jugantor
বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না যশোর ছাত্রলীগের

  ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর ব্যুরো  

০৫ আগস্ট ২০১৪, ০০:০০:০০  | 

বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না যশোর জেলা ছাত্রলীগের। কমিটি গঠনের পর থেকে নেতারা নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। কমিটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে খুন, ট্রাক চুরি, চাঁদাবাজি, অপহরণ, সন্ত্রাসসহ নানা অপরাধের অভিযোগ উঠছে একের পর এক। কতিপয় নেতার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সংগঠনের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সর্বশেষ ১৪ জুলাই যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাইমুল ইসলাম রিয়াদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৮ ছাত্রলীগ নেতাকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর ছাত্রলীগ নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজে জড়িত থাকার অভিযোগে দু’জন সহ-সভাপতি, একজন যুগ্ম সম্পাদক ও উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদককে গ্রেফতারও করে পুলিশ। অপরদিকে সভাপতিকে নিয়ে ইতিপূর্বে নানা অভিযোগে মামলা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ছাত্রলীগে মহাসংকটের সৃষ্টি করেছে। দ্বিধা বিভক্তির কারণে এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারছে না সংগঠনটি।

সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে ৯ জুলাই ১৫ সদস্য বিশিষ্ট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়। এরপর ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ১১৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কমিটিতে এক ঝাঁক নতুন নেতৃত্ব আসায় ব্যাপক সাড়া পড়ে তৃণমূলে। কিন্তু বিশাল কমিটির কতিপয় নেতার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ছাত্রলীগকে প্রশ্নবানে জর্জরিত করেছে। চলতি বছরের ১৪ জুলাই যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাইমুল ইসলাম রিয়াদ খুনের ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল, যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৮ ছাত্রলীগ নেতাকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল ও যবিপ্রবি ছাত্রলীগ নেতারা সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ছাত্রলীগ নেতাদের ফাঁসানো হচ্ছে। মামলার প্রতিবাদে ছাত্রলীগ ৬টি থানা ঘেরাও, প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। এ ঘটনায় নিহত নাইমুল ইসলাম রিয়াদের বাবা কাজী মনিরুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে নোংরা রাজনীতির শিকার হয়েছে। আমি খুনিদের বিচার চাই।’ চলতি বছরের ২৮ মার্চ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে কুয়াকাটা পিকনিকে যাওয়ার পথে বরিশালের বাকেরগঞ্জে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সাকুরা পরিবহনের হেলপার নিহত হন। জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতাসহ ৩৩ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের তদবিরে তারা ছাড়া পান। এরপর ৪ এপ্রিল জেলা ছাত্রলীগের উপ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক হাফিজুর রহমানকে পায়ে গুলি করে আটক করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, হাফিজুর একজন চিহ্নিত ছিনতাইকারী। তাকে আটক করতে গিয়ে বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে।



সাবমিট

বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না যশোর ছাত্রলীগের

 ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর ব্যুরো 
০৫ আগস্ট ২০১৪, ১২:০০ এএম  | 
বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না যশোর জেলা ছাত্রলীগের। কমিটি গঠনের পর থেকে নেতারা নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। কমিটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে খুন, ট্রাক চুরি, চাঁদাবাজি, অপহরণ, সন্ত্রাসসহ নানা অপরাধের অভিযোগ উঠছে একের পর এক। কতিপয় নেতার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সংগঠনের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সর্বশেষ ১৪ জুলাই যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাইমুল ইসলাম রিয়াদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৮ ছাত্রলীগ নেতাকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর ছাত্রলীগ নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজে জড়িত থাকার অভিযোগে দু’জন সহ-সভাপতি, একজন যুগ্ম সম্পাদক ও উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদককে গ্রেফতারও করে পুলিশ। অপরদিকে সভাপতিকে নিয়ে ইতিপূর্বে নানা অভিযোগে মামলা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ছাত্রলীগে মহাসংকটের সৃষ্টি করেছে। দ্বিধা বিভক্তির কারণে এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারছে না সংগঠনটি।

সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে ৯ জুলাই ১৫ সদস্য বিশিষ্ট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়। এরপর ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ১১৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কমিটিতে এক ঝাঁক নতুন নেতৃত্ব আসায় ব্যাপক সাড়া পড়ে তৃণমূলে। কিন্তু বিশাল কমিটির কতিপয় নেতার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ছাত্রলীগকে প্রশ্নবানে জর্জরিত করেছে। চলতি বছরের ১৪ জুলাই যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাইমুল ইসলাম রিয়াদ খুনের ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল, যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৮ ছাত্রলীগ নেতাকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল ও যবিপ্রবি ছাত্রলীগ নেতারা সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ছাত্রলীগ নেতাদের ফাঁসানো হচ্ছে। মামলার প্রতিবাদে ছাত্রলীগ ৬টি থানা ঘেরাও, প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। এ ঘটনায় নিহত নাইমুল ইসলাম রিয়াদের বাবা কাজী মনিরুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে নোংরা রাজনীতির শিকার হয়েছে। আমি খুনিদের বিচার চাই।’ চলতি বছরের ২৮ মার্চ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে কুয়াকাটা পিকনিকে যাওয়ার পথে বরিশালের বাকেরগঞ্জে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সাকুরা পরিবহনের হেলপার নিহত হন। জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতাসহ ৩৩ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের তদবিরে তারা ছাড়া পান। এরপর ৪ এপ্রিল জেলা ছাত্রলীগের উপ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক হাফিজুর রহমানকে পায়ে গুলি করে আটক করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, হাফিজুর একজন চিহ্নিত ছিনতাইকারী। তাকে আটক করতে গিয়ে বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র