যুগান্তর ডেস্ক    |    
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একযোগে মুখ খুললেন ওবামা ও বুশ
আমেরিকা ৫০ বছর পিছিয়ে গেছে : ওবামা * রাজনীতি বিপজ্জনক পথে এগোচ্ছে : বুশ

রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্নতা থাকলেও সাবেক দুই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জর্জ ডব্লিউ বুশ একই বিন্দুতে মিলে সমালোচনা করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। দেশটিতে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দু’জনই মুখর হয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্টের সমালোচনায়। বারাক ওবামা এক সম্মেলনে দেশটির নাগরিকদের ভীতি ও ‘দ্বিধাবিভক্তির’ রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে বুশ আহ্বান জানিয়েছেন ধর্মান্ধতা ও শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যকে বর্জনের। এছাড়া ‘জনজীবনে কুসংস্কার ও ফাঁকা তর্জন-গর্জনের’ সমালোচনা করেছেন তিনি। বিবিসি জানায়, দু’জনই আলাদাভাবে এমন বক্তব্য দিলেও কেউই ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি। বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে ট্রাম্প তার সাবেক দুই পূর্বসূরির সমালোচনা করে আসছেন। তবে বুশ ও ওবামার বক্তব্যের ব্যাপারে এখনও কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

ঐতিহ্যগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টরা সাধারণত বর্তমান প্রেসিডেন্টের শাসনের সমালোচনা করেন না। ওবামা দায়িত্ব ছাড়ার আগে বলেছিলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ আমার প্রতি যেমন সম্মান দেখিয়েছেন, ট্রাম্পের প্রতি আমিও তেমনটাই প্রদর্শন করব। সেই ঐতিহ্য মেনেই ওবামা চলতি বছরের জানুয়ারিতে দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে এক রকম নীরবই ছিলেন। তবে অল্প কয়েকবারের জন্য নিজের শাসনামলে গৃহীত স্বাস্থ্যসেবা বিল ‘ওবামা কেয়ার বাতিলের চেষ্টা, মুসলিমদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞা ও জলবায়ু চুক্তি থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিজের মতামত ব্যক্ত করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার পৃথক পৃথক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন সাবেক এ দুই প্রেসিডেন্ট। প্রায় এক বছর পর প্রথমবারের জন্য রাজনীতিতে ফিরে নিউজার্সির নিউইয়র্কে ডেমোক্রেটিক পার্টির এক প্রচারণা অনুষ্ঠানে ওবামা বলেন, আমেরিকানদের উচিত পুরো বিশ্বকে জানানো যে, আমরা বিভাজনের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা ভয়ভীতির রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করছি। শত বছর আগের বিভাজনের রাজনীতি এখন আর যুক্তরাষ্ট্রে চলতে পারে না জানিয়ে আমেরিকার জনপ্রিয় এ প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা এখন এমন রাজনীতি দেখছি, মনে হচ্ছে (রাজনীতি) ৫০ বছর আগে ফিরে গেছে। এটা একুশ শতক, উনিশ শতক নয়। এটা আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে।’ ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডেও একই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ওবামা বলেন, আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যদেরকে ক্ষুব্ধ করার চেষ্টা করছে। ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, জনগণের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে যদি আপনাকে নির্বাচনে জিততে হয়, তাহলে আপনি তাদেরকে শাসন করতে সক্ষম হবেন না। আপনি তাদেরকে আর ঐক্যবদ্ধও করতে পারবেন না।

এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নিউইয়র্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বুশ বলেন, আমেরিকায় গোঁড়ামি বেড়ে গেছে। বিভিন্নভাবে প্রশ্রয় পাচ্ছে গোঁড়ামি। ষড়যন্ত্র ও পুরোপুরি মিথ্যার ওপর ভর করে আমাদের রাজনীতি আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে এগুচ্ছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি প্রচ্ছন্ন সমর্থন কমে যাওয়ার নিদর্শন দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে। এর কারণ রাজনীতির কারণে জনজীবনে ‘হানাহানি ও কুসংস্কার’ ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘ধর্মান্ধতাকে এদেশে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। চক্রান্তের তত্ত্বের কাছে আমাদের রাজনীতি এখন অনেক অসহায় হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শ্বেতাঙ্গদের চালানো সহিংসতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বুশ। ট্রাম্পের অভিবাসীবিরোধী নীতির বিরোধিতা করে জর্জ বুশ বলেন, ‘যে কোনো ধরনের ধর্মান্ধতা বা শেতাঙ্গ আধিপত্য আমেরিকার ঐতিহ্যের জন্য হুমকি। আমরা দেখেছি কিভাবে জাতীয়তাবাদ আঞ্চলিকতায় রূপান্তরিত হয় এবং ভুলে গেছি আমেরিকার উন্নতির ক্ষেত্রে অভিবাসন কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।’ যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩তম রাষ্ট্রপতি বুশ সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব বাজারে মার্কিন অর্থনীতির অবনমনের কথাও তুলে ধরেন।

গত বছর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ধনকুবের ট্রাম্প তার দলের প্রেসিডেন্ট বুশ এবং বিরোধী দলের প্রেসিডেন্ট ওবামার কড়া সমালোচনা করেছেন। বিভিন্ন সময় তাদের প্রেসিডেন্সিকে ‘সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে শাসনামল’ বলেও অভিহিত করেন তিনি। জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব নেয়ার পর ট্রাম্পের নানা নীতি ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান উভয় দলেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এ ধরনের আলোচনা তৈরির জন্য ট্রাম্প মার্কিন গণমাধ্যমকে দোষারোপ করে আসছেন।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত