jugantor
মাঠে নেই বিএনপি : ফুরফুরে মেজাজে শাওন সমর্থকরা

  মোঃ জসিম জনি, লালমোহন থেকে  

০২ ডিসেম্বর ২০১৩, ০০:০০:০০  | 

ভোলা-৩ নির্বাচনী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে ফুরফুরে মেজাজে আছেন এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন সমর্থকরা। শাওনের মনোনয়ন পাওয়ার পর লালমোহন পৌরশহর থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়েও আনন্দ মিছিল করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নেতাকর্মীরা। ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় আ’লীগের মনোনয়ন পাওয়ার পর ৩০ নভেম্বর সকালে লালমোহন নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করা হয়েছে। শাওনের পক্ষ থেকে বাজারের ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার মোঃ ফজলুল হক এ ফরম ক্রয় করেন। এদিকে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেও এ আসনে মাঠে নেই বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের কেউ। দুই উপজেলায় যেন শূন্য হয়ে গেছে বিএনপি। অথচ ভোলা-৩ আসনটি ২০০৮-এর নির্বাচনের আগে দখলে ছিল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের। তিনি পরপর ৬ বার এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। ২০০৮-এর নির্বাচন ও ২০১০ সালের উপনির্বাচনে পরাজয়ের পর বিএনপি-জামায়াত জোট অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এ আসনে। যার কারণে এ পর্যন্ত সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলনে মাঠে নামেনি বিএনপি ও জামায়াতের কেউ। এ পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে যত হরতাল এবং অবরোধ দেয়া হয়েছে তা একদিনের জন্যও পালন করতে পারেনি লালমোহন ও তজুমুদ্দিন উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে বিএনপির একটি গ্র“প আ’লীগের সঙ্গে গোপন সখ্য গড়ে তোলায় বিএনপি কোনো আন্দোলনে মাঠে নামতে পারেনি বলেও শোনা যাচ্ছে মুখে মুখে। ওই গ্র“পটি আন্দোলন-সংগ্রামে আগ্রহী নয়। তাদের দাবি সরকার পরিবর্তন হলে দেশের অন্যান্য আসনের মতো এ আসনেও পরিবর্তন ঘটবে। অবশ্য ভোলা-৩ আসনে বিএনপি মাঠে না থাকার আরেকটি বড় কারণ হল মেজর (অব.) হাফিজ এলাকায় না আসা। তিনি গত দুই বছর ধরে এলাকায় আসছেন না। এ কারণে নেতাকর্মীদের মাঝে তেমন মনোবল নেই বললেই চলে। তাছাড়া প্রায় অর্ধশত মামলায় জড়িয়েও বেকায়দায় রয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিএনপি-জামায়াত জোটের অবস্থান যা-ই থাকুক না কেন ২০১০ সালের উপনির্বাচনে মেজর (অব.) হাফিজকে পরাজিত করে এ আসনে শক্ত আসন গেঁড়ে বসতে শুরু করেছেন এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন। কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাওনকে পেয়ে আ’লীগের অবস্থারও পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। যদিও ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হতে লবিং করেও মনোনয়ন পাননি। তখন মনোনয়ন দেয়া হয় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জসিম উদ্দিনকে। ওই নির্বাচনে ১৩ হাজার ৩৬৬ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজকে হারিয়ে এমপি হন মেজর (অব.) জসিম উদ্দিন। মেজর (অব.) জসিম পান ৯৬ হাজার ৪৮৪ ভোট এবং মেজর (অব.) হাফিজ পান ৮৩ হাজার ১১৮ ভোট। দেড় বছরের মাথায় আরপিও জটিলতায় তার সংসদ সদস্যপদ হারালে ২০১০ সালের উপনির্বাচনে মনোনয়ন পান নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন। উপনির্বাচনেও মেজর (অব.) হাফিজকে হারিয়ে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এমপি নির্বাচিত হন। এবার দশম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের নির্বাচনী উত্তাপ না থাকলেও নির্বাচনী মাঠে সরব আছে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এ দলের ২০০১ সালের নির্বাচন থেকে এ আসনে মনোনয়ন পেয়ে আসছেন অ্যাডভোকেট একেএম নজরুল ইসলাম মিয়া। ২৯ নভেম্বর জাতীয় পার্টির ২৯৯ জন প্রার্থী তালিকায় ভোলা-৩ আসনে এবারও অ্যাডভোকেট একেএম নজরুল ইসলাম মিয়ার নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু একই দিন রাত ৯টায় এ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়নপত্র হাতে পেয়েছেন বলে জানান উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোঃ আলমগীর মিয়া। অন্যদিকে নির্বাচনে না এলেও প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন চরমোনাই পীর সাহেবের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ আসন থেকে এর আগে মাওলানা নুরুল ইসলাম হাত পাখা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করলেও এবার নতুন প্রার্থী মাওলানা মোসলেহউদ্দিনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।



সাবমিট

মাঠে নেই বিএনপি : ফুরফুরে মেজাজে শাওন সমর্থকরা

 মোঃ জসিম জনি, লালমোহন থেকে 
০২ ডিসেম্বর ২০১৩, ১২:০০ এএম  | 
ভোলা-৩ নির্বাচনী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে ফুরফুরে মেজাজে আছেন এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন সমর্থকরা। শাওনের মনোনয়ন পাওয়ার পর লালমোহন পৌরশহর থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়েও আনন্দ মিছিল করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নেতাকর্মীরা। ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় আ’লীগের মনোনয়ন পাওয়ার পর ৩০ নভেম্বর সকালে লালমোহন নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করা হয়েছে। শাওনের পক্ষ থেকে বাজারের ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার মোঃ ফজলুল হক এ ফরম ক্রয় করেন। এদিকে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেও এ আসনে মাঠে নেই বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের কেউ। দুই উপজেলায় যেন শূন্য হয়ে গেছে বিএনপি। অথচ ভোলা-৩ আসনটি ২০০৮-এর নির্বাচনের আগে দখলে ছিল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের। তিনি পরপর ৬ বার এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। ২০০৮-এর নির্বাচন ও ২০১০ সালের উপনির্বাচনে পরাজয়ের পর বিএনপি-জামায়াত জোট অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এ আসনে। যার কারণে এ পর্যন্ত সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলনে মাঠে নামেনি বিএনপি ও জামায়াতের কেউ। এ পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে যত হরতাল এবং অবরোধ দেয়া হয়েছে তা একদিনের জন্যও পালন করতে পারেনি লালমোহন ও তজুমুদ্দিন উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে বিএনপির একটি গ্র“প আ’লীগের সঙ্গে গোপন সখ্য গড়ে তোলায় বিএনপি কোনো আন্দোলনে মাঠে নামতে পারেনি বলেও শোনা যাচ্ছে মুখে মুখে। ওই গ্র“পটি আন্দোলন-সংগ্রামে আগ্রহী নয়। তাদের দাবি সরকার পরিবর্তন হলে দেশের অন্যান্য আসনের মতো এ আসনেও পরিবর্তন ঘটবে। অবশ্য ভোলা-৩ আসনে বিএনপি মাঠে না থাকার আরেকটি বড় কারণ হল মেজর (অব.) হাফিজ এলাকায় না আসা। তিনি গত দুই বছর ধরে এলাকায় আসছেন না। এ কারণে নেতাকর্মীদের মাঝে তেমন মনোবল নেই বললেই চলে। তাছাড়া প্রায় অর্ধশত মামলায় জড়িয়েও বেকায়দায় রয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিএনপি-জামায়াত জোটের অবস্থান যা-ই থাকুক না কেন ২০১০ সালের উপনির্বাচনে মেজর (অব.) হাফিজকে পরাজিত করে এ আসনে শক্ত আসন গেঁড়ে বসতে শুরু করেছেন এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন। কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাওনকে পেয়ে আ’লীগের অবস্থারও পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। যদিও ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হতে লবিং করেও মনোনয়ন পাননি। তখন মনোনয়ন দেয়া হয় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জসিম উদ্দিনকে। ওই নির্বাচনে ১৩ হাজার ৩৬৬ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজকে হারিয়ে এমপি হন মেজর (অব.) জসিম উদ্দিন। মেজর (অব.) জসিম পান ৯৬ হাজার ৪৮৪ ভোট এবং মেজর (অব.) হাফিজ পান ৮৩ হাজার ১১৮ ভোট। দেড় বছরের মাথায় আরপিও জটিলতায় তার সংসদ সদস্যপদ হারালে ২০১০ সালের উপনির্বাচনে মনোনয়ন পান নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন। উপনির্বাচনেও মেজর (অব.) হাফিজকে হারিয়ে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এমপি নির্বাচিত হন। এবার দশম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের নির্বাচনী উত্তাপ না থাকলেও নির্বাচনী মাঠে সরব আছে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এ দলের ২০০১ সালের নির্বাচন থেকে এ আসনে মনোনয়ন পেয়ে আসছেন অ্যাডভোকেট একেএম নজরুল ইসলাম মিয়া। ২৯ নভেম্বর জাতীয় পার্টির ২৯৯ জন প্রার্থী তালিকায় ভোলা-৩ আসনে এবারও অ্যাডভোকেট একেএম নজরুল ইসলাম মিয়ার নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু একই দিন রাত ৯টায় এ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়নপত্র হাতে পেয়েছেন বলে জানান উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোঃ আলমগীর মিয়া। অন্যদিকে নির্বাচনে না এলেও প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন চরমোনাই পীর সাহেবের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ আসন থেকে এর আগে মাওলানা নুরুল ইসলাম হাত পাখা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করলেও এবার নতুন প্রার্থী মাওলানা মোসলেহউদ্দিনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র