যুগান্তর ডেস্ক    |    
প্রকাশ : ২১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
কাশ্মীরে এক মাসে সাড়ে ১৩ লাখ ছররা গুলি ব্যবহার

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সাম্প্রতিক অস্থিরতা সামলাতে দেশটির আধা সামরিক বাহিনী এক মাসে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ ছররা গুলি ব্যবহার করেছে। একই সময়ের মধ্যে সাড়ে আট হাজার কাঁদানে গ্যাসের শেলও ফাটানো হয়েছে বিক্ষোভ সামাল দিতে। আধা সামরিক বাহিনীর ছোড়া ছররা গুলি বা কাঁদানে গ্যাসে ৪২ দিনে ৬৬ জন নিহত হয়েছেন। বহু মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকে অন্ধ হয়ে গেছেন। আদালতে দায়ের করা এক মামলার জবাবে ভারতের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী এ হিসাব দিয়েছে। খবর বিবিসি বাংলার।

পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছররা গুলি ব্যবহার না করে যদি তারা গুলি ব্যবহার করতেন, তাতে অনেক বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারত। ভারত শাসিত কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী নেতা বুরহান ওয়ানির নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে মৃত্যুর পর থেকেই সেখানে চলছে ব্যাপক বিক্ষোভ। ওই বিক্ষোভ দমনে পুলিশ এবং আধা সামরিক বাহিনী ব্যাপকহারে ছররা গুলি ব্যবহার করে। ৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ওই বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৬৬ জন মারা গেছেন। কিন্তু মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ছররা গুলিতে। আদালতে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার জবাব দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী জানিয়েছে, তারা ১১ অগাস্ট পর্যন্ত বিক্ষোভ শুরুর ৩৪তম দিন পর্যন্ত তিন হাজার ছররা গুলির কার্তুজ ছুড়েছে, অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ ছররা ছোড়া হয়েছে।

একই সময়ে সাড়ে আট হাজার কাঁদানে গ্যাসও ছোড়া হয়েছে। কাশ্মীরের হাসপাতাল প্রশাসন বলছে এখনও পর্যন্ত ছররায় আহত ৬০০ মানুষের অপারেশন করা হয়েছে যাদের মধ্যে ১১২ জনের চোখে ছররা লেগেছে। আহতদের অনেকের পরিবার বলছে, অপারেশনের পরেও আহতরা চোখে দেখতে পাচ্ছেন না। চিকিৎসকরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রেই ছররা গুলি বন্দুকের গুলির থেকেও মারাত্মক এবং প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

রাজা হরি সিং হাসপাতালের শল্য চিকিৎসক ডা. জাভেদ বিবিসিকে বলেন, গুলির আঘাত মাত্র একটি-ই হয়, কিন্তু ছররা মানুষের শরীরে একই সঙ্গে অনেকগুলো আঘাত বা ছিদ্র তৈরি করে দেয়। অপারেশনের সময় দেহে থেকে যাওয়া সবগুলো ছররার সন্ধান পাওয়াও কঠিন। এর ফলে আহতের মৃত্যুও হতে পারে। গত মাসে ভারত শাসিত কাশ্মীরে এক সফরে এসে ঘোষণা করেছিলেন যে ছররা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাহিনীগুলিকে সংযত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ছররা কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা খতিয়ে দেখার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও গঠিত হয়েছে।

এক সময় শিকার করার জন্য ছররা গুলি ব্যবহার করা হত। ছোট ছোট ধাতব বলের ভেতরে বারুদ ভরে তারপরে প্লাস্টিকের আচ্ছাদন দিয়ে একেকটি ছররা তৈরি হয়। একেকটি কার্তুজে সাড়ে ৪০০ ছররা থাকে, যেটা বন্দুক থেকে ছোড়া হলে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভকারীদের আহত করে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত