¦
পঞ্চগড়ে সার কীটনাশক বীজের মূল্যবৃদ্ধি

এসএ মাহমুদ সেলিম,পঞ্চগড় থেকে | প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

হরতাল অবরোধের রেশ ধরে কতিপয় অসাধু সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী কৃষি পণ্য সরবরাহে প্রতিকূলতার অজুহাত দেখিয়ে পঞ্চগড় জেলার ৫টি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে কৃষি উপকরণ যথা সার, কীটনাশক ও বীজের দাম বাড়িয়ে দেয়ায় পঞ্চগড় জেলায় চলতি রবি মৌসুম অর্থাৎ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। অপরদিকে অনেক কৃষক ধার দেনা করে বাড়তি অর্থ জোগাড় করে বোরো আবাদ করতে বাধ্য হওয়ায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। এদিকে এলাকার সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে জেলার প্রত্যেকটি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন খুচরা দোকানগুলোতে অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রতি বস্তা ৫০ কেজি ইউরিয়া সারের দাম ৮শ টাকা থেকে ৯শ টাকা এমনকি ১ হাজার টাকাও বিক্রি করছেন। এছাড়া টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সারসহ অন্যান্য কীটনাশকের মূল্য একইভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে কৃষকরা বাড়তি মূল্যে সার বীজ কীটনাশক কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। এতে তারা সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই বোরো ধান আবাদের চেয়ে অন্য আবাদের কথা চিন্তা করছেন। এদিকে, এমনিতে হরতাল অবরোধের কারণে অনেক কৃষক তাদের রক্ষিত ধান/চালও বিক্রি করতে পারছেন না। এমতাবস্থায় কৃষির জন্য বাড়তি অর্থ জোগাড়ে এলাকার কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অবশ্য পঞ্চগড় কৃষি সম্পসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সম আশরাফ আলী পঞ্চগড় জেলায় পর্যাপ্ত সার মজুত আছে, কোনো সার সংকট নেই, সরবরাহও ভালোভাবে চলছে, মনিটরিং ব্যবস্থাও ভালো- এমনটা দাবি করলেও মাঠপর্যায়ে কৃষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, হরতাল অবরোধে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে গ্রামাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা তাদের কাছে সার ও কীটনাশকের দাম বেশি নিচ্ছে। এদিকে, পঞ্চগড় জেলা সদরের সার ব্যবসায়ী সারোয়ার হরতাল অবরোধের কারণে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামাঞ্চলের হাটবাজারগুলোতে ইউরিয়া সারের বস্তা প্রতি অর্থ বেশি নেয়ার কথা অকপটে স্বীকার করেন। তবে কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের পর্যাপ্ত মনিটরিং এর অভাবেই তাদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। যাতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে পঞ্চগড় জেলার ৫টি উপজেলায় ৩৫ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়। যার সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৭৫৫ মেঃ টন। কিন্তু গত ১৭ ফেব্র“য়ারি/১৫ইং পর্যন্ত পঞ্চগড়ে মাত্র ২১ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগ অবশ্য আশা করছে যথাসম্ভব বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
বাংলার মুখ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close