যুগান্তর ডেস্ক    |    
প্রকাশ : ২৬ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
এবার অ্যাটর্নি জেনারেলের ওপর ট্রাম্পের খড়্গ
যে কোনো মুহূর্তে বিদায়

অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্সের সমালোচনা আরও তীব্র করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের নিয়োগ দেয়া এবং এককালের মিত্র সেশন্সের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সমালোচনা গত সোমবার এমন স্তরে পৌঁছায় যাতে এমন সম্ভাবনা চাউর হয়েছে যে, এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প তাকে বহিষ্কারের ভিত্তি প্রস্তুত করছেন। এএফপি জানায়, সেশন্সকে সরিয়ে দেয়ার সম্ভাবনার ব্যাপারে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা আলোচনা করছেন। এই আলোচনার সঙ্গে জড়িত এমন কয়েকজনের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট সোমবার এক প্রতিবেদনে এ কথা জানায়। তবে ট্রাম্প আসলে সেশন্সকে বহিষ্কার করতে চাচ্ছেন না। তিনি চাচ্ছেন, সেশন্স নিজে থেকেই পদত্যাগ করুন।

সিএনএন বলেছে, ‘ইউ আর ফায়ারড’ বা ‘আপনি বরখাস্ত’ শব্দগুচ্ছটি ট্রাম্পের পছন্দের হলেও তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন, তিনি আসলেই বহিষ্কার করতে পছন্দ করেন না। উদাহরণস্বরূপ, এর আগে রুশ রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াকের সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে মিথ্যা বলায় সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনকে পদত্যাগের সুযোগ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এরপর গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউস প্রেস সচিব শন স্পাইসারও পদত্যাগ করলেন। তবে একমাত্র ব্যতিক্রম হচ্ছেন, সাবেক এফবিআই প্রধান জেমস কমি। ট্রাম্পের মতে, মার্কিন নির্বাচনে রুশ সংযোগ তদন্তে তার একগুঁয়েমি অবস্থানের কারণে তাকে বরখাস্ত করতে বাধ্য হন তিনি। এবার নিজের অ্যাটর্নি জেনারেলের ক্ষেত্রে সেই একই পথ অবলম্বন করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প।

রুশ সংযোগ নিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়ায় সোমবার এক টুইটার বার্তায় সেশন্সকে ব্যাপক সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘সিনেট গোয়েন্দা কমিটি ও তদন্তকারীরা এবং অবশ্যই আমাদের ‘কোণঠাসা’ অ্যাটর্নি জেনারেল কুচক্রী হিলারি ক্লিনটনের অপরাধ ও তার রুশ সংযোগ কেন তদন্ত করছে না।’ একসময়ের মিত্র সম্পর্কে ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রশাসনের অনেকেই অবাক হয়েছেন। ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্প-রাশিয়া সংযোগ বিষয়ে সেশন্সের অধীন মার্কিন বিচার বিভাগের তদন্ত যতই বেগবান হচ্ছে, সেশন্সের ব্যাপারে ট্রাম্পের ক্ষোভ ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সেশন্সকে সরাসরি আক্রমণ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তিনি যদি আগে থেকে জানতেন যে, রাশিয়াবিষয়ক তদন্ত থেকে সেশন্স নিজেকে প্রত্যাহার করে নেবেন, তাহলে তাকে নিয়োগই দিতেন না।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, রুশ সংযোগ তদন্ত বন্ধ করতে ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভাব্য কৌশল হিসেবে বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুলারকে বহিষ্কার করতে চায়। সেই কৌশলের অংশ হিসেবে আগে সেশন্স থেকে মুক্ত হতে চাচ্ছেন ট্রাম্প। আর এ জন্যই এ সমালোচনা। এদিকে সোমবার ট্রাম্পের টুইটার বার্তা প্রকাশের পরপরই এক্সিওস নামের একটি ওয়েবসাইট জানায়, সেশন্সের জায়গায় আরেক সাবেক সমর্থক রুডি জিউলিয়ানিকে আনতে চাচ্ছেন ট্রাম্প। তবে জিউলিয়ানি এ খবর উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, বিচার বিভাগের নিয়মানুযায়ী রুশ তদন্ত থেকে সেশন্সের নিজেকে প্রত্যাহার সঠিক ছিল।

এদিকে ট্রাম্পের প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক নেতৃস্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি বেশ কিছু নীতি নিয়ে দ্বিধাবিভক্তি ও আমলাতান্ত্রিক পরাজয়ের পর তাদের অনেকেই কাজের ক্ষেত্রে স্বাধীনতার অভাবকে দায়ী করছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের গতানুগতিক নেতৃত্ব এবং ‘আমেরিকাই প্রথম’ নীতি নিয়ে প্রশাসনের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ কারণে পররাষ্ট্রনীতি এবং পেশাদার গোয়েন্দাদের সমস্যা হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন তার বন্ধুদের বলেছেন, এক বছর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে যেতে পারলে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করবেন। অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টার গুরুত্বপূর্ণ নীতি নিয়ে হোয়াইট হাউসের ভেতরকার অসংগঠিত ও বিশৃঙ্খল অবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত