¦

এইমাত্র পাওয়া

  • বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পার্শ্বে কোনাবাড়ি এলাকায় বাসে পেট্রোল বোমা হামলা: ৬ যাত্রী দগ্ধ ২ জনের অবস্থা আশংকাজনক
অর্থ ভাগাভাগিতে ব্যস্ত শিক্ষকরা

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি | প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বর ইসলামিয়া হাইস্কুল অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। চলছে অদক্ষ শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষকরা স্কুলের জমি ও মার্কেটের ভাড়া ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির লোকজনের উদাসীনতার কারণে প্রতিবছর স্কুলে শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিুমুখী হচ্ছে।
স্কুল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বানেশ্বর ইসলামিয়া হাইস্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও বানেশ্বর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ওরফে ডিস কালাম এবং প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান গত কয়েক বছরে স্কুলটিতে পাঠদানের পরিবর্তে দুর্নীতির আখড়া হিসেবে গড়ে তুলেছেন। স্কুলের উন্নয়ন তাহবিলের লাখ লাখ টাকা এবং স্কুলের নামে প্রায় ৮ একর জমি লিজ দিয়ে গত তিন বছরে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বানেশ্বর ট্রাফিক মোড়ে স্কুলের প্রায় ১৫০টি দোকান ঘর রয়েছে। এগুলো থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা ভাড়া বাবদ আদায় হয়। নামমাত্র অংশ স্কুলের ফান্ডে জমা করা হয়। বাকি টাকা ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও শিক্ষকরা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকরা ছাত্রদের পাঠদানে মনোযোগ না দেয়ায় আগের তুলনায় স্কুলটির ফলাফল ভালো হচ্ছে না বলে এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা অভিযোগ তুলেছে। এ সব অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে গত কয়েক বছর ধরে জেএসসি-এসএসসি পরিক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় হয়েছে বলে অনেক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিভাবকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। স্কুলের সাবেক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবদুল সাত্তার শেখ যুগান্তরকে জানান, আমি স্কুলের সভাপতির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছিল। আমার সময় ছাত্র ও শিক্ষকদের পাঠদানের বিষয়ে কোনো ছাড় দেয়া হতো না। এর ফলে প্রতিবছর ছাত্রদের ফলাফলও অনেক ভালো হয়েছিল। আমি দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার সময় স্কুল ফান্ডে সাড়ে চার লাখ টাকা জমা রেখেছিলাম। এরপর স্কুলের কোনো উন্নয়নও হয়নি বরং জমানো টাকার কোনো হদিস নেই। বর্তমানে স্কুলে পাঠদান দেখার মতো কেউ না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক এবং সভাপতি স্কুলে শিক্ষার পরিবর্তে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ফায়দা লুটের প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান স্কুলের জমির লিজ ও মার্কেটের টাকা শিক্ষকরা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন আমাদের বেতন-ভাতা অল্প হওয়ায় ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন নিয়ে কিছু টাকা শিক্ষকরা নেয়। আর কিছু টাকা স্কুলের উন্নয়ন কাজে ব্যয় হয়েছে। স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ওরফে ডিস কালামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হাবিবুর রহমান যুগান্তরকে জানান, বানেশ্বর ইসলামিয়া হাইস্কুলের অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে লোকমুখে শুনেছি। তবে রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি জানান।
বাংলার মুখ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close