• বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮
তারা ঝিলমিল প্রতিবেদক    |    
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
টিভি নাটকের হালহকিকত
টিভি চ্যানেলগুলোর বিনোদনের প্রধান বিষয়ই হচ্ছে নাটক। বছরজুড়ে চ্যানেলগুলোতে প্রচার হয় অসংখ্য নাটক। কয়েক বছর ধরে আলোচনা করার মতো কোনো নাটকই যেন খুঁজে পাচ্ছিলেন না দর্শকরা। এবার সেটি ঘুচেছে। এ বছর চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত বেশ কিছু নাটক উঠে এসেছে আলোচনায়। তাই ঈদের নাটকগুলোই ঘুরে ফিরে বছরজুড়ে ছিল আলোচনায়। প্রচারিত নাটকগুলো নিয়েও এ আয়োজন

সুদিন আর দুর্দিন মাঝপথ দিয়েই এখন চলছে টিভি নাটক। চ্যানেল কর্তৃপক্ষের দাবি- মানসম্মত দেশি নাটক না পাওয়ায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের চ্যালেগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকার জন্য বাংলাদেশি চ্যানেলে বিদেশি সিরিয়াল প্রচার করা হয়। বিদেশি সিরিয়াল প্রচারের আধিক্য দেখা গেছে এ বছরও। তবে বিষয়টি এ বছর গা সওয়াই হয়ে গেছে। গত বছরের মতো তাই অস্থিরতা ছিল না টেলিভিশন অঙ্গনে। নাটকের বেলায় বছর শেষে এর জেরটানা দুরূহ একটা কাজ। কারণ এত এত চ্যানেলে সংখ্যায় এতবেশি নাটক প্রচার হয় যে, তার প্রায়গুলোই অদেখাই রয়ে যায় দর্শকদের। তবে এখন নাটক দেখা হয় ইউটিউবে। এ প্লাটফর্মটিকেই দর্শকরা নাটক দেখার উত্তম মাধ্যম হিসেবে ভাবেন। তাই একটি নাটকে মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউয়ার হয় বলে শোনা যায়। মূলত খণ্ড নাটক সারা বছর প্রচার হলেও আলোচনায় আসে বছরের দুটি ঈদে প্রচারিত নাটকগুলো। এ দুটি উৎসবে প্রচারিত নাটকগুলোই সারা বছর ইউটিউবে ঘুরে বেড়ায়। তাই নাটকের সালতামামি টানলে ঈদের নাটকগুলোই ঘুরে ফিরে সামনে আসে। আগের বছরের মতো এ বছরও নতুন পুরনো সবক’টি চ্যানেল তাদের অনুষ্ঠানের মান বাড়াতে জোর চেষ্টা চালিয়েছে। এ বছর চেষ্টা আরও সমৃদ্ধই দেখা গেছে। মানসম্মত নাটক প্রচারের পাশাপাশি মানহীন নাটক, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, সঙ্গীতানুষ্ঠান, নৃত্যানুষ্ঠান, টকশোও প্রচার হয়েছে। ভালোর পাশাপাশি এবারও পর্দাজুড়ে সেই গৎবাঁধা গল্পের চর্বিত চর্বণ দেখা গেছে। কমেডির নামে ভাঁড়ামি, রোমান্টিকতার নামে ন্যাকামিও ছিল বেশ। নিন্মমানের গল্পের কারণে প্রতিভাবান অনেক অভিনেতার অভিনয়ও দৃষ্টিকটু লেগেছে। অবশ্য ভালো গল্পের নাটকও ছিল। বেশি বিজ্ঞাপন প্রচারের বিষয়টি বাদ দিলে এ বছরের অনেক নাটকই বেশ উপভোগ্য ছিল। এ বছর দেশীয় চ্যানেলগুলোর বেশ কয়েকটি খণ্ড নাটক বছরজুড়েই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। চ্যানেলগুলোতে দর্শক ফেরাতে নাটকের মাঝে বিজ্ঞাপন প্রচার কমিয়ে আনার চেষ্টাও ছিল প্রশংসনীয়। অধিকাংশ চ্যানেলে অনুষ্ঠান প্রধান ছাড়াই চালানোর বিষয়টি সত্যিই শক খাওয়ার মতো একটি খবর। বছর শেষে এমন খবর চ্যানেলগুলোর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলতেও দেখা গেছে। এ বছর বিটিভির অনুষ্ঠানমালায় দারুণ বৈচিত্র্য দেখা গেছে। ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের বাইরে ভালো ভালো নাটক প্রচারেও এগিয়ে ছিল সরকারি এ চ্যানেলটি। নাটকের মানের দিক থেকে নিজেদের করিডোর থেকে এবার বের হতে পেরেছে বিটিভি। এদিকে বেসরকারি চ্যানেলগুলোর মধ্যে এটিএন বাংলা বরাবরের মতো অনুষ্ঠানের মান কিছুটা হলেও বজায় রাখার চেষ্টা দেখা গেছে। আলোচনা-সমালোচনার বিচারে এ বছরের সেরা আলোচিত নাটক হচ্ছে আরিয়ান পরিচালিত ‘বড় ছেলে’। অপূর্ব মেহজাবিন অভিনীত নাটকটি বছরের শেষে এসেও হচ্ছে আলোচিত। এ ছাড়াও রয়েছে আদনান আল রাজিব পরিচালিত ‘বিকেল বেলার পাখি’। ফজলুর রহমান বাবু অভিনীত নাটকটিও দর্শকদের কাঁদিয়ে ফিরেছে। দুটি নাটকই দুই ঈদে দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। এ ছাড়া ঈদে প্রচারিত আবু হায়াত মাহমুদের ‘ভাঙন’, হানিফ সংকেতের ‘ভুলে ভেসে কূলে আসা’, মাসুদ সেজানের ‘রাঁধুনী’ নাটকগুলো আলোচনায় ছিল। এ বছর চ্যানেল আইয়ে প্রচার হওয়া শিশুতোষ ধারাবাহিক ‘ছোটকাকু সিরিজ; খেলা হবে খুলনায়’ বেশ আলোচনায় এসেছে। ফরিদুর রেজা সাগরের উপন্যাস অবলম্বনে এটি নির্মাণ করেছেন আফজাল হোসেন। নাটক প্রচারের ক্ষেত্রে এনটিভি প্রশংসা পায় প্রতি বছর। ঝকঝকে নাটক প্রচার করে থাকে চ্যানেলটি। ব্যত্যয় ঘটেনি এবারও। এ চ্যানেলটির ঈদে প্রচারিত খণ্ড নাটক ‘আল্টিমেটাম, খণ্ড নাটক ‘লাইফ ইজ কালারফুল’, ‘দেয়ালের ওপারে’, টেলিছবি ‘দ্য পেইন্টার’, ‘ব্যাচ ২৭’ ‘ম্যানিকুইন মুমু’ বেশ সাড়া জাগায়। এবং বিখ্যাত সাত কবির কবিতা থেকে তৈরি সাতটি নাটক ‘ক্যামেলিয়া’, ‘গোপন প্রিয়ার চাহনী’, ‘১৩৩৩’, ‘হঠাৎ নীরার জন্য’, ‘কথোপকথন’, ‘তোমার দিকে আসছি’, ‘যে তুমি হরণ কর’ নাটকগুলো প্রশংসিত হয়েছে। সারা বছরই নাটকগুলো ইউটিউবে ভালোই দেখেছেন দর্শক। পাশাপাশি বছরের শেষে প্রচারে আসা মাসুদ সেজান পরিচালিত ‘ডুগডুগি’ ধারাবাহিক নাটকটিও আলোচনায় আসে। আরটিভির আয়োজনে বিশেষত্বের মধ্যে ছয় পর্বের ধারাবাহিক মোশাররফ করিম ও তিশা জুটির ‘মাহিনের নীল তোয়ালেটা’, ‘পাশাপাশি’, ‘প্যারা-৪’, ‘যমজ-৭’ উল্লেখযোগ্য ছিল। রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘মিস্টার জনি’ দেখে অনেকেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। যেখানে একটি কুকুরের প্রতি মানুষের ভালোবাসার গল্প দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া সাগর জাহানের পরিচালনায় ধারাবাহিক ‘অ্যাভারেজ আসলাম ইজ নট ব্যাচেলর’ সালাহউদ্দিন লাভলুর ‘এখানে প্রেম করা নিষেধ’ ছিল দর্শক আলোচনার শীর্ষে। ‘গৃহপালিত স্বামী’ আলোচনায় ছিল। দিপু হাজরা পরিচালিত ‘আহত গন্তব্য’ নাকটি দর্শকনন্দিত হয়েছে এ বছর। এসএ টিভিতে ‘বসন্ত মেঘ’ নামের নাটকটি বোদ্ধা মহলে দারুণ প্রশংসিত হয়। বৈশাখী টিভির আয়োজনে ‘ককটেল ফ্যাক্টরি’, ‘সেই তুমি এলে’, ধারাবাহিক ‘চাপাবাজ’ নাটকগুলো গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। গাজী টিভিতে দীপু হাজরার নাটক ‘হ্যাপি ফ্যামিলিও প্রশংসিত হয়েছে। এ ছাড়াও বছরের শেষে এসে বিজয় দিবস উপলক্ষে মাবরুর রশিদ বান্নাহ নির্মাণ করেছেন ‘১৭ ডিসেম্বর’। বিজয় দিবসের নাটক হিসেবে দর্শকদের কাছে বেশ আলোচিত হয় নাটকটি। এশিয়ান টিভিতে হাসান জাহাঙ্গীরের নতুন ধারাবাহিক ‘অ্যাকশন গোয়েন্দা’ও টিআরপিতে এগিয়ে আছে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত