যুগান্তর ডেস্ক    |    
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
দুবাই হোটেলের সেই রাতের কাহিনী
ভেবেছিলাম মরে গেছি নতুন বছরটা আর দেখা হবে না
নববর্ষ উদযাপনের প্রাক্কালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী দুবাইয়ে অবস্থিত ৬৩ তলাবিশিস্ট ডাইনটাউন হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। দুবাইয়ের সুদীর্ঘ ভবন বুর্জ দুবাইয়ের পাশেই এটি অবস্থিত। বৃহস্পতিবার রাতে হোটেলটির ২৮ তলায় আগুন লেগে সব ভবনে ছড়িয়ে পড়তে থাকে (ইনসেটে) -এএফপি

কে জানত বছরটা শুরু হবে এভাবে। এমন এক অভিজ্ঞতা দিয়ে, যা সারা জীবন মনে থেকে যাবে তার। সুখের নয়, ভয়াবহ। বিধ্বংসী আগুন তখন তার থেকে আর কয়েক মিনিটের দূরে। আর বাঁচার আশায় ৬০ তলাবিশিষ্ট পাঁচতারকা হোটেলের ৪৮ তলার ব্যালকনিতে কোমরে দড়ি বেঁধে ঝুলে রয়েছেন তিনি। উদ্ধারকারী দলের চেষ্টায় আগুনের গ্রাস হওয়া থেকে রক্ষা পেলেন বটে। তবে ঝলসে গেছে তার ভেতরটা। সেই রাতের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এখনও কেঁপে কেঁপে উঠছেন তিনি।

নতুন বছর শুরু হতে তখন আরও কিছুটা সময় বাকি। বুর্জ খালিফার পাশে যে বহুতল হোটেলে আগুন লেগেছে তিনি তখন তার ৪৮ তলায় দাঁড়িয়ে। নতুন বছরের আনন্দকে ক্যামেরাবন্দি করার জন্য। পেশার তাগিদে। সঙ্গে ছিল এক বন্ধু। দু’জনেই সাংবাদিক। নতুন বছরে বুর্জ খালিফাকে ঘিরে যে আলো এবং উৎসবের বন্যা হওয়ার কথা, সেটাই ক্যামেরাবন্দি করতে গিয়েছিলেন দু’জনে। যে হোটেলে আগুন লাগে তারই ৪৮ তলায় উঠেছিলেন। জানলার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন। কখন যে নিচ থেকে চুপিসারে বিধ্বংসী আগুন তাদের দিকে ছুটে এসেছে একবারের জন্যও টের পাননি তিনি। বন্ধুই প্রথম দেখতে পান। আর দেখেই চিৎকার করে সাবধান করে তাকে। বন্ধু ছুটে বেড়িয়ে গেলও আটকে পড়েন তিনি। ততক্ষণে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেছে। উপায় না দেখে নেমে পড়েন ব্যালকনিতে। বুঝেছিলেন এতে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘর ছাড়িয়ে সেই আগুন ব্যালকনিতেও এসে পড়বে। পাশেই ঝুলছিল শক্তপোক্ত দড়ি। সেই দড়ি কোমরে বেঁধে ঝুলে পড়েন তিনি। এই দড়ির সাহায্যেই ওই বহুতলটিকে বাইরে থেকে পরিষ্কারের কাজ করেন কর্মীরা। এর পর... প্রতিটা মুহূর্ত তার কাছে ঘণ্টার মতো কাটছিল। চিৎকার করছিলেন। কিন্তু শুনবে কে? এক ঘণ্টা এভাবেই ঝুলে ছিলেন তিনি। ভেবেই নিয়েছিলেন নতুন বছরের সকালটা তার আর দেখা হবে না। তাই চোখ বন্ধ করে শুধু প্রিয়জনদের কথাই ভাবছিলেন। কখন যে উদ্ধারকীরা দল এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে গেছে- মনে ছিল না সে কথাও। জ্ঞান যখন ফিরল তখন হাসপাতালে। চারদিকে সাংবাদিকদের ভিড়।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত