¦
লক্ষ্মীপুরের সড়ক মহাসড়কে সন্ধ্যা নামলেই আতংক

আবুল কালাম আজাদ, লক্ষ্মীপুর থেকে | প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

সন্ধ্যা নামলেই লক্ষ্মীপুরে যানবাহনে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ, ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ ও ছিনতাইকারীদের কারণে সড়কগুলো ভয়ংকর হয়ে ওঠে। পুলিশ পাহারায় যানবাহনের বহরে বোমা হামলার ঘটনাও ঘটছে। বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের টানা হরতাল-অবরোধ কর্মসূচির কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে আইনশৃংখল বাহিনীর টহল জোরদার থাকলেও প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন সড়কে পোড়ানো হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন। এ জেলায় ৫ দিনের ব্যবধানে পেট্রল ও হাত বোমা নিক্ষেপে দুই চালক ও এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ঝলসে গেছে বেশ কয়েকজনের শরীর।
মৃত্যুর যন্ত্রণায় হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে তারা। একের পর এক হামলার ঘটনায় মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টরা চরম আতংকে সড়কে যানবাহন বের করছে না। দিনে হাতেগোনা কয়েকটি যানবাহন ছেড়ে গেলে তাতে আশানুরুপ যাত্রী মিলছে না। এ অবস্থায় সড়কে নাশকতার ঘটনায় প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের পাশাপাশি উদ্বিগ্ন খোদ বিএনপিও। অন্যদিকে হরতাল-অবরোধের সুযোগে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ-রায়পুর সড়কের সীমানা, সিংহেরপুল, ল্যাড়া বাজার ও রায়পুর-লক্ষ্মীপুর সড়কের রাখালিয়া, সিকদার রাস্তার মাথাসহ কয়েকটি স্থানে প্রায় রাতেই যাত্রীদের কাছ থেকে সর্বস্ব হাতিয়ে নিচ্ছে ছিনতাইকারীরা। কেউ বাড়ি বাড়ি করলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। কয়েক মাস আগে চাঁদপুর থেকে লক্ষ্মীপুরে আসার পথে সিকদার রাস্তা এলাকায় জেলা প্রশাসক একে এম টিপু সুলতানের গাড়ি থামিয়ে ছিনতাইকারীরা টাকা, মালামাল ও মোবাইল ফোন সেট নিয়ে যায়। এ সময় তার এক স্টাফকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ ঘটনায় তখন থানায় মামলাও হয়েছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা জানায়, লক্ষ্মীপুর পুলিশ লাইনের অদূরে বাদামতলী এলাকায় ৩ ফেব্র“য়ারি রাত আটটার দিকে মালবোঝাই পিকআপ ভ্যানে দুর্বৃত্তরা বোমা হামলা করে। পিকআপটি নোয়াখালীর চৌমুহনী থেকে মাল নিয়ে লক্ষ্মীপুরে আসছিল। এতে চালক কামাল হোসেনসহ (২৮) তিনজন আহত হয়। পরদিন ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কামাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) নেয়ার পথে মারা যায়। ২ ফেব্র“য়ারি রাত আটটার দিকে মজু চৌধুরীর হাট থেকে লক্ষ্মীপুরে আসার পথে মহিলা কলেজের সামনে সড়কে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় দুর্বৃত্তরা পেট্রলবোমা ছুড়ে। এতে তিনযাত্রীর শরীর ঝলসে যায়। রাতেই ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যায় দিনমজুর লিটন (৩৫)। তিনি বালু মহালের কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। এর আগে ৩০ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী সড়কের মান্দারীর কাছিদ বাড়ির সামনে চট্টগ্রামগামী চলন্ত আশিক পরিবহনে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে। এ সময় চালক নুরে আলম সুমন (৩৫) মাথায় গুরুতর জখম ও কয়েক যাত্রী আহত হয়। নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সুমন মারা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা সদর, চন্দ্রগঞ্জ, রায়পুর, রামগঞ্জ, কমলনগর ও রামগতির সড়কে প্রতিদিনই ট্রাক, বাস, পিকআপভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। হরতাল-অবরোধকারীরা নাশকতার জন্য সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত সময়কেই বেশি বেছে নেয়। ২ ফেব্র“য়ারি সকালে রায়পুরের ফিস হ্যাচারীর সামনে সড়কে কয়েকটি অটোরিকশা ভাংচুরের সময় শিবির নেতা নাজিম উদ্দিনকে (২৫) পুলিশ আটক করে। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। ৩১ জানুয়ারি ভোরে সদরের পোদ্দার বাজার সড়কে একটি সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকে অগ্নিসংযোগ ও ৪টি অটোরিকশা পুড়িয়ে দেয়া হয়। এর আগে ওই সড়কে সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক ও কয়েকটি অটোরিকশায় অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করা হয়। ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় রায়পুরের বর্ডার এলাকায় চাঁদপুরগামী যাত্রীদের নামিয়ে একটি অটোরিকশায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। ওই দিন রাত একটার দিকে ওই সড়কের ল্যাংড়া বাজার এলাকায় একটি পিকআপভ্যানে পেট্রল ঢেলে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। ২৭ জানুয়ারি রাতে নাশকতার প্রস্তুতিকালে রামগঞ্জের ভাটিয়ালপুর থেকে ককটেলসহ দুই ছাত্রদল কর্মীকে জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। ২১ জানুয়ারি দুপুরে প্রকাশ্যে রায়পুর থানার সামনে সড়কে দাঁড় করিয়ে রাখ ৮টি অটোরিকশা ভাংচুর করে মুখোশধারী শিবিরকর্মীরা। ১৫ জানুয়ারি রাতে পুলিশ পাহারায় ঢাকা যাওয়ার পথে লক্ষ্মীপুরের জকসিন এলাকায় পণ্যবাহী যাবাহনের বহরে দুর্র্বৃত্তরা ককটেল হামলায় এক ট্রাক চালকসহ ৪ জন আহত হয়।
বাংলার মুখ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close