¦
তিস্তায় উপচে পড়ছে পানি

জাহেদুল ইসলাম জাহিদ, ডিমলা থেকে | প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৫

তিস্তার কমান্ড এলাকার সেচ ক্যানেলগুলোতে পানি উপচে পড়ছে। ফলে তিস্তা ব্যারাজের যে ৪৪টি কপাট বন্ধ রাখা হয়েছিল তা ২৪ ঘণ্টা খুলে রেখে নদীর পানি ভাটিতে ছেড়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ফলে নদীর পানি এখন তিস্তা ব্যারাজের উজান ও ভাটিতে স্রোতধারায় প্রবাহিত হচ্ছে। এতে পর্যান্ত সেচ পাচ্ছে নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুরের ৬৫ হাজার হেক্টর বোরো ক্ষেত। তিস্তা পলি মিশ্রিত সেচের পানি পেয়ে বোরো ক্ষেতগুলো লগলগ করে বেড়ে উঠছে। অন্যদিকে হঠাৎ পানি বাড়ায় তিস্তা চরের রবিশস্য ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শুক্রবার রাত থেকে উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। যা সোমবার প্রায় ৭ হাজার কিউসেকে প্রবাহিত হতে থাকে। তিস্তা সেচ প্রকল্পের ক্যানেলগুলোর প্রতিদিন পানির ধারণা ক্ষমতা ৫ হাজার কিউসেক। সেখানে নদীতে অতিরিক্ত পানি থাকায় সেই পানি তিস্তা ব্যারাজের ভাটির নদীতে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে শুকিয়ে যাওয়া তিস্তা নদী এখন পানিতে যেমন ভরে উঠছে তেমনি পর্যান্ত সেচ পাচ্ছে নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুরের ৬৫ হাজার হেক্টর বোরো ক্ষেত। নির্ভনযোগ্য সূত্র মতে, অচিরেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফলে আসছেন। এছাড়া ১৯ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী তিন দিনের বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। তিনি বাংলাদেশকে বলে গেছেন তার ওপর আস্থা রাখার জন্য। ফলে তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী নিজেই নিয়েছেন। সবাই আশা করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফরে এলে তিস্তার পানি চুক্তির সমাধান হবে। তিস্তা কমান্ড এলাকার সেচভুক্ত কৃষকরা বলছে এখন তিস্তা প্রকল্পের সেচের পানি রাখার স্থান নেই। এতো পানি এসেছে যা এর আগে পাওয়া যায়নি। এখন দিন রাত ২৪ ঘণ্টা বোরো ক্ষেতগুলো তিস্তার সেচের পানিতে ভরে থাকছে। তিস্তার পানি চুক্তি এ পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে না হলেও উজান থেকে বর্তমানে যে পানি আসছে তাতে তিস্তা নদী অনেকাংশে প্রাণ ফিরে পেয়েছে বলে তিস্তা পারের মানুষজন মনে করছেন। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে তিস্তার পানি কমতে কমতে ১০০ কিউসেকে পৌঁছেছিল। অথচ এ নদীতে স্বাভাবিকভাবে গড়ে পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার কিউসেক পানি থাকা প্রয়োজন। ২৩ ফেব্র“য়ারি থেকে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি কমতে শুরু করে। এ অবস্থা চলে ২ এপ্রিল পর্যন্ত। এদিকে হঠাৎ করে তিস্তার পানি হু-হু করে বৃদ্ধির বিষয়টি অবাক করে দিয়েছে তিস্তাপাড়ের মানুষজনকে। এই পানি খুব উপকারে আসছে। এখন বোরো ধানের শীষ ধরেছে। এই পানি পেয়ে ধানের ক্ষেতগুলো তরতাজা হয়ে উঠেছে। তিস্তার পলির পানি এবং ভূ-গর্ভের সেচের পানির মধ্যে ফারাক আছে। তিস্তায় পানি আসায় চলছে নৌকা। আর তিস্তাপাড়ের জেলেরা মনের আনন্দে মাছ ধরছে। অপর দিকে তিস্তার বিভিন্ন চরে রবিশস্য পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে পেঁয়াজ, মরিচ, ভুট্টাসহ রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিস্তা ব্যারাজের সেচ প্রকল্পের সম্প্রসারণ রাফিউল বারী জানান, বোরো আবাদের শুরুতে তিস্তা নদীতে পানি না থাকায় সেচের জন্য শুধু নীলফামারী জেলার ২৮ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে সেচ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে মাফিক রেশনিং করে সেচ দেয়া হচ্ছিল। এখন নদীতে উজান থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি আসছে নদীতে। ফলে লক্ষ্যমাত্রা ছেড়ে এখন ৬৫ হাজার হেক্টর জমি তিস্তা সেচ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে।
বাংলার মুখ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close