¦
মুখ থুবড়ে পড়েছে দেড়শ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ

গোলাম মাওলা আকন্দ, মাদারীপুর থেকে | প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

মাদারীপুর গণপূর্ত বিভাগের প্রায় দেড়শ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ দেখভালের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে। ফলে এসব কাজের গুণগত মান নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। কাজ চলছে মন্থর গতিতে। সময়মতো এসব প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। ঠিকাদারদের অভিযোগ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) পদে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার না থাকার কারণেই এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন রাজৈর থানা ভবন নির্মাণ প্রকল্প, কালকিনি থানা ভবন নির্মাণ প্রকল্প, ডাসার থানা ভবন নির্মাণ, দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, খাশেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, ভদ্রাসন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, শিবচর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ, শিবচর হাইওয়ে আউট পোস্ট নির্মাণ, মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ, মাদারীপুর জেলা কারাগার নির্মাণ, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হোস্টেল নির্মাণ, জেলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ, পুলিশ লাইনের বিদ্যমান ৩০০ নারী ফোর্সের ব্যারাক ভবনের ৪র্থ তলা নির্মাণ, জেলা আনসার ভিডিপি সদর দফতর নির্মাণ কাজগুলো চলমান। এসব কাজের জন্য বরাদ্দ আছে ১৪০ কোটি টাকা। এছাড়াও বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার কাজের আওতাভুক্ত ১০টি বদ্ধভূমি, চিপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ভবন, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সরকারি বহুতল অফিস ভবন, পাসপোর্ট অফিস ভবন, টেকেরহাট নদীর পাড় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদ্বয়ের বাসভবন নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে ৩৪ কোটি ৩৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ব্যয়ে মাদারীপুর জেলা কারাগার নির্মাণের কাজ নানা কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে। গণপূর্ত বিভাগ ২০১১ সালে ৩টি জেলা কারাগারের অবকাঠামো নির্মাণ এবং দুটি জেলা কারাগারের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় মাদারীপুর জেলা কারাগার নির্মাণ কাজ হাতে নেয়। ৭ বছরে অর্থাৎ ২০১৮ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ করার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণের পর ২০১১ সালে প্রাথমিকভাবে অবকাঠামো নির্মাণ কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদাররা বিভিন্ন প্যাকেজে কাজ শুরু করে। প্রকল্পের মধ্যে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন কয়েদি ব্যারাক (পুরুষ) নির্মাণ কাজের ঠিকাদার ৪০ ভাগ কাজ করার পর কাজ স্থগিত করে ফেলে রাখে। পরবর্তীতে ঠিকাদারের চুক্তি বাতিল করে বর্তমান অর্থবছরে পুনঃটেন্ডার আহ্বান করা হলেও ঠিকাদার এখনও কাজ শুরু করেনি। এছাড়া বর্তমান অর্থবছরে প্রিজনর্স ওয়ার্কশেড, মহিলা কয়েদি ব্যারাক, কিশোর কয়েদি ব্যারাক, ওয়ডার্স ব্যারাক ও আসামি সেল নির্মাণের জন্যও টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে, তবে এসব কাজও শুরু হয়নি। বর্তমানে শুধু আরসিসি সীমানা প্রাচীরের ৯০ ভাগ কাজ শেষ করার পর রঙের কাজ ও ভূমি উন্নয়ন কাজ চলছে। এরই মধ্যে ভূমি উন্নয়নের ৬৭ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এভাবে কাজ চললে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ার আশংকা রয়েছে বলে প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে।
অপর অন্যান্য উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানা গেছে, চলমান কাজগুলো ঠিকাদাররা কার্যাদেশ পেয়ে কাজ শুরু করেন। কাজ দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল)। তিনি ২ মাস আগে অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ায় এ কাজ দেখাশোনার দায়িত্ব দেয়া হয় উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে (ইএম)। বিধান রয়েছে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার পদায়ন না হলে সেখানে পার্শ্ববর্তী জেলার সিভিল ইঞ্জিনিয়ারকে পদায়ন করতে হয়। না পাওয়া গেলে সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র উপসহকারী প্রকৌশলীকে (সিভিল) দায়িত্ব দেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু এ নিয়ম ভঙ্গ করে সেখানে দেয়া হয়েছে একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারকে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের অভাবে চলমান প্রকল্পের কাজগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে। এ কারণেই প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চলমান কাজের একাধিক ঠিকাদার বলেন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) না থাকার কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পেতে বিলম্ব হচ্ছে। যে কারণে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হওয়ার আশংকা রয়েছে।
এ ব্যাপারে মাদারীপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল বলেন, বিষয়টি প্রধান প্রকৌশলী জানেন। একজনকে পদায়ন করা হয়েছিল কিন্তু পরে স্থাগিত করা হয়েছে। যাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তিনি তো একজন ইঞ্জিনিয়ার এ ব্যাপারে কম বেশি তিনি কিছু জানেন। তাছাড়া আমি নিজেও তদারকি করি। উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) চেয়ে আমরা চিঠি দিয়েছি।
 

বাংলার মুখ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close