রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
রৌমারীতে টিআর কাবিখা প্রকল্পে লুটপাটের অভিযোগ

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে টিআর, কাবিখা ও উপ-বরাদ্দসহ বিভিন্ন কর্মসূচি প্রকল্পে হরিলুট হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে ৬টি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি প্রকল্পে বরাদ্দকৃত টাকা এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, চেয়ারম্যান-মেম্বার যোগসাজশে ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছেন। পিআইসির সভাপতির নামে প্রকল্প করার কথা থাকলেও চলছে স্বেচ্ছাচারিতা। প্রকল্পে তালিকায় রয়েছে এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, চেয়ারম্যান-মেম্বারদের স্বজনদের নাম। এছাড়া কোথাও কোথাও প্রকল্পে তালিকায় প্রকৃত পিআইসির সভাপতির নাম বাদ দিয়ে সুবিধা নিয়ে বাপ-বেটা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, শালা-দুলাভাইসহ স্বজনদের নাম ব্যবহার করে প্রকল্প অনুযায়ী কাজ না করে উত্তোলন ও অর্থ আত্মসাৎ করা। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এ প্রকল্পের তদারকি ও জবাবদিহিতা না থাকায় ইউপি চেয়ারম্যানরা ভুয়া প্রকল্প সাজিয়ে সরকারি টাকা ইচ্ছামতো লুটপাট করেছেন। এসব অভিযোগ তুলে একাধিক সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তি প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি বলে জানান ভুক্তভোগীরা। এছাড়া-দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক দায়সারা অনুসন্ধান। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় (পিআইও) ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আয়তায় রৌমারীতে ৬টি ইউনিয়নের ৫৪টি ওয়ার্ডে ৪৬৫টি প্রকল্প দাখিল করা হয়। প্রথম কিস্তিতে সাধারণ টিআর ৮০টি প্রকল্পের বিপরীতে ৫৬ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫৫ টাকা, দ্বিতীয় কিস্তিতে সাধারণ টিআর ৪২টি প্রকল্পের বিপরীতে ৪৪ লাখ ৩ হাজার ৯২৯ টাকা, কাবিখা প্রথম কিস্তিতে সাধারণ ১৮টি প্রকল্প বিপরীতে ৬০ লাখ ১৩ হাজার ৪৩৫ টাকা, দ্বিতীয় কিস্তিতে সাধারণ কাবিটা ১৩টি প্রকল্প বিপরীতে ৪৭ লাখ ৫৫ টাকা। অপরদিকে এমপির প্রথম কিস্তিতে টিআর ৭৮টি প্রকল্পের বিপরীতে ৬৬ লাখ ৭০ হাজার ৯২৮ টাকা, দ্বিতীয় কিস্তিতে টিআর ৬২টি প্রকল্প বিপরীতে ৫৫ লাখ ১৩ হাজার ৯৭৬ টাকা, কাবিখা প্রথম কিস্তিতে ১৫টি প্রকল্প বিপরীতে ৪২ লাখ ৭৫ হাজার ৫২৫ টাকা, দ্বিতীয় কিস্তিতে কাবিটা ১৮টি প্রকল্প বিপরীতে ৪৬ লাখ ৭০ হাজার ৬৮৬ টাকা। এছাড়া বিশেষ কাবিখা কর্মসূচিতে ১৩৯ প্রকল্পের বিপরীতে ৩১৫ মে, টন চাল যার সমপরিমাণ মূল্য ৯২ লাখ ২০ হাজার ৩৫৯ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তৃর্ণমূল জনগোষ্ঠীর চাহিদার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ এবং ৩০ জুনের মধ্যেই ব্যাংক থেকে বরাদ্দকৃত টাকা সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের উত্তোলন করে বিতরণ করার কথা। কিন্তু এসব বরাদ্দের বিপরীতে নিজ নিজ এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানরা অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে ৬টি ইউনিয়নের ৫৪টি ওয়ার্ডে টিআর, কাবিটা ও বিশেষ কর্মসূচিতে বিভিন্ন নামে ৪৬৫টি প্রকল্প দাখিল করেন। একেক্ষত্রে কোনো নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি।

টাকা বিতরণের সময় উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক মনোনীত ট্যাগ অফিসার উপস্থিত থাকবেন। এক্ষেত্রে কোনো প্রকল্পের ডিজাই ও নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। কর্মসূচির শুরুতে রৌমারী, শৌলমারী, দাঁতভাঙ্গা, বন্দবেড়, যাদুরচর ও চরশৌলমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, কর্মসূচির বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কথা।

এ ব্যাপারে এমপি রুহুল আমিন বলেন, আমি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি করিনি। প্রয়োজনে তদন্ত টিম গঠন করে যাচাই-বাছাই করা হবে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সিরাজুদৌলা বলেন, প্রকল্পে কোনো স্বজন ব্যক্তির নাম দেয়ার নিয়ম নেই। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায় বলেন, আমি একাধিক মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত