jugantor
আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা গঠনের দশ বছরেও নির্বাচন হয়নি
সীমানা নির্ধারণ নিয়ে মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পৌরসভাটির এখন হ-য-ব-র-ল অবস্থা

  সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন, হবিগঞ্জ থেকে  

৩০ জুন ২০১৪, ০০:০০:০০  | 

১০ বছর ধরে প্রশাসক দিয়েই চলছে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম। তাও আবার দফায় দফায় এর প্রশাসক বদল করা হয়েছে। সীমানা নির্ধারণ নিয়ে মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পৌরসভাটির এখন হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আরোপিত কর পরিশোধ করেও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌর এলাকার বাসিন্দারা। ফলে দিন দিন মানুষের মধ্যে হতাশা আর ক্ষোভ বাড়ছে। পৌর প্রশাসক মোঃ গোলাম ফারুক বলেন, নয়ানগর গ্রামের জনৈক তৌহিদ আলী প্রতিষ্ঠালগ্নেই সীমানা নির্ধারণের জন্য আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। তার বাড়ি পৌর এলাকায় পড়লেও এর দাগ নং ইউনিয়নে কেটে নেয়া হয়েছে। এ অভিযোগ এনে তিনি এ মামলাটি করেছেন। তা বর্তমানে উচ্চ আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর য্যোতিষ কুড়ি নিজের ওয়ার্ডের কিছু অংশ ৯নং ওয়ার্ডে কেটে নেয়া হয়েছে বলে ইউএনও বরাবর একটি অভিযোগ করেন। এটিও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু উচ্চ আদালতের মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত এটির শুনানি করা সম্ভব নয়। মামলা এবং অভিযোগ দুটির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এখানে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হচ্ছে না।

পৌরসভা সূত্র জানায়, ২০০৪ সালের ২১ জানুয়ারি ভাটি অঞ্চলের রাজধানী হিসেবে খ্যাত আজমিরীগঞ্জ উপজেলা সদরকে পৌরসভা ঘোষণা করে তৎকালীন সরকার। সাড়ে ৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ পৌর এলাকায় প্রায় ১৬ হাজার নাগরিক বসবাস করছে। এখানে ভোটার আছে সাড়ে ৯ হাজার। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর শুরুতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে এর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। একই বছরের ২১ নভেম্বর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম ফারুককে প্রশাসক পদে নিয়োগ দেয়া হয়। ক্রিমিনাল মামলা থাকায় ২০১২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে আবার ইউএনওকে এর দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রায় এক বছর পর ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই গোলাম ফারুককে আবারও প্রশাসক পদে নিয়োগ দেয়া হয়। পৌরসভা ঘোষণার দীর্ঘ ১০ বছর অতিবাহিত হলেও এর নিজস্ব কোনো ঠিকানা হয়নি। ইউএনওর কার্যালয়ে মাসে ৬ হাজার টাকা ভাড়ায় বিআরডিবির একটি ভবনে বসে চলে এর কার্যক্রম। এতে পৌর এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নাগরিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা। অথচ একই সঙ্গে গঠিত চুনারুঘাট পৌরসভায় নির্বাচন হয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে কার্যক্রম চালান হচ্ছে। পৌরবাসী জানান, উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় এখনও এ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হচ্ছে না। কবে নাগাদ এর সমাধান হবে তাও বলতে পারছেন না তারা। মামলা আর অভিযোগের বেড়াজালে আটকে থাকা এ পৌরসভার নির্বাচন আদৌ হবে কি-না তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।



সাবমিট

আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা গঠনের দশ বছরেও নির্বাচন হয়নি

সীমানা নির্ধারণ নিয়ে মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পৌরসভাটির এখন হ-য-ব-র-ল অবস্থা
 সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন, হবিগঞ্জ থেকে 
৩০ জুন ২০১৪, ১২:০০ এএম  | 
১০ বছর ধরে প্রশাসক দিয়েই চলছে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম। তাও আবার দফায় দফায় এর প্রশাসক বদল করা হয়েছে। সীমানা নির্ধারণ নিয়ে মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পৌরসভাটির এখন হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আরোপিত কর পরিশোধ করেও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌর এলাকার বাসিন্দারা। ফলে দিন দিন মানুষের মধ্যে হতাশা আর ক্ষোভ বাড়ছে। পৌর প্রশাসক মোঃ গোলাম ফারুক বলেন, নয়ানগর গ্রামের জনৈক তৌহিদ আলী প্রতিষ্ঠালগ্নেই সীমানা নির্ধারণের জন্য আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। তার বাড়ি পৌর এলাকায় পড়লেও এর দাগ নং ইউনিয়নে কেটে নেয়া হয়েছে। এ অভিযোগ এনে তিনি এ মামলাটি করেছেন। তা বর্তমানে উচ্চ আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর য্যোতিষ কুড়ি নিজের ওয়ার্ডের কিছু অংশ ৯নং ওয়ার্ডে কেটে নেয়া হয়েছে বলে ইউএনও বরাবর একটি অভিযোগ করেন। এটিও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু উচ্চ আদালতের মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত এটির শুনানি করা সম্ভব নয়। মামলা এবং অভিযোগ দুটির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এখানে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হচ্ছে না।

পৌরসভা সূত্র জানায়, ২০০৪ সালের ২১ জানুয়ারি ভাটি অঞ্চলের রাজধানী হিসেবে খ্যাত আজমিরীগঞ্জ উপজেলা সদরকে পৌরসভা ঘোষণা করে তৎকালীন সরকার। সাড়ে ৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ পৌর এলাকায় প্রায় ১৬ হাজার নাগরিক বসবাস করছে। এখানে ভোটার আছে সাড়ে ৯ হাজার। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর শুরুতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে এর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। একই বছরের ২১ নভেম্বর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম ফারুককে প্রশাসক পদে নিয়োগ দেয়া হয়। ক্রিমিনাল মামলা থাকায় ২০১২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে আবার ইউএনওকে এর দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রায় এক বছর পর ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই গোলাম ফারুককে আবারও প্রশাসক পদে নিয়োগ দেয়া হয়। পৌরসভা ঘোষণার দীর্ঘ ১০ বছর অতিবাহিত হলেও এর নিজস্ব কোনো ঠিকানা হয়নি। ইউএনওর কার্যালয়ে মাসে ৬ হাজার টাকা ভাড়ায় বিআরডিবির একটি ভবনে বসে চলে এর কার্যক্রম। এতে পৌর এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নাগরিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা। অথচ একই সঙ্গে গঠিত চুনারুঘাট পৌরসভায় নির্বাচন হয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে কার্যক্রম চালান হচ্ছে। পৌরবাসী জানান, উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় এখনও এ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হচ্ছে না। কবে নাগাদ এর সমাধান হবে তাও বলতে পারছেন না তারা। মামলা আর অভিযোগের বেড়াজালে আটকে থাকা এ পৌরসভার নির্বাচন আদৌ হবে কি-না তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র