¦
কুমিল্লায় ৩৬ নাশকতামূলক ঘটনায় গ্রেফতার ৫শ

নজরুল ইসলাম দুলাল, কুমিল্লা ব্যুরো | প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

কুমিল্লায় নাশকতার ৩৬টি ঘটনায় দায়ের করা ৩৭টি মামলায় ৫ জানুয়ারি থেকে শনিবার পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী ও সন্দেহভাজনসহ প্রায় ৫শ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব মামলায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনসহ জামায়াত-শিবিরের প্রায় ২ হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে আইনশৃংখলা বাহিনীর কড়া পাহারায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের তুলনায় মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান অধিকমাত্রায় চলাচল করছে। তবে সীমিতভাবে চলাচলকারী বাসের যাত্রীরা আতংকের মাঝেই যাতায়াত করছেন। এছাড়া হরতাল-অবরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ৫ শতাধিক নেতাকর্মী গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। জানা গেছে, ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বিএনপি-জামায়াতসহ ২০ দলের টানা অবরোধ ও দফায় দফায় হরতাল কর্মসূচি পালনকালে কুমিল্লার সদর উপজেলার আলেখারচর, ঝাগুরঝুলি, নোয়াপাড়া, শাসনগাছা, কান্দিরপাড়, ভিক্টোরিয়া কলেজ রোড, কাপড়িয়াপট্টি, সদর দক্ষিণের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, শ্রীভল্লবপুর, মাটিয়ারা, চান্দিনার বাগুর, নূরীতলা, বুড়িচংয়ের কাবিলা, কালাকচুয়া, দাউদকান্দির মধ্যরামপুর, চৌদ্দগ্রাম বাজার, হায়দারপুল, দৌলবাড়ী, বাতিশা, মিয়াবাজার, মনোহরগঞ্জের নাথেরপেটুয়া পুরান বাজার, বরুড়ার শমেষপুর, চেঙ্গাহাটা, লাকসামের সিলোনিয়া, মিশ্রি, দেবিদ্বারের ছোট আলমপুর, নাঙ্গলকোটের তুঘুরিয়াসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক, কুমিল্লা-চাঁদপুর-লাকসাম-বরুড়াসহ আঞ্চলিক সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের নাঙ্গলকোট এলাকায় অন্তত ৩৬টি নাশকতার ঘটনায় গত ১ মাসে কমপক্ষে ৫ শতাধিক যানবাহন ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, ককটেল ও পেট্রলবোমা নিক্ষেপ এবং রেললাইন উৎপাটন করে ট্রেনের ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১ মাসে ৭৯৭ জনকে এজাহারনামীয় ও ১ হাজার ১২০ জনকে অজ্ঞাতনামাসহ ১ হাজার ৯১৭ জনকে আসামি করে ৩৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে কোতোয়ালি মডেল থানায় ১১টি, চৌদ্দগ্রাম থানায় ৯টি, মনোহরগঞ্জ থানায় ২টি, বরুড়া থানায় ২টি, লাকসাম থানায় ২টি, দেবিদ্বার থানায় ২টি, চান্দিনা থানায় ২টি, সদর দক্ষিণ থানায় ২টি, দাউদকান্দি থানায় ১টি, বুড়িচং থানায় ২টি ও নাঙ্গলকোট থানায় ১টিসহ ৩৬টি মামলা রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার সংলগ্ন জগমোহনপুরে সবচেয়ে বড় সহিংসতার ঘটনাটি ঘটে। ৩ ফেব্র“য়ারি ভোর রাতে কক্সবাজার থেকে ঢাকা অভিমুখী আইকন পরিবহনের যাত্রীবাহী নৈশকোচে দুর্বৃত্তদের পেট্রলবোমা হামলায় ৮ জন ঘুমন্ত বাসযাত্রী আগুনে পুড়ে মারা যান। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারনামীয় ২ আসামি চৌদ্দগ্রামের শিবির নেতা শাহাব উদ্দিন পাটোয়ারি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় এবং অপর আসামি জগমোহনপুর গ্রামের বাবুল মিয়ার পুত্র সন্ত্রাসী সোহেল দাউদকান্দিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। এছাড়া জেলার সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবিসহ যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে ৫ জানুয়ারি থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনেরসহ জামায়াত-শিবিরের ৪৮৭ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বেতাগাঁও এলাকায় ৯ জানুয়ারি গভীর রাতে রেল লাইনের ফিশপ্লেট খুলে প্রায় ৩ ফুট রেললাইন কেটে ফেলায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রাম অভিমুখী যাত্রীবাহী মহানগর গোধূলী এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এ ঘটনায় রেলওয়ের লাকসাম থানায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে নাশকতা ও অর্থ যোগান দেয়ার অভিযোগে ডা. ফজলুর রহমান মজুমদার, অধ্যাপক মোজাফফর, ডা. জহিরুল আলম, জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর মো. আমিনুল হক মাস্টারসহ জামায়াত-শিবিরের ৩১ জনকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। জেলা ডিবির ওসি মঞ্জুর আলম জানান, জেলা বিএনপি-জামায়াতের ৫ শতাধিক নেতাকর্মী ডিবি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। নাশকতা ও নাশকতায় অর্থ জোগানদাতা চিহ্নিত করে এদের অনেককে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নাশকতা প্রতিরোধে জেলার সব এলাকায় অভিযান অব্যাহত আছে। এসব বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী জানান, মহাসড়ক ও রেলপথসহ আঞ্চলিক সড়কগুলোতে আইনশৃংখলা বাহিনীর টহলের পাশাপাশি আনসারদের পালাবদল করে টহল জোরদারসহ নাশকতাকারীদের গ্রেফতার করায় নাশকতা কমে এসেছে।
বাংলার মুখ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close