অনিন্দ্য মামুন    |    
প্রকাশ : ০৬ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
ঈদ নাটকের পোস্টমর্টেম
ঈদ মানেই বাড়তি সব প্রস্তুতি। এবারের ঈদে দেশের সব চ্যানেল মিলিয়ে প্রায় কয়েকশ’ নাটক প্রচার হয়েছে। বিজ্ঞাপনের ফাঁকে প্রচার হওয়া সেসব নাটক যেমন ছিল গল্পনির্ভর তেমনি আবার ভাঁড়ামিতেও ভরপুর। ঈদে প্রচারিত সেসব নাটকের হিসাব কষে তার হালহকিকত নিয়েই আজকের আয়োজন। লিখেছেন-

কেমন দেখলেন ঈদের নাটক? দর্শকদের কাছে এমন প্রশ্ন রাখতেই ঠোঁট বাঁকিয়ে উত্তর দেন- নাটক দেখার সুযোগ পেলাম কই? নাটক দেখতে বসে বিজ্ঞাপন দেখেই তো সন্তুষ্ট থাকতে হল। এমন আরও নানা অভিযোগ রয়েছে। ভালোর পাশাপাশি এবারও পর্দাজুড়ে সেই গৎবাঁধা গল্পের চর্বিত চর্বণ দেখা গেছে। কমেডির নামে ভাঁড়ামি, রোমান্টিকতার নামে ন্যাকামিও ছিল বেশ। নিন্মমানের গল্পের কারণে প্রতিভাবান অনেক অভিনেতার অভিনয়ও দৃষ্টিকটু লেগেছে। অবশ্য ভালো গল্পের নাটকও ছিল। বেশি বিজ্ঞাপন প্রচারের বিষয়টি বাদ দিলে এবারের ঈদ অনুষ্ঠান বেশ উপভোগ্যই ছিল। বিটিভিসহ দেশের স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে প্রচার হওয়া ঈদের বিশেষ আয়োজন নিয়ে সন্তুষ্ট অনেক দর্শকই। এবারের অনুষ্ঠান সম্প্রচারে সরকারি চ্যানেল হিসেবে বিটিভি বরাবরের চেয়ে বেশ যতœশীলই ছিল। চ্যানেলটির নিজস্ব প্রযোজনায় নির্মিত একমাত্র নাটক ‘অ্যাকটিভ বয়েজ’ ছিল ভালোলাগার আরেক উপকরণ। এদিকে স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন বিরতি ‘বিতর্ক’-র মাঝেও ঈদ আয়োজনে অনেকটা যতœশীলতার পরিচয় দিয়েছে। চাঁদরাত থেকে শুরু করে ঈদের সপ্তম দিন পর্যন্ত নানা ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান প্রচার করে দর্শক ধরে রাখার দৃঢ় প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে প্রায় প্রতিটি চ্যানেলেই। এর মধ্যে এটিএন বাংলায় ঈদের আগের রাতে প্রচার হওয়া এসএ হক অলিকের রচনা ও পরিচালনায় খণ্ড নাটক ‘হরেক রকমের প্রেম’ বেশ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। একই চ্যানেলে ঈদের দিন প্রচার হওয়া হানিফ সংকেতের রচনা ও পরিচালনায় ‘ভুলে ভেসে কূলে আসা’ দর্শক মাতিয়েছে বেশ। এ ছাড়া আবু হায়াত মাহমুদের পরিচালনায় ‘রঙ পেন্সিল’, সকাল আহমেদের ‘বাইন্ডনেস’, ফজলুল সেলিমের ‘সব চরিত্র কাল্পনিক নয়’, সৈয়দ শাকিলের ‘প্রেম বড় মধুর’, আরিফ খানের ‘সাত দিনের সাত কাহন’ নাটক-টেলিছবিগুলো বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। পাশাপাশি সাগর জাহানের পরিচালনায় ধারাবাহিক ‘নসু ভিলেন’, শামীম জামানের ‘চুটকি ভাণ্ডার’ দর্শক নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে।

ঈদ আয়োজনে ভিন্নতা রেখেছে চ্যানেল আইও। চ্যানেলটিতে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ঈদের আগের রাতে প্রচার হওয়া রেজানুর রহমানের নাটক ‘জাদুকর’ ভালো লেগেছে। শিশুতোষ ধারাবাহিক ‘ছোটকাকু সিরিজ; খেলা হবে খুলনায়’ বেশ আলোচনায় এসেছে। ফরিদুর রেজা সাগরের উপন্যাস অবলম্বনে এটি নির্মাণ করেছেন আফজাল হোসেন। এ ছাড়া চ্যানেলটিতে প্রচার হওয়া ‘থ্রি টু ওয়ান জিরো অ্যাকশান’, ‘মহারানী’, ‘প্রিয়ন্তীর জন্য একটু ভালোবাসা’, ‘যাতনা’, ‘স্বার্থই সকল সুখের মূল’, ‘দরজার ওপারে’, ‘অসামাজিক’ নাটকগুলো দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে।

প্রতিবারের মতো এই ঈদেও চমক নিয়ে হাজির ছিল আরেক স্যাটেলাইট চ্যানেল এনটিভি। সাত পর্বের ধারাবাহিক ‘আল্টিমেটাম, খণ্ড নাটক ‘লাইফ ইজ কালারফুল’, ‘দেয়ালের ওপারে’, ‘মেঘনীল’, টেলিছবি ‘দ্য পেইন্টার’, ‘ব্যাচ ২৭’ ‘ম্যানিকুইন মুমু’ বেশ সাড়া জাগায়। পাশাপাশি নাটক ‘বিন্দু না রেখা’, ‘হারমোনিকা’, ‘মেইড ফর ইচ আদার’, ‘পেস মেকার’, ‘দেয়ালের ওপারে’, ‘লাইফ ইজ কালারফুল’, ‘বুবুনের হানিমুন’ এবং বিখ্যাত সাত কবির কবিতা থেকে তৈরি সাতটি নাটক ‘ক্যামেলিয়া’, ‘গোপন প্রিয়ার চাহনী’, ‘১৩৩৩’, ‘হঠাৎ নীরার জন্য’, ‘কথোপকথন’, ‘তোমার দিকে আসছি’, ‘যে তুমি হরণ কর’ নাটকুগলো প্রশংসিত হয়েছে।

আরটিভির আয়োজনে বিশেষত্বের মধ্যে ছয় পর্বের ধারাবাহিক মোশাররফ করিম ও তিশা জুটির ‘মাহিনের নীল তোয়ালেটা’ পাশাপাশি ‘প্যারা-৪’, খণ্ড নাটক ‘ঘাউরা মজিদ এখন শ্বশুরবাড়ি’, ‘মাখন মিয়ার অদ্ভুত বউটা’, ‘যমজ-৭’, ‘ভাবনার বিপরীতে’ উল্লেখযোগ্য ছিল। এ ছাড়া এ চ্যানেলে প্রচারিত লাক্স নিবেদিত ‘লাক্স চিরচেনা সৌরভের গল্প’ শিরোনামের নাকটগুলোও দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। নাটকগুলো সাতটি উপন্যাসের অনুপ্রেরণায় নির্মিত হয়েছে। প্রতিটি নাটকের গল্প বলার ধরন, লোকেশন, অভিনয় সব কিছুতেই আছে যত্নের ছাপ। ঈদের ৩য় দিনে প্রচার হয় মাবরুর রশিদ বান্না পরিচালিত গর্ভধারিণী উপন্যাসের অনুপ্রেরণায় ‘মুখোশের আড়ালে’। নাটকটি প্রচারের পর অনেকেই বলেছেন এমন সামাজিক মেসেজনির্ভর নাটক আরও বেশি হওয়া উচিত। তবে কেউ কেউ সমালোচনা করে বলেছেন নাটকগুলোতে মূল উপন্যাসের গল্প দেখা যায়নি। সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চলছে ছবিয়ালের নাটক নিয়েও। ছবিয়ালের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের গল্প বলার ধরনের সঙ্গে দর্শক পরিচিত। কিন্তু এ পর্যন্ত প্রচারিত প্রতিটি নাটক ছিল দর্শকের জন্য চমক। রেদওয়ান রনি পরচালিত ‘মিস্টার জনি’ দেখে অনেকেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। যেখানে একটি কুকুরের প্রতি মানুষের ভালোবাসার গল্প দেখানো হয়েছে। ওদিকে আদনান আল রাজিবের ‘বিকেল বেলার পাখি’ নাটকে মধ্যবিত্ত পরিবারের চাওয়া পাওয়ার টানাপড়েন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

বাংলাভিশনে প্রচার হওয়া সাগর জাহানের পরিচালনায় ধারাবাহিক ‘অ্যাভারেজ আসলাম ইজ নট ব্যাচেলর’ দর্শকদের ভরপুর আনন্দ দিয়েছে। সালাহউদ্দিন লাভলুর ‘এখানে প্রেম করা নিষেধ’ ছিল দর্শক আলোচনার শীর্ষে। এ ছাড়া খণ্ডনাটকের মধ্যে ‘গল্পের শেষ নেই’, ‘গৃহপালিত স্বামী’, ‘অপরাজিতা’, ‘স্বপ্নের মানুষ’, টেলিছবি ‘বাদাবন’, ‘মায়াবতী’ বেশ প্রশংসা পেয়েছে।

মাছরাঙা টিভিতে দিপু হাজরা পরিচালিত ‘আহত গন্তব্য’ নাকটি দর্শক নন্দিত হয়।

এশিয়ান টিভিতে প্রচারিত ধারাবাহিক নাটক, ‘বোকা আবুল’, ‘বউ পাগল’, ‘অতি চালাকের গলায় দড়ি’ ‘রসগোল্লা’, ‘জাপানি ভিসা’, ‘খালি কলসি বাজে বেশি’, ‘ভেল্কিবাজি’ প্রশংসিত হয়েছে। একক নাটক ‘হানিমুন’, ‘ছাওয়াল’, ‘লাস্ট ডেট অব সুইসাইড’, ‘ওয়ান টু সিক্স’, ‘প্রক্সি’, ‘সরল প্রেম’ ও ‘গল্পের নামটি চূড়ান্ত নয়’ নাটকগুলো প্রশংসিত হলেও অনেক নাটকেই ভাঁড়ামি দেখে বিরক্ত হয়েছেন দর্শক। তবে আপন হাসানের পরিচালনায় হাসান জাহাঙ্গীরের সঙ্গে একাধিক তারকাদের নিয়ে নাটক অতি চালাকে গলায় দড়ি নাটকটি বেশ বিনোদিত করেছে দর্শকদের।

দীপ্ত টিভিতে প্রচারিত ‘আরেকটি বিড়াল বিড়ম্বনা’, ‘বাবুগিরি’, ‘ইতি ভালোবাসা’, ‘ফটিক বাবু’, টুনাটুনির সংসার’, ‘পলাতক প্রেম’, ‘এক ঘণ্টার বিয়ে’ নাটকগুলো দর্শক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছে।

এবারের ঈদের নাটকের মধ্যে এসএ টিভিতে ‘বসন্ত মেঘ’ নামের নাটকটি বোদ্ধা মহলে দারুণ প্রশংসিত হয়। সাজিন আহমেদ বাবুর পরিচালনায় এতে অভিনয় করেছেন তৌকীর আহমেদ ও চিত্রনায়িকা মৌসুমী।

বৈশাখী টিভির আয়োজনে দর্শকনন্দিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে ছিল ‘ককটেল ফ্যাক্টরি’, ‘সেই তুমি এলে’, সাত পর্বের ধারাবাহিক ‘ব্রেক ফেইল’, ‘বউ যদি এমন হয়’, ‘বুলির বেলকনি’, ‘অভিমান’, একক নাটক ‘চোর ও চুড়ি’, ‘ভুল লিখিতে ভুল করিও না’, ‘মানুষ অমানুষ’, ‘অভিনন্দন’।

এবার ঈদে সর্বাধিক নাটক প্রচার হয়েছে মোশাররফ করিম, সজল, চঞ্চল, নিশো, অপূর্ব, সাদিয়া জাহান প্রভা, মেহজাবিন, শখ, উর্মিলা শ্রাবন্তী করের। প


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত