যুগান্তর ডেস্ক    |    
প্রকাশ : ২১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে ক্ষতি ১৪০০ কোটি ডলার
যুদ্ধে জড়িত মার্কিন উপদেষ্টাদের সরিয়ে নিচ্ছে ওয়াশিংটন
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে ১৪০০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে। বিশ্বব্যাংক, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক, জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ প্রতিবেদনে এ কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মে মাসের ৬ তারিখে এ সমীক্ষা দেয়া হয় এবং এটিকে অসম্পূর্ণ ও আংশিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, যুদ্ধে এ পর্যন্ত ইয়েমেনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৭০০ কোটি ডলার। এছাড়া উৎপাদন ও সেবা খাতে দেশটির আরও ৭৩০ কোটি ডলার সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়, দেশটির প্রাথমিক ক্ষতি এবং প্রয়োজনীয়তা যাচাইয়ের জন্য প্রণীত এ প্রতিবেদন প্রকাশ করার জন্য তৈরি করা হয়নি। ২০১৫ সালের শেষ ভাগসহ চলতি বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত যুদ্ধে ইয়েমেনের ক্ষতি এতে যাচাই করা হয়। সৌদি আরবের অব্যাহত আগ্রাসনের মুখে দেশটিতে ক্ষতির পরিমাণ প্রতিদিনই বাড়ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতেই প্রতিবেদনকে আংশিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, প্রতিবেদনে অবিলম্বে খাদ্য ও জ্বালানিসহ আমদানি ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে।
২০১৫ সালের ২৬ মার্চ থেকে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে একতরফা সামরিক আগ্রাসন শুরু করে সৌদি আরব। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মানসুর হাদি ইরান সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। ১৬ মাসের এ গৃহযুদ্ধে অন্তত ৬ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হন। এছাড়া উদ্বাস্তু হয়েছেন আরও ২৫ লাখ মানুষ। ইয়েমেনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সমীক্ষায় দেখানো হয়, ১ হাজার ৬৭১টি স্কুলের ক্ষতি হয়েছে, এর মধ্যে ২৮৭টি স্কুলের বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। ১৪৩টি স্কুল ভবনসহ ৫৪৪টি উদ্বাস্তু ক্যাম্প গঠন করা হয়েছে, এর মধ্যে আবার ৩৩টি সেনাদের দখলে।
এদিকে, ইয়েমেনে সৌদি-নেতৃত্বাধীন বিমান হামলা পরিকল্পনা সমন্বয়ের কাজে নিয়োজিত উপদেষ্টাদের প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। বাহরাইন থেকে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট আয়ান ম্যাককোনাগহি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এখন ‘যৌথ সম্মিলিত পরিকল্পনা সেল (জেসিপিসি)’-এ নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মীর সংখ্যা পাঁচেরও কম।
ইয়েমেনে বিমান হামলারত আরব জোট বাহিনীর জঙ্গিবিমানগুলোকে মধ্যাকাশে জ্বালানি সরবরাহ এবং গোয়েন্দা তথ্য-বিনিময় সীমিত করার মতো বিষয়গুলো সমন্বয় করার লক্ষ্যে গেল বছর এই ‘যৌথ সম্মিলিত পরিকল্পনা সেল’ গঠন করা হয়েছিল। এই সেলের অংশ হিসেবে রিয়াদ ও অন্য এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রায় ৪৫ জন কর্মী এক সময় ২৪ ঘণ্টার জন্য নিয়োজিত থাকলেও এখন তাদের সংখ্যা কমানো হয়েছে বলে ম্যাককোনাগহি জানিয়েছেন।
এর আগে চলতি বছরের প্রথম দিকে ইয়েমেনে আরব জোট বাহিনীর বিমান হামলার মাত্রা কমে আসার পর জুনে কিছু কর্মী প্রত্যাহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। আরব জোট বাহিনীর বিমান হামলায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ব্যাপক হওয়ায় নজরদারি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেসিপিসিতে নিজেদের সার্বক্ষণিক সম্পৃক্ততা কমাতে শুরু করে ওয়াশিংটন।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত