প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
চলচ্চিত্রে তেমন সফলতার বার্তা নেই
২০১৭ সাল শেষ। বছরের হিসাব-নিকাশ কষতে ব্যস্ত এখন সবাই। শোবিজ অঙ্গনেও চলছে এ হিসাব-নিকাশের পালা। এ বছর কোন তারকার ছবি ভালো ব্যবসা করেছে, কাকে এ বছর সেরা নায়কের সম্মানটা দেয়া যাবে- এ হিসাবই চলছে সিনেপাড়ায়। এ বছর সর্বাধিক ব্যবসা করেছে শাকিব খানের ‘নবাব’। ব্যবসার পাশাপাশি জনপ্রিয়তায় এগিয়ে ‘ঢাকা অ্যাটাক’। নির্মাণ ও গল্প নিয়ে প্রশংসিত হয়েছে তৌকীর আহমেদের ‘হালদা’। চলতি বছরের সিনেমার হালহকিত নিয়ে লিখেছেন-অনিন্দ্য মামুন

চলতি বছরের শুরুটা খুব একটা ভালো ছবি দিয়ে শুরু হয়নি। যে যুগে এ ছবি প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেয়ার কথা চিন্তাও করতে পারে না সেই নিন্ম কোয়ালিটির ছবি দিয়েই শুরু হয়েছে। বছরের শুরুতে মুক্তি পায় ‘মাস্তান ও পুলিশ’। কাজী হায়াতের চিত্রনাট্যে ছবিটির পরিচালক ছিলেন রকিবুল ইসলাম রকিব। কাজী মারুফ অভিনীত এ ছবিতে তার নায়িকা ছিলেন বিন্দিয়া কবির। ৬ জানুয়ারি মুক্তি পায় ছবিটি। নির্মাণ মোটামুটি ভালো হলেও, দুর্বল গল্পই এ ছবিকে ডুবিয়েছে বলেই জানিয়েছেন অনেকে। এ ব্যর্থতা দিয়েই শুরু হয় ঢাকাই ছবির ২০১৭ সালের যাত্রা। পরে যে খুব একটা ভালো ছবি নির্মিত হয়েছে তা কিন্তু নয়। মাস্তান ও পুলিশের পর মুক্তি পায় ‘কত স্বপ্ন কত আশা’। বাপ্পী চৌধুরী ও পরীমনি অভিনীত এ ছবি মুক্তি পায় ৫০টি হলে। মুক্তির পর ছবিটি নিয়ে আলোচনা হয়নি। হয়নি ব্যবসাও। মূলধন তুলে আনতেও পারেনি বলে খবর রয়েছে। এটি পরিচালনা করেছিলেন ওয়াকিল আহমেদ। এরপর মুক্তিযুদ্ধ, প্রেম আর বিচ্ছেদের ছবি ‘রীনা ব্রাউন’ মুক্তি পেয়েছিল ১৩ জানুয়ারি। খুব বেশি হল পায়নি শামীম আখতার পরিচালিত ছবিটি। এ ধরনের ছবির বেলায় যা হয় এটির ভাগ্যেও তাই ঘটেছিল। পরে প্রিমিয়ার হয় টিভিতে। তবে ব্যবসা এবং আলোচনায় না এলেও ছবিটির গল্প ও নির্মাণ বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। এতে পশ্চিমবঙ্গের বরুণ চন্দ ও বাংলাদেশের সাবেরি আলম, আতাউর রহমান, শম্পা রেজা, মানস চৌধুরীর অভিনয় যারা দেখেছেন তারা মুগ্ধতার কথাই জানিয়েছেন। এরপর একই সপ্তাহে মুক্তি পায় দুটি ছবি। এর মধ্যে একটি মিজানুর রহমান লাবু পরিচালিত ‘তুখোড়’ অন্যটি ‘যে গল্পে ভালোবাসা নেই’। এর মধ্যে তুখোড় মুক্তি পায় ৬০টি এবং যে গল্পে ভালোবাসা নেই ৫০টি প্রেক্ষাগৃহে। দুটি ছবিই ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হয়। তুখোড় ছবিটি ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করেও দর্শক টানতে পারেনি। এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নবাগত নায়ক শিবলী নওমান ও কলকাতার রাতাশ্রী। এ ছবির প্রধান পাওয়া হচ্ছে ছবিটির নায়ক। এ ছবির মাধ্যমেই অভিষেক হয় শিবলীর। এখন তিনি মাহিয়া মাহির সঙ্গে নতুন একটি ছবিতে অভিনয় করছেন। অন্যদিকে ‘যে গল্পে ভালোবাসা নেই’ ছবিটি একেবারেই মুখ থুবড়ে পড়ে। বছরের সেরা অখাদ্য ছবির তালিকায় উঠে আসে এ ছবিটির নামও। রয়েল খান নির্মাণ করেছেন ছবিটি। এতে অভিনয় করেছিলেন সুমিত-তানহা ও ফিরোজ শাহী-ইশারা। এরপর ২৭ জানুয়ারি মুক্তি পায় অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদ পরিচালিত প্রথম ছবি ‘ভালোবাসা এমনই হয়’। নাটকের তারকা মীর সাব্বীর, সাব্বির ও ইরফান সাজ্জাদের সঙ্গে ছবিটিতে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছিলন বিদ্যা সিনহা মিম। ছবিটি খুব বেশি হলে মুক্তি পায়নি। ব্যবসাও হয়নি। অনেকে এটিকে ছবি নয় টেলিফিল্ম বলেই মন্তব্য করেছেন। এই গেল ২০১৭ সালের জানুয়ারির সিনেমার হালহকিকত।

ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই মুক্তি পায় অতিপ্রাকৃত গল্পে নির্মিত ‘মায়াবিনী’ ছবিটি। এ ছবির মাধ্যমে প্রথমবার একসঙ্গে পর্দায় হাজির হন সাইমন ও আইরিন। মুক্তির আগে ছবিটিতে সাইমনের ব্যতিক্রমী চরিত্র বেশ আলোচনার খোরাক থাকলেও নকলের কারণে ব্যবসা করতে পারেনি এটি। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ১০ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পায় জাজ প্রযোজিত এ বছরের প্রথম ছবি ‘প্রেমী ও প্রেমী’। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ছবিটিতে জুটি হিসেবে ছিলেন আরিফিন শুভ ও নুসরাত ফারিয়া। মুক্তির আগে ইন্টারনেট দুনিয়ায় ছবিটি বেশ আলোচনায় ছিল। বিশেষ করে শুভ ভক্তরা ছবিটি নিয়ে বেশ আশাবাদীই ছিলেন। কিন্তু ভাগ্য তখনও শুভর দিকে ফেরেনি। তাই এটি ব্যর্থ ছবির তালিকাতেই স্থান পায়। পরে ‘সত্যিকারের মানুষ’ ‘শেষ চুম্বন’ ও ‘মিসকল’ নামের তিনটি নিন্মমানের ছবি মুক্তি পায়। এ তিনটি ছবি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে সেটি পজেটিভ নয়। এখনও এমন ছবি কীভাবে নির্মিত হয় এ প্রশ্নই উঠেছে ছবিগুলো দেখে। জগতের নিয়ম খারাপের পরই ভালো। ওই ছবিগুলো মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহে আসে ‘ভুবন মাঝি’ ও ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ নামের দুটি সিনেমা। যথাক্রমে ফাখরুল আরেফিন ও নাদের চৌধুরী পরিচালিত ছবি দুটি ব্যবসা না হলেও প্রশংসিত হয় বেশ। বিশেষ করে ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ ছবিতে জলির অভিনয় মন কাড়ে অনেক দর্শকের। মার্চে মুক্তি পায় সায়মন তারিকের ছবি ‘ক্রাইম রোড’। তরুণ সমাজের মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার গল্প নিয়ে তৈরি হয় এ ছবি। আলোচনা-সমালোচনা কিছুই ওঠেনি ছবিটি নিয়েই। একই মাসে মুক্তি পায় ‘ভালোবাসা ১৬ আনা’। একটি নিন্মমানের সিনেমা বলতে যা বুঝায় এটি তাই-ই। মনির হোসেন মিঠু পরিচালিত এ ছবি ১৭ মার্চ মুক্তি পায়। তবে ছবিটি কোনো নকল ছবি নয়। মান্ধাতা আমলের গল্প নিয়েই নির্মিত। নির্মাণেও নেই আধুনিকতার ছাপ। নিন্মমানের নির্মাণ হওয়ার কারণে এ ছবিটি ভুলে ভরা ছিল। একই সঙ্গে ওমর সানী ও রেসি অভিনীত ‘শূন্য’ ছবিটির মানও ছিল তলানিতে। মঈন বিশ্বাসের এ ছবিটি তাই ব্যবসা করা দূরের কথা পুঁজিও তোলা সম্ভব হয়নি। বছরের মাঝামাঝিতে মুক্তি পাওয়া হিমেল আশরাফের ‘সুলতানা বিবিয়ানা’ ছিল আলোচনায়। প্রথম নির্মাণ হিসেবে নির্মাতা বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন ছবিটি দিয়ে। এতে বাপ্পী ও আঁচল জুটি হয়ে অভিনয় করেন। এরপর মিজানুর রহমান লাবুর ‘নুরু মিয়া ও তার বিউটি ড্রাইভার’ ও ‘হঠাৎ দেখা’ নীরবেরই যেন সপ্তাহ পার করেছে। তবে এর মধ্যে ‘নুরু মিয়া ও তার বিউটি ড্রাইভার’ আলোচনায় ছিল। এতে ফজলুর রহমান বাবুর অভিনয় দাগ কেটেছে দর্শকদের। এরপর আলোচনায় আসে হাসিবুর রেজা কল্লোলের ‘সত্ত্বা’ ছবিটি। এতে শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন কলকাতার পাওলি দাম। নির্মাণ ও দর্শক প্রতিক্রিয়ার বিচারে ছবিটি তখন পর্যন্ত বছরের সেরা ছবির তালিকায় উঠে আসে। নির্মাতা জানিয়েছেন মূলধন তুলে ছবিটি ব্যবসাও করেছেন। কিন্তু একই সময়ে কলকাতার আমদানি করা ছবি মুক্তি দেয়ার কারণে কিছুটা বিপদের মুখেই পড়েছিল। তবে সবশেষে দর্শক টানতে পেরেছে সত্ত্বা ছবিটি। এ ছাড়া আরিফিন শুভ-নুসরাত ফারিয়া এবং রোশন ও ফারিন জুটির কমেডি ছবি ধ্যাততেরিকি বেশ প্রচার করে মুক্তি দিলেও এ ছবিটি দর্শক টানতে একেবারেই ব্যর্থ হয়েছে। আর সাইমন সাদিক ও মিষ্টি জান্নাত অভিনীত ‘তুই আমার’ ছবিটি একেবারেই ভরাডুবির ছবি। এর মাধ্যমে পরিচালক সজল আহমেদের নির্মাণের হাঁড়ির খবর জেনেছেন দর্শক। বাপ্পী-পরী অভিনীত শাহ আলম মণ্ডলের ‘আপন মানুষ’ আলোচনা ছাড়াই পার করেছে এক সপ্তাহ। মে মাসে মুক্তি পায় মিজানুর রহমান মিজান পরিচালিত ‘মিলন সেতু’ নামের একটি ছবি। বছরের অখাদ্য তালিকার ছবি এটি। এ ধরনের ছবির প্রয়োজন না থাকলেও প্রযোজক বাগিয়ে ছবিগুলো নির্মিত হচ্ছে। এ তালিকায় আরও রয়েছে ‘ড্রেসিং ডেবিল’, ‘গ্রাস’, ‘মার ছক্কা’, ‘১৬ আনা প্রেমে’, ‘কপালের লিখন’, ‘খাস জমিন’ ও ‘মধু হই হই বিষ খাওয়াইলা’, ‘এক পলকের দেখা’। দুর্বল নির্মাণ আর নিন্মমানের জন্য এসব ছবি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন দর্শক। ফলাফল হিসেবে শোনা গেছে এসব ছবির প্রযোজক লগ্নিকৃতক টাকার এক টাকাও ঘরে তুলতে পারেনি। এ ছাড়া রবীন্দ্রনাথের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘তুমি রবে নীরবে’ ছবিটিও মুক্তি পেয়েছে এ বছর। যদিও ছবিটির অন্যতম নায়িকা তানজিন তিশা জানিয়েছেন এটি তো ছবি নয়, টেলিফিল্ম বলে তাকে অভিনয় করানো হয়েছে। ছবিটি নিয়ে আলোচনা হয়নি একটুও। পাশাপাশি টিভিতে মুক্তি পেয়েছে পূর্ণিমা অভিনীত ‘টু বি কন্টিনিউড’ ও ‘শেষ কথা’ নামের দুটি ছবি। কখন কীভাবে ছবিগুলো দেখানো হয়েছে এ বিষয়ে কোনো খবরই ছিল না চলচ্চিত্রের দর্শকদের। এ বছরের আলেচিত ও ব্যবসায় ছবির তালিকা করলে প্রথমেই উঠে আসে শাকিব খানের ছবিগুলো। তার অভিনীত ‘সত্ত্বা’, ‘রাজনীতি’, ‘নবাব’, ‘অহংকার’, ‘রংবাজ’ ছিল তুমুল আলোচনায়। এর মধ্যে সর্বাধিক আলোচিত হয়েছে বুলবুল বিশ্বাস অভিনীত ‘রাজনীতি’ ছবিটি। আর সর্বাধিক ব্যবসা সফল যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘নবাব’। দুটি ছবিতে শাকিবের বিপরীতে যথাক্রমে অভিনয় করেছেন অপু বিশ্বাস ও কলকাতার শুভশ্রী। তবে ‘অহংকার’ ও ‘রংবাজ’ ব্যবসায়িকভাবে সাফল্য না পেলেও চিত্রনায়িকা বুবলীকে নিয়ে আলোচনায় ছিল ছবি দুটি। একই সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত কলকাতার জিৎ ও বাংলাদেশের নুসরাত ফারিয়া অভিনীত ‘বস টু’ ছবিটিও আলোচনা ও ব্যবসায় সফল ছিল। চিত্রনায়ক ইমন অভিনীত ‘পরবাসিনী’ ছবিটি শুরু থেকেই ছিল আলোচনায়। কিন্তু ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়নি। একসঙ্গে ভারতের দুটি আমদানি করা ছবি মুক্তি পাওয়ায় মুখ থুবড়ে পড়েছিল ছবিটি। তাই কল্পকাহিনীনির্ভর ছবি হলেও দর্শক টানতে পারেনি পরবাসিনী। একই সঙ্গে সোহেল রানা পুত্র মাশরুর পরিচালিত ছবি ‘রাইয়ান’ মুক্তি পায় এ বছর। ছবিটি আলোচনা বা ব্যবসা কোথাও ছিল না। বছরের শেষের দিকে মুক্তি পায় পরীমনি, পপি ও ডিএ তায়েব অভিনীত ‘সোনাবন্ধু’। মুক্তিতেই শেষ ছবিটি। আসেনি আলোচনায়। মুক্তির কয়েক দিনের মাথায় প্রেক্ষাগৃহ থেকে নামিয়ে দিতে দেখা গেছে এ ছবিকে। আরও মুক্তি পেয়েছিল আকরাম খান পরিচালিত জয়া আহসান ও আবুল কালাম আজাদ অভিনীত ‘খাঁচা’। সমালোচকদের দৃষ্টিতে ছবিটি প্রশংসিত হলেও কেবল এ প্রশংসা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে নির্মাতাকে।

শাকিব খান অভিনীত ছবির বাইরে বছরের সেরা আলোচিত ছবির তালিকা করলে প্রথমেই উঠে আসবে আরিফিন শুভ ও মাহিয়া মাহি অভিনীত ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবির কথা। ছবিটি সুপার ডুপার ব্যবসা করেছে। এ ছবিতে আরিফিন শুভ ও মাহিয়া মাহি থাকলেও আলোচনায় ছিলেন ছবির অন্য তারকা এবিএম সুমন ও নতুন খলনায়ক তাসকিন। প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তির পর থেকে দর্শকরা শুধু তাদের নিয়েই আলোচনা করেছেন। সেই সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছেন নির্মাতা দীপঙ্কর দীপন। বলা হচ্ছে শাকিব খানের নবাবের চেয়েও ব্যবসা করেছে ছবিটি। তার আগে মুক্তি পাওয়া অনিমেষ আইচের ছবি ‘ভয়ংকর সুন্দর’ আলোচনা আর সমালোচনার মধ্য দিয়েই এক সপ্তাহ পার করেছে। তবে ব্যবসা করতে পারেনি। বছরের সেরা বিতর্কিত ও আলোচিত ছবি হচ্ছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত, ইরফান খান ও তিশা অভিনীত ‘ডুব’। মুক্তির আগে ছবিটি নানা বিষয়ে আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত কাজে লাগেনি এটি। হুমায়ূন আহমেদের জীবনী নিয়েই নির্মাণ করা হয়েছিল ডুব। ব্যবসায়িকভাবে হয়েছে ব্যর্থ। মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ছবি ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’ মুক্তি দেয়া হয় বছরের শেষ প্রান্তে এসে। ওমর সানী-মৌসুমী, বাপ্পী ও মিম জুটির এ ছবিটিও আলোচিত হয়েছে। তবে সে আলোচনার মাত্রা ছিল অখাদ্য ছবি হিসেবেই। নির্মাণ আর গল্প দুটিই সমালোচিত হয়েছে দর্শকদের কাছে। কারণ এ সময়ে এসে এ ধরনের ছবি আর প্রত্যাশা করেন না কেউ। চিত্রনায়ক নিরবের ক্যারিয়ারে সেরা ছবিটি মুক্তি পেল এ বছরের শেষে। রয়েল খান পরিচালিত ছবিটির নাম ‘গেইম রিটার্নস্’। এতে তার বিপরীতে ছিলেন তমা মির্জা ও লাবণ্য লী। ছবিটি ব্যবসা না করলেও অনলাইন-অফলাইন দুই মাধ্যমেই ছিল আলোচিত। বিশেষ করে নিরব প্রশংসা পাওয়ার মতোই অভিনয় করেছেন এতে। নির্মাণ, গল্প আর সমসাময়িক বিবেচনায় বছরের সেরা ছবির বিচারে তৌকীর অভিনীত ‘হালদা’কে রাখছেন সবাই। ২০১৭ সালের একেবারে শেষে এসে মুক্তি পায় ছবিটি। এতে অভিনয় করেছেন নাট্যাঙ্গনের তিন সুপারস্টার ফজলুর রহমান বাবু, জাহিদ হাসান ও মোশাররফ করিম। সঙ্গে রয়েছেন তিশা ও রুনা খান। প্রত্যেকেই অভিনয়ের দাপট দেখিয়েছেন এ ছবিতে। বছরের শেষে তাই মানের বিবেচনায় হালদাকেই সেরা ছবির বিচারে রেখেছেন বোদ্ধারা। একই সঙ্গে মাত্র একটি হলে মুক্তি পেয়েছিল রুনা খান অভিনীত ছবি ‘ছিটকিনি’। তবে কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি। এরপর মুক্তি পায় দেবাশীষ বিশ্বাস পরিচালিত ‘চল পালাই’। স্বল্প বাজেটের এ ছবি নিয়ে নির্মাতা ছিলেন আলোচনায়। বাজেট বেশি থাকলে হয়তো আরও কিছু উপহার দিতে পারতেন পরিচালক। বছরের একেবারে শেষের মাসে মুক্তি পায় জায়েদ খান ও পরীমনি অভিনীত ‘অন্তর জ্বালা’। মুক্তির আগে ছবিটি নিয়ে বেশ আলোচনা হয়। মালেক আফসারি পরিচালিত এ ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হলেও এতে জায়েদ খান তার ক্যারিয়ারের সেরা অভিনয় উপহার দিয়েছেন। অনেকেই বলেছেন পরিচালক যদি একটু সহনশীল হতেন তা হলে ব্যবসায়িকভাবেও সফলতা পাওয়া যেত।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত