয়ে শতাধিকের বেশি গান প্রকাশ পেয়েছে এবারের ঈদে। তবে আগের থেকে হিসাব-নিকাশের ধরন পাল্টেছে। আগে যেখানে সিডির হিসাব কষা হতো, এখন গণনা করা হচ্ছে ইউটিউব ভিউ। তবে শুধু এ একটি মাধ্যম দিয়ে গানের জনপ্রিয়তা বিচার করা ঠিক নয় বলেও মত দিয়েছেন সঙ্গীতবোদ্ধারা। এ প্রসঙ্গে গুণী সঙ্গীতশিল্পী খুরশীদ আলম বলেন, ‘আমি সুযোগ পেলেই নতুন-পুরনো সবার কাজ দেখার চেষ্টা করি। এবারও তাই করেছি। এবারের ঈদে মনে হল অন্যবারের তুলনায় বেশি মিউজিক ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। পাশাপাশি অডিও গানের সংখ্যাও বেড়েছে। নতুনরা ভালো করছেন ঠিক তাদের প্রতিভার কথাও অস্বীকার করা যায় না। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে এবারের গানে তেমন কোনো ভিন্নতা খুঁজে পাইনি। যদি ১০টি গান একসঙ্গে শুনি তবে মনে হয় এক গানই মনে হয় বারবার শুনছি। এ বিষয়টির দিকে তাদের একটু নজর দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। এর বাইরে অন্যান্য বিষয়গুলো ভালো ছিল।’

সার্বিক বিচারে এবারের ঈদ ছিল অনেকটাই তারুণ্যের গাননির্ভর। প্রতিযোগিতা ছিল সিঙ্গেলস প্রকাশেও। গানের বাইরেও ভিডিওর মাধ্যমে কে কতটুকু চমক তৈরি করতে পারে সেদিকেই নজর ছিল বেশি। তারই ধারাবাহিকতায় বেশ কিছু ব্যয়বহুল মিউজিক ভিডিও প্রকাশ হয়েছে এবারে ঈদে। তবে ব্যয়বহুল ভিডিও হলেই যে সেটি দর্শকদের নজর কাড়বে তেমন নয় বলেই মনে করেন ব্র্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ। কেমন হয়েছে এবারের ঈদের গান সে উত্তরে তিনি জানান, ‘গান যেমনই হোক তবে এবারের ঈদে যে অধিক হারে গান প্রকাশ পেয়েছে তা সত্যি প্রশংসনীয়। কারণ সব সময় ভালো খারাপ মিলিয়েই চলেছে সঙ্গীত ইন্ডাস্ট্রি এখনও তাই হচ্ছে। যদি ১০টি গান প্রকাশ পায় তবে সেখানে দুটি হলেও ভালো গান প্রকাশ পাবে। সে জন্য তাদের আগে সুযোগ দিতে হবে। দর্শককে ধরে রাখার একটি মাধ্যম হচ্ছে মিউজিক ভিডিও। এবার কিছু কিছু মিউজিক ভিডিও বেশ ভালো হয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে এটা বলা যায় সামনে হয়তো দর্শক আবার সঙ্গীতের সুদিন দেখতে পাব আমরা সবাই। সে জন্য খানিকটা অপেক্ষা করতে হবে।’

বড় বাজেট মানেই যে ভালো মিউজিক ভিডিও হবে না এর প্রমাণ হল ঈদে প্রকাশিত কনার ‘খামোখাই ভালোবাসি’। ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ ভিডিওটি নির্মিত হয়েছে। তবে সপ্তাহ ঘুরলেও এক লাখের কিছু বেশি দর্শক এটি উপভোগ করেছেন। অনেকেই ইউটিউবের কমেন্টে লিখেছেন প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি ভিডিওটি। তবে ইউটিউবে ভিউয়ার বেশি মানেই যে গানের মান ভালো হবে বিষয়টি তা নয় বলে মন্তব্য করেছেন আরেক গুণী সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আবদুল হাদী। এবারের সঙ্গীতায়োজন কেমন ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একটি গান ভালো-খারাপ তখনই বিচার করা যাবে যখন গানটি অনেক বছর বেঁচে থাকবে। একবার শুনে বা ইউটিউবের ভিউয়ার দেখে কিন্তু আমরা বলে দিতে পারি না এ গানটি সবার হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছবে। ঈদে অনেক গান প্রকাশ পেয়েছে। তার মধ্যে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, নতুনদের কিছু করে দেখানোর চেষ্টা ছিল। তবে তাদের শেখার বিষয়ে আরেকটু মনোযোগী হওয়া দরকার। তা হলে তারা আরও অনেক দূর যেতে পারবে।’

ঈদের আয়োজন নিয়ে সন্তুষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ফাহমিদা নবী। তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেন শ্রোতারা এখন গান শুনছেন না। আমি এ কথার সঙ্গে একমত নই। যদি গান শুনেন তা হলে এত এত গান প্রকাশ হতো না। ভালো গান অবশ্যই প্রকাশ হচ্ছে। পাশাপাশি মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে আমরা যারা কাজ করি, তাদের একটি বিষয় মাথায় রাখা উচিত, শ্রোতারা ভালো গান শুনতে চান। অহেতুক শ্রোতা-দর্শকের দোহাই দিয়ে মানহীন বা অস্থির প্রকৃতির গান প্রকাশ করা উচিত নয়। কারণ শ্রোতারা কখনই এরকম গান চান না। কনসার্টের অর্ডিয়েন্সকে সবসময় শ্রোতা ভাবলে হবে না। এর বাইরেও বিশাল একটি অংশ আছেন, যারা নীরবে বসে ঠাণ্ডা প্রকৃতির গান শুনতে পছন্দ করেন। ঈদে অবশ্য এ ধরনের কিছু গানও লক্ষ করেছি।’ প


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত