¦
খালে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ বোরো ক্ষেত ফেটে চৌচির

আবদুর রাজ্জাক রাজা, কমলগঞ্জ থেকে | প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ও আদমপুর ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত লাউয়াছড়া খালের উজানে উপজেলা বাজার নামক স্থানে এক ইউপি চেয়ারম্যান অবৈধ ভাবে ক্রস দিয়েছেন। এতে পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় ভাটি অঞ্চলের ৬টি গ্রামের দেড়শ একর বোরো জমির আবাদ তীব্র সেচ সংকটে পড়েছে। পানি না দিতে পারায় অধিকাংশ রোপিত জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। আরও ১শ একর জমিতে বোরো আবাদ করা যাচ্ছে না। এলজিইডির দুইটি স্লুইস গেট থাকলেও কৃষকদের কোনো উপকারে আসছে না। কৃষকরা পানির জন্য হাহাকার করছেন। কয়েকজন কৃষকদের স্বার্থে পানি প্রবাহ বন্ধ করে ভাটি এলাকার শত শত কৃষকের সর্বনাশ করার অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। তারা অবিলম্বে বাঁধটি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, উপজেলার উজান হতে নেমে আসা লাউয়াছড়া খালটি ইসলামপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আলীনগর ইউনিয়নে মিলিত হয়েছে। প্রবাহিত খালটি থেকে সহজে পানি নিয়ে কৃষকরা জমিতে চাষাবাদ করতে পারেন সে জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ১ কোটি টাকা ব্যয়ে লাউয়াছড়া খালের আদমপুরের ছনগাঁও ও উত্তর ভানুবিল নামক স্থানে ২টি স্লুইস গেট নির্মাণ করে দিয়েছে। ফলে গত কয়েক বছর ধরে ভাটি এলাকার হোমেরজান, ভানুবিল, কোনাগাঁও, ঘোড়ামারা, তিলকপুর, মঙ্গলপুর, ছনগাঁও, নয়াপত্তনসহ ১০-১২টি গ্রামের কৃষকরা লাউয়াছড়ার খালের পানি ব্যবহার করে আউস, বোরো আবাদ করে আসছিলেন। কিন্তু বোরো আবাদ করতে গিয়ে এবার তারা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে পড়েছেন মহাবিপদে। স্লুইস গেট থাকা সত্ত্বেও পানিশূন্য খাল। খালে যা পানি ছিল তা দিয়ে তারা বীজ তলা তৈরি করে চারা রোপণ করেছিলেন। কিন্তু এখন জমিতে সেচ দেয়ার মতো কোনো পানি নেই। উজান থেকে পানি আসতে পারে সেই ভরসায় কৃষকরা আশার বুক বেঁধে ছিলেন তখনই কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্থানীয় আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাব্বির আহমেদ কর্তৃক অবৈধ একটি ক্রস বাঁধ। ক্রস বাঁধটি আদমপুরের উপজেলা বাজার নামক স্থানে ওই এলাকার কৃষকদের পানি ব্যবহারের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। প্রথম দিকে খালে কিছু পানি ছাড়লেও বর্তমানে পানি ছাড়ছেন না। প্রবাহমান খালে পানি আটকে দেয়ায় ওই ৬টি গ্রামের প্রায় দেড়শ একর জমি পানি সংকটে ভুগছে। প্রকট রোদে রোপিত জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। দুইটি স্লুইস গেট থাকলেও তা কৃষকদের কাজে লাগছে না বলে হোমেরজান গ্রামের কৃষক আবিদ আলী জানান। কৃষক করিম মিয়া, মন্নান মিয়া, আজিজ মিয়া বলেন, তাদের আরও বোরো চাষ করার ইচ্ছা ছিল কিন্তু সেচের কারণে আর চাষ করবেন না। এতে করে আরও ১শ একর জমি অনাবাদী অবস্থায় পড়ে থাকছে। কয়েকজন কৃষক নিজ উদ্যোগে রোপিত চারা জমিতে জলাশয় হতে পানি দিচ্ছেন। তারা আরও বলেন, ছড়ায় বাঁধ দেয়ার ফলে ছনগাঁও এলাকায় স্লুইসগেটেও পানি নেই। কৃষকরা পানির জন্য হাহাকার করছেন। জলাশয় অথবা পুুকুর হতে পানি আনার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। কৃষক আলকাছ মিয়া বলেন, বাঁধটি দ্রুত অপসারিত করা হলে সেচ সংকট কেটে যাবে। হোমেরজানের এক কৃষক বলেন, পানির বিষয়টি স্থানীয় মেম্বারকে জানালে তিনি বলেন, সব এলাকার কৃষক পানি পেতে হবে। লাউয়াছড়ার কৃষকদের মতো অবস্থা একই অবস্থা বিরাজ করছে উপজেলার পতনউষার, শমসেরনগর, মুন্সিবাজার ও আলীনগর ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে। পানির জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাব্বির আহমদ ভুইয়া খালে অবৈধ ভাবে বাঁধ দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমার এলাকার কৃষকদের কথা চিন্তা করে বাঁধ দিয়েছি। তিনি বলেন,বাঁধ দেয়ার কারণে বহু সংখ্যক মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। কিছু সংখ্যক মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে অপবাদ প্রচার করছেন। এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দীন আহমদ পানি সংকটের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ছড়াগুলোতে পানি না থাকায় সেচ দিতে কৃষকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
বাংলার মুখ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close