¦
রাতের শহর আমিরাত

কামরুল হাসান জনি | প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৫

আমিরাতকে রাতের শহরও বলা হয়। কারণ এখানে রাত নামলেও রাত মনে হয় না, এত আলোকবাতি আঁধারকে আলোয় ভরিয়ে তোলে। চাঁদ এখানে মূল্যহীন। এবার আমাকে চড়তে হল রাব্বি ভাইয়ের গাড়িতে। রাব্বি ভাই গাড়ি ড্রাইভ করছেন আর দুই দিকে তাকিয়ে গাড়ির সবাইকে বারবার আকর্ষণ করছেন। এঁকেবেঁকে গাড়ি যত নিচের দিকে যাচ্ছে ততই এবার মনে হচ্ছে আমরা যেন বিমানে বসে আছি। ওপর থেকে পুরো আল আইন শহরই দেখা যাচ্ছে। বিমান ভূমিতে নামছে। চারদিকে এত আলো, এক কথায় অপূর্ব সৌন্দর্যে সাজানো হয়েছে জাবেল হাফিতের চারপাশসহ পুরো আল আইন শহর। আমাদের গাড়ি শাহীন ভাইয়ের গাড়িকে অনুসরণ করে চলছে। হঠাৎ শাহীন ভাইয়ের গাড়ি পাহাড়ের ভেতরে অন্য একটি রাস্তায় চলে গেল। রাব্বি ভাইও তার পিছু পিছু ছুটলেন। ভেতরে গিয়ে দেখি, একি! এত 'ঐড়ঃবষ গবৎপঁৎব এ ৎধহফ'। আগে জানাই ছিল না এ পাঁচতারা হোটেলটি গুহার মতো পাহাড়ের মধ্যে তৈরি করা হয়েছে। একটু করে বলছি, এ হোটেলটি আমিরাতের অন্যান্য পাঁচতারা হোটেলগুলোর মতো দেখা গেলেও এখানে রাত যাপন করতে বুরজ আল আরব হোটেলের চেয়েও বেশি খরচ লাগে। হোটেলটি বাইরে থেকে দেখে আমাদের গাড়ি আবার নামতে শুরু করল। চারদিকের মনোরম দৃশ্যের কাছে আমাদের চোখ বারবার যেন হার মানছে। চলতে চলতে আমরা চলে এলাম গ্রিন মুবাজ্জেরায়। এটি পার্কের মতো। একপাশে কৃত্রিম লেক অন্যপাশে সবুজ বনভূমি। হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম এখানেও। তখন রাত আটটা। লেকের পাশে কিছু সময় ব্যয় করে এবার সবাই যাত্রা করলাম সবুজ অরণ্যের দিকে। নাম আইনুল ফাইদা। অসম্ভব সুন্দর। নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না, এত সুন্দর সবুজে সাজানো দেখেও তা বর্ণনায় প্রকাশ করার ভাষা খুঁজে পাওয়া যায় না। পাহাড়ের ওপর সবুজ ঘাস বিছানো। সারি সারি গাছ। এখানে অনেকেই পিকনিক করতে এসেছেন। অনেকে এসেছেন বারবিকিউ ডিনার সারতে। কিছু সময় এখানে ব্যয় করলাম আমরা। এখানে একটি দোকানও আছে। তরল পানীয় পাওয়া যায়। সুমি আপু ওখান থেকে সিদ্ধ ভুট্টা নিয়ে এলেন সঙ্গে ভাজা সমুচা। সবুজ পরিবেশে অন্যরকম অনুভূতি সবার। শহীন ভাই তো বলেই পেললেন, ‘আজকের দিনটিই স্বার্থক, এমন একটি এলাকা ঘুরে দেখতে পারলাম।’
খানিক সময় বাদে আমরা সবাই মিলে গেলাম শিবলী ভাইয়ের বাবা মোজাফফর আহমদ খানের সঙ্গে পরিচিত হতে জানলাম তিনি একসময় আমিরাতের সামরিক বাহিনীতে চাকরি করতেন। এখন নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখাশোনা করেন সানাইয়াতেই। বেশ ব্যক্তিবান ব্যক্তি তিনি। সেখান থেকে আমরা ফিরলাম সোজা আল আইনের বিখ্যাত জাহেলি পার্কে। পার্কের এক পাশে আমিরাতের শেখ পরিবারের বাড়ি অন্যপাশে বিখ্যাত আল আইন মিউজিয়াম। এখানেই আমাদের রাতের খাবারের আয়োজন। পিকনিকের মতো করে সবকিছু সাজানো হয়েছে। পার্কে নতুন করে আমাদের দলে যুক্ত হয়েছেন আল আইনের কমিউনিটি নেতা ওসমান ও নুরুল আলম। সঙ্গে ছিল বন্ধু সোহেল। আমরা প্রস্তুতি সারছি আর নিজের হাতে রান্না করে খাবার নিয়ে উপস্থিত হলেন হাসান। কোয়েল পাখির গোশত, গরুর গোশত, মাছসহ কত কি আয়োজন। দেশীয় খাবারের আয়োজন বলা চলে। সম্মিলিতভাবে সবাই শেষ করলাম রাতের খাবার। এরপর কিছুক্ষণ গল্পগুজব আর কৃত্রিম ঝর্ণার পাশে ও ফুলের সমারহে আমরা কাটালাম সময়। সুমী আপু ও দিবা আপু ফুল খুব পছন্দ করে দেখেই বুঝা গেল। সব শেষে বিদায়ের পালা। দুবাইওয়ালা ফিরে যাবেন দুবাইয়ে। ছুটির দিনটি স্বার্থক হল। এ এক নতুন অভিজ্ঞতা আমার। মরুর সবুজ অরণ্যে না এলে হয়তো অদেখা থেকে যেত অপরূপ এ সৌন্দর্য। কয়েক ঘণ্টার এ সময়ে জাবেল হাফিতসহ মরুর দেশের সবুজ অরণ্য ঘুরে ঘুরে যেন ভ্রমণের শতভাগ স্বাদ পেলাম। এবার যে যার মতো করে বিদায় নিয়ে নিজ নিজ গাড়িতে ফিরে গেলেন। তাদের থেকে বিদায় নিলেও আমি রয়ে গেলাম আল আইন শহরে। সবুজ অরণ্যের আরও অনেক কিছুই দেখার বাকি রয়ে গেছে। সেসব না দেখে কি ঘরে ফেরা যায়!
লেখক : সাংবাদিক; দুবাই, আরব আমিরাত
news.jony/gmail.com
 

পরবাস পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close